১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বছরে ১২ লাখ নারীর বিয়ে ॥ ১২ শতাংশই বালিকা বধূ

সমুদ্র হক ॥ দেশে প্রতিবছর অন্তত ১২ লাখ বিয়ে হয়। যার প্রায় ১২ শতাংশ বালিকা বধূ। নতুন দম্পতি ও সদ্য পুরান দম্পতি প্রতিবছর জন্ম দেয় প্রায় ৩০ লাখ শিশু। তবে জন্ম হার অনেকটা কমেছে। বর্তমানে দুইয়ের অধিক সন্তান নেয়ার প্রবণতা কমে এসেছে। অনেক আগেই একান্নবর্তী পরিবার ভেঙ্গে নিউক্লিয়ার ফ্যামিলিতে পরিণত হয়েছে। এই সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আবাদি জমির বড় একটি অংশে ঘরবসতি গড়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নদী তীরবর্তী এলাকা ও চরগ্রামে ভাঙ্গনের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় ভূমি কমে যাচ্ছে। এই অবস্থায় অধিক মানুষের মুখে আহার তুলে দেয়ার বিষয়টি এখন গ্রামের মানুষের মধ্যে গুরুত্ব পেয়েছে। এভাবে খাদ্য নিরাপত্তার কথা ভাবনায় এনে বছর বছর সন্তান জন্ম দেয়ার বিষয়টি আর আগের মতো নেই। তারপরও জন্ম নিয়ন্ত্রণের হার যে হারে কমার কথা ছিল সেই হারে কমছে না। এর অন্যতম একটি কারণ গ্রামের ঘরে ঘরে পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের নিয়মিত ভিজিট কমে যাওয়া। দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ায় প্রতিবছর মৃত্যুর হার কমেছে। সিনিয়র সিটিজেনের সংখ্যা (৬০ বছরের উর্ধে বয়সী মানুষ) বেড়েছে। জাতিসংঘের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের সিনিয়র সিটিজেনরা উন্নত অনেক দেশের চেয়ে বেশি কার্যক্ষম। খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা, সর্বোপরি সবজি উৎপাদনে দেশ অনেক এগিয়ে যাওয়ায় ভেজিটারিয়ান (সবজিভুক) মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গড় আয়ু বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞের মতে মোট প্রজনন হার (টোটাল ফার্টিলিটি রেট সংক্ষেপে টিএফআর) কমাতে সাফল্য এসেছে। ডেমোগ্রাফি (জনমিতিক) ও হেলথ (স্বাস্থ্য) জরিপ সূত্রের তথ্য, স্বাধীনতার পর টিএফআর ছিল ৬ দশমিক ৩ শতাংশ অর্থাৎ একজন মা বছরে গড়ে ৬ জনেরও বেশি সন্তান জন্ম দিতেন। বিশ বছর পর ১৯৯৩ সালে টিএফআর নেমে দাঁড়ায় প্রায় অধের্কে যা ছিল ৩ দশমিক ৪ । বর্তমানে এই হার কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৩ অর্থাৎ বিবাহিত নারী এখনও বছরে ২ জনের অধিক সন্তান জন্মদান করেন। এ চাইল্ড ম্যারেজ ইন বাংলাদেশ শীর্ষক এক গবেষণায় বলা হয়েছে বালিকা বধূরাই জনসংখ্যা বিস্ফোরণ রোধে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিশোরী বা বালিকাদের বিয়ে দেয়ার এক বছরের মধ্যে তারা গর্ভধারণ করে শিশুর জন্ম দেয়। এসব মা দ্বিতীয় সন্তানও আগে নেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ১৮ বছরের কম বয়সে বিয়ে হওয়া মেয়েদের প্রায় ৮৫ শতাংশই নিরক্ষর। প্রতিবছর যে ১২ লাখ নারীর বিয়ে হয় তার মধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজারই বালিকা। এই বালিকা বধূদের শ্বশুরবাড়ির লোকজনই বিয়ের প্রথম বছরেই গর্ভধারনের চাপ দেয়। সরকারের পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের কর্মীরা কাউন্সিলিং করেও তা প্রতিরোধ করতে পারে না। আবার বালিকা বিয়ে ঠেকানোর উদ্যোগ বিচ্ছিন্নভাবে নেয়া হয়। এক অভিভাবক বললেন অভিভাবক ও নারী শিক্ষিত হলে বালিকা বধূ হওয়ার প্রবণতা অনেক কমে যাবে। বগুড়া পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের উপপরিচালক জানালেন বালিকা বধূ হওয়ার পর গর্ভধারণ করায় মাতৃ মৃত্যুর বড় ঝুঁকি থাকে।