২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সোনা উদ্ধার ও হুন্ডি

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় শুল্ক বিভাগ অভিযান চালিয়ে কয়েক বস্তা দেশী-বিদেশী মুদ্রা ও সোনার বার উদ্ধার করেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে মণকে মণ সোনা ধরা পড়ছে প্রতি বছর। কিন্তু চোরাচালানকারী রাঘববোয়ালরা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। সন্দেহের আঙ্গুল প্রায়ই তোলা হতো বিমানের শীর্ষ মহলের প্রতি। এর পরই সম্প্রতি সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিমানের উপব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ৫ কর্মকর্তাকে আটক করা হয়।

ওই দুটি বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক সোনা চোরাচালানকারীদের জন্য অপেক্ষাকৃত নিরাপদ রুটে কিভাবে পরিণত হলো তা খতিয়ে দেখা দরকার। বছরের পর বছর সোনার আমদানি নেই; অন্তত কাগজে-কলমে তার হদিস মেলে না। তারপরও দেশে সোনার বাজার সচল। যদি চোরাচালানকৃত সোনার ওপরই নির্ভরতা বেড়ে থাকে তাহলে এই চোরাচালানের শিকড় ও শাখা-প্রশাখা কতখানি বিস্তৃত হয়েছে ভেবে দেখা দরকার। চোরাচালান থেকে পরিত্রাণ পেতে আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা বাড়িয়ে চোরাচালানকারীদের সঙ্গে যাদেরই যোগসাজশ রয়েছে তাদের খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।

হুন্ডি ব্যবসা সম্পর্কে বলা যায়- যেসব দেশের হুন্ডি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এদেশের অবৈধ উপায়ে মুদ্রা লেনদেনকারীদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে সেগুলোর মধ্যে প্রতিবেশীসহ কয়েকটি দেশের নাম শোনা যায়। দেশের বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ব্যবসার পণ্য সংগ্রহ করেন ভারত থেকে। এক্ষেত্রেও বড় ধরনের হুন্ডির আশঙ্কা অমূলক নয়। সেইসঙ্গে পর্যটন ও নানা প্রয়োজনে বিদেশ গমনকারী ব্যক্তিদের মধ্যে হুন্ডির মাধ্যমে মুদ্রা লেনদেনের ঘটনা ঘটছে কিনা তাও অনুসন্ধান করে দেখা দরকার। ইউরোপ-আমেরিকাসহ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে বাংলাদেশের শ্রমিকরা কাজ করেন তাঁদের ভেতরে বৈধভাবে দেশে অর্থ পাঠানোর পাশাপাশি হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানোর মানসিকতা কাজ করে থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেমিটেন্সের জন্য নিয়মকানুন আগের তুলনায় কিছুটা সহজ করলেও কেন এখনও কোন কোন প্রবাসীর কাছে হুন্ডিকেই নির্ভরযোগ্য বলে মনে হচ্ছে তা বিস্ময়কর! বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের উদ্যোগে অভিবাসী রেমিটেন্স বিষয়ক আলোচনা ও সেমিনার আয়োজিত হলে একটি বিষয় বরাবরই উঠে আসে। সেটি হলো প্রবাসীরা প্রশ্ন করেন, হুন্ডি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে তাঁরা যে সুযোগ-সুবিধা পান তা সরকারী প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান দিতে পারে না কেন? এর সদুত্তর কে দেবে? হুন্ডির ফলে নিজের দেশের যে লোকসান হয়ে থাকে এটা প্রবাসীরা জানেন। তবু এ নিয়মের বাইরে অনেকে কেন যেতে পারছেন না সেটিই খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিতে হবে। আরেকটি বিষয়- অসদুপায়ে অর্জিত কোটি কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে হুন্ডির টাকা লেনদেন হলেও প্রযুক্তির ওপরই নির্ভর করতে হয় অপরাধীদের। তাই মোবাইল ও ইন্টারনেট প্রযুক্তির উন্নত ব্যবহারে ও গোয়েন্দাদের সতর্ক তৎপরতায় এ ব্যবসা খানিকটা হলেও বন্ধ করা সম্ভব বলে ধারণা করা যায়। পল্টনে শুল্ক বিভাগ যে সোনা ও বিদেশী মুদ্রা উদ্ধার করেছে তার যথাযথ তদন্ত হবে এবং সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে- এটাই প্রত্যাশা।