২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শুরুতেই সেচ সঙ্কটে লক্ষ্মীপুরে বোরো আবাদ

নিজস্ব সংবাদদাতা, লক্ষ্মীপুর, ২১ জানুয়ারি ॥ আবাদের ভরা মৌসুম শুরু হলেও সেচের অভাবে লক্ষ্মীপুরে বেশিরভাগ জমিতে কৃষক বোরোর চারা লাগাতে পারছে না। এতে ঘন কুয়াশা এবং লবণাক্ততায় যেমন বীজতলা নষ্ট হচ্ছে, একই সঙ্গে চারার বয়স বৃদ্ধি পাচ্ছে। বীজতলাগুলো ঝোপ জঙ্গলে ভরে গেছে। অনেক বীজতলার চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। মাটির আর্দ্রতা না থাকায় জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। সেচের অভাবে চাষ দিতে না পারায় বহু জমি পড়ে আছে। ত্রিমুখী ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষক। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি বছর জেলায় ২৭ হাজার আটশ’ ২৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এতে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে, এক লাখ ১০ হাজার আটশ’ ৩৩ টন। এর মধ্যে সদর উপজেলার জকসিন বাজার থেকে রামনগর মৌজা পর্যন্ত, বাঞ্চানগর থেকে চরলামচি, চররুহিতা, পশ্চিম লক্ষ্মীপুুর পর্যন্ত প্রধান খাল, রহমতখালী, ছাগল ছেড়া খাল, কোরালিয়া খাল, বেঁড়ির খাল, মিঠানিয়া খাল সমূহের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় এ সব খাল পাড়ে অবস্থিত শত শত একর জমিতে সেচ দিতে পারছে না কৃষক। কিছু কিছু জমিতে প্রাথমিকভাবে ডিজেল চালিত পাম্পে পুরনো পানি তুলে চারা লাগানো হলেও বর্তমানে খাল শুকিয়ে গেছে। বর্তমানে জকসিন থেকে রামনগর পর্যন্ত অর্ধশতাধিক ডিজেল চালিত পাম্প বেকার পড়ে আছে। আগাম ফলনের আশায় আগে ভাগে কৃষক চারা লাগালেও সে সব চারা পানির অভাবে বিবর্ণ হয়ে গেছে। বর্তমানে ওইসব খালে গর্ত করেও পানি তুলতে পারছে না কৃষক। ফলে রামনগর এলাকাসহ অনেক স্থানে জমি শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। এতে বোরো বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এলাকার যে সব জমিতে বোরো চারা লাগানো হয়েছে সেগুলো পানির অভাবে চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও কৃষক বিদ্যুতের সংযোগ সমস্যার কথাও বলেছেন কৃষক।

অনতি বিলম্বে সেচের পানি সরবরাহ করা না হলে কৃষক বোরো আবাদ থেকে তারা বঞ্চিত হবেন। পরিবার পরিজন নিয়ে না খাওয়ার উপক্রম হবে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকার কৃষক কিষানী। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেছেন, লক্ষ্মীপুরের প্রায় সাড়ে আট হাজার হেক্টর বোরো চাষ চাঁদপুর সেচ প্রকল্প (সিআইপি) সরবরাহকৃত পানির ওপর নির্ভর করছে। আরও আগে পানি সরবরাহের কথা থাকলেও পাম্প খারাপ থাকার কারণে তারা সিআইপির পানি সরবরাহে দেরি করছে বলে তিনি যান্ত্রিক প্রকৌশল শাখার বরাত দিয়ে এ কথা বলেন।

নির্বাচিত সংবাদ