১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস যেই করুক সঙ্গে সঙ্গে এ্যাকশন নিন

  • ভিডিও কনফারেন্সে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কারও মুখের দিকে না তাকিয়ে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ভিডিও কনফারেন্সে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার সাজ্জাদুল হাসান ও পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসানের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বোধ হয় একটি সমস্যা দেখা দিয়েছে; এ সম্পর্কে পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে জানতে চাই। এখানে একটা নির্দেশ আমি দিতে চাই, যারাই এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করবে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস করবে, যে দলের হোক, কে কোন দলের সেটা দেখার কথা না, যারা এ ধরনের কর্মকা- করবে সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে হবে। সিলেটের পুলিশ কমিশনার প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, গত ২০ তারিখে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। মারামারিতে একজন ছেলে নিহত হয়। ঘটনার সময় নিয়ন্ত্রণ করেছি। তা না হলে হয়তো আরও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত। তিনি বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে বিশেষ অভিযানে ৩৩ জন গ্রেফতার করার পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বেশকিছু দেশী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কমিশনার বলেন, এ অভিযান অব্যাহত আছে। আশা করছি, যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পারব।

গত বৃহস্পতিবার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের গুলিতে সুমন চন্দ্র দাস (২২) নামে এক বহিরাগত ছাত্র নিহত হন, যিনি নিজেও একজন ছাত্রলীগ কর্মী। ওই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করতে বলে কর্তৃপক্ষ। পরদিন ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান দাবি করেন, সেদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতরা সংঘর্ষে জড়িয়েছে, তাতে ছাত্রলীগ জড়িত নয়।

প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে বলেনÑ আমি জানি যে, যারাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গ-গোল করুক, একটা পর্যায়ে দেখা গেছে সেখানে ছাত্রের চেয়ে অছাত্র বেশি, কিছু বহিরাগত, তারাও এর সঙ্গে জড়িত থাকে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, দোষীদের সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার ও উপযুক্ত শাস্তি দিলে তাৎক্ষণিকভাবে এসব ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও পুলিশ কমিশনারকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেনÑ এ ব্যাপারে কোন দিকে না তাকিয়ে, কারও মুখের দিকে না তাকিয়ে যথাযথভাবে ব্যবস্থা নেবেন এটাই আমরা চাই।

সিলেটের সঙ্গে আরেকদিন ভিডিও কনফারেন্স করবেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি চলমান থাকবে, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন স্বপ্ন নয়, বাস্তব। প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে চাই, বাংলাদেশের মানুষ ভাল থাকুক, সুখে থাকুক, উন্নত জীবন পাক- এটাই আমরা চাই।

সিলেট ছাড়াও রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ও পুলিশ কমিশনার এবং মৌলভীবাজার ও পাবনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সঙ্গেও ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ।

মৌলভীবাজার জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুরু করলাম, এরপর অন্যান্য বিষয় নিয়ে সবাই সব সময় তৈরি থাকবেন। আপনারা কে কী কাজ করছেন, সমস্ত ডাটা নিয়ে রেডি থাকবেন। যে কোন সময় বসব, কথা বলব এবং জিজ্ঞেস করবÑ যার যার এলাকায় কী কী কাজ হচ্ছে।

সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে ভিডিও কনফারেন্স শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ এ নির্বাচনে আমাদের ঘোষণা ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার। আজ তার প্রতিফলন ঘটেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবাদে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলতে পারছি। খোঁজ-খবর নিতে পারছি। মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেই প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স শুরু হলো। এ সময় তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে মৌলভীবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। ২০২১ সালের মধ্যেই দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আপনারা সকলে কাজ করবেন। আমরা আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে চাই। দেশের প্রত্যেক মানুষ উন্নত এবং সুন্দর জীবনযাপন করুক এটাই আমাদের কাম্য। এ সময় তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে আমি কথা বলব। আমাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কোন সমস্য থাকলে তার সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। জেলা প্রশাসকের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতিটি জেলার খাস-জমি খুঁজে বের করতে হবে। এই খাস জমিতে ভূমিহীনদের প্লট দেব। এ সময়ে মন্ত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রীরা তাঁদের দাফতরিক বিষয়েও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলতে পারেন।