২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বড় দরপতন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ চলতি বছরের প্রথম মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতার ছোবলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের লোকসান বাড়ছেই। প্রাতিষ্ঠানিক, ছোট-বড় ও সব ধরনের বিনিয়োগকারীরই পত্রকোষ বা পোর্টফলিওতে লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে। প্রতিদিনই কমছে সূচক ও লেনদেন। বুধবারে টানা অবরোধের কারণে সবচেয়ে বড় দরপতন ঘটেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীরা সাইডলাইনে থাকায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৪ সালের ৬ থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত মূল্যসূচক বেড়েছিল ২৮৮ পয়েন্ট। দৈনিক লেনদেন ৩শ’ কোটি থেকে ৭শ’ কোটিতে উন্নীত হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের ৬ থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত মূল্যসূচক কমেছে ১৮৬ পয়েন্ট। আর লেনদেন ঘুরপাক খাচ্ছে ৩শ’ কোটির মধ্যে।

অবরোধের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা হাউসে ?উপস্থিত হয়ে লেনদেনে অংশ নিতে পারছেন না। আর প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এছাড়া পরবর্তী পরিস্থিতি চিন্তা করে অনেকে কম দরে হাতে থাকা শেয়ার ছেড়ে দিচ্ছেন। এসব কারণে মূলত বাজার ধরাশায়ী হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বুধবার সকালে সূচকের নেতিবাচক প্রবণতা দিয়ে লেনদেন শুরুর পর শেষ বিকেলে আগের দিনের চেয়ে ৭৩ পয়েন্ট কমে সার্বিক সূচকের অবস্থান দাঁড়ায় ৪ হাজার ৭৮৩ পয়েন্টে, যা চলতি বছরের মধ্যে সূচকের সর্বোচ্চ পতন। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩০৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৬টির, কমেছে ২৪৮টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টি কোম্পানির শেয়ার দর। সেখানে লেনদেন হয়েছে ২৮১ কোটি ৯২ লাখ ৩৮ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

এদিন ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি শেয়ার লেনদেন হয়েছে সিএ্যান্ডএ টেক্সটাইলের। দিনভর এ কোম্পানির ১ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার ৬০৮টি শেয়ার ৪২ কোটি ৫৫ লাখ ৮২ হাজার টাকায় লেনদেন হয়েছে, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৫.০৯ শতাংশ। এছাড়া লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের ১৮ কোটি ৬২ লাখ, ন্যাশনাল ফিড মিলের ৮ কোটি ৫৭ লাখ, গ্রামীণফোনের ৭ কোটি ৮৫ লাখ, এনভয় টেক্সটাইলের ৭ কোটি ৩১ লাখ, বেক্সিমকোর ৬ কোটি ৬২ লাখ, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ৫ কোটি ৩৭ লাখ, অগ্নি সিস্টেমসের ৪ কোটি ৮৬ লাখ, ব্র্যাক ব্যাংকের ৪ কোটি ২৬ লাখ ও বেক্সিমকো ফার্মার ৪ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোন উন্নতি না হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। ঠিক কতদিনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। আগামীতে বাজার কেমন আচরণ করতে পারে এমন আশঙ্কার কারণে বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীরা কিছুটা নিরাপদ দূরত্বে থাকার চেষ্টা করছেন। সব মিলিয়ে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার পরিমাণ বেশি থাকার কারণে প্রতিদিনই সূচক কমছে।