১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজাকার মোবারকের ফাঁসি

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আরও এক যুদ্ধাপরাধীকে মৃত্যুদ-াদেশ প্রদান করা হয়েছে। গণহত্যাসহ অপহরণের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এই রায় দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রোকন ও আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজাকার কমান্ডার মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে আনা ৫টি অভিযোগের মধ্যে দুটি প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করার কথা বলেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের এটি ত্রয়োদশ রায়। আর এ রায়ের মাধ্যমে দেশ ও জাতির প্রত্যাশা যেমন পূরণ হলো, তেমনি দেশ কলঙ্কমুক্ত হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। একই সঙ্গে শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কার্যকর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

জোরপূর্বক আটক, অপহরণ, আটক রাখা, নির্যাতন, লুটপাটের পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একটিতে মৃত্যুদ-, অপরটিতে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়েছে।

একাত্তরের ২২ আগস্ট রাজাকার কমান্ডার মোবারক তার সহযোগীদের নিয়ে আখাউরায় টানমান্দাইল গ্রামের ২৬ জন ও জাঙ্গাইল গ্রামের ৭ জনকে হাজতখানায় নিয়ে যায়। ২৩ আগস্ট পাকিস্তানী সেনা ও রাজাকাররা ওই ৩৩ জনকে নিয়ে গঙ্গাসাগর দীঘিরপাড়ে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে মাটিচাপা দেয়। এ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল সর্বসম্মতিতে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকরের আদেশ দিয়েছে। অপর অভিযোগটি হলোÑ ১১ নবেম্বর রাতে মোবারক সশস্ত্র সহযোগী রাজাকারদের নিয়ে ছাতিয়ান গ্রামের আবদুল খালেককে অপহরণ করে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং রাতেই তিতাস নদীর বাঁকাইল ঘাটে নিয়ে গুলি ও বেয়নেটে খুঁচিয়ে হত্যা করে।

মৃত্যুদ-প্রাপ্ত মোবারক একাত্তর সালে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিল। স্বাধীনতার পর পলাতক ছিল। পঁচাত্তরের পর জামায়াত আবার রাজনীতির সুযোগ পেলে মোবারক দলের রোকন হয়। পরবর্তীকালে শাসক দল আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃত্বে চলে আসে। যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।

মোবারকের রায় প্রমাণ করেছে যে, আদালত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত থাকলেও কোন মানবতাবিরোধী অপরাধী পার পেয়ে যায় না। আদালতের প্রসিকিউটররা বলেছেন, মৃত্যুদ-ের রায়ে তাঁরা খুশি। রায় পর্যালোচনা করে যে তিনটি অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে তারা আপীল করবেন।

একাত্তর সালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সহযোগী সশস্ত্র শক্তি হিসেবে রাজাকারদের হত্যা, খুন, ধর্ষণ, লুটপাটের বিচার এই দেশের মাটিতে সম্পন্ন হচ্ছেÑ এ আশা আর দুরাশা নয়।