২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিলেটে মাঠে নেই ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মী

  • ‘নিজে বাছলে বাফর নাম’

সালাম মশরুর, সিলেট অফিস ॥ হরতাল অবরোধ নিয়ে প্রধান দল বিএনপির নেতাকর্মীরাও বিরক্ত। রাজপথে নেমে আর ঝুঁকি নিতে চানান তাঁরা। কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি তাঁদের বিরূপ মনোভাব। দিনের পর দিন অবরোধের পর হরতাল। এই সকল কর্মসূচী এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে অবরোধকারীরা রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের রোষানলে পড়ায় এখন তাঁরা আতঙ্কিত। নেতারা কর্মসূচী দিয়েই খালাস। মাঠে তো থাকা দূরের কথা, তাঁরা বিবৃতি দিয়ে অজ্ঞাত স্থান থেকে কর্মসূচী ঘোষণা করছেন। নেতৃবৃন্দের এমন দেউলিয়াত্ব মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের হতাশ করছে। এখন ঘরে বাইরে বিপদ। রাতে পুলিশের ভয়ে ঘরে থাকা যাচ্ছে না, আবার মাঠে নেমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নাশকতাকালে সাধারণ মানুষের ধাওয়ার মুখে পড়ার ভয়। এ নিয়ে কর্মীরা এখন নিজেদের প্রাণ বাঁচাতেই ব্যস্ত। স্থানীয় নেতাদের ৯৫ ভাগই এখন আত্মগোপনে। কর্মীরাও তাঁদের কাছে যেতে পারছেন না। নেতাদের সাধারণ যোগাযোগের মোবাইল ফোনও বন্ধ। এ কারণে নেতাদের ওপর কর্মীরা অসন্তুষ্ট। কিন্তু করার কিছুই নেই। নেতাদের অবস্থাও সমান। নিজেরা জান বাঁচানোর তালে ব্যস্ত। মহানগর বিএনপির এক নেতার শ্যালক জনকণ্ঠের সাথে আলাপকালে বলেন, দুলাভাই বাসায় থাকেন না। পুলিশের ভয়, ভাগ্যিস এক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে আমার ভাল সম্পর্ক ছিল। নাহলে গতদিন নির্ঘাত ধরা পড়ে যেতেন। আমি কোনভাবে জেনে যাই, তাই তাঁকে সরিয়ে দেই। বর্তমান এমন কর্মসূচীতে দুলাভাইয়ের ব্যবসা বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনিও অশান্তির মধ্যে আছেন। দলের কর্মীরা যোগাযোগ করতে চাইলেও তাঁকে পাচ্ছেন না। কর্মীরা খোঁজাখুঁজি করছে বলেছিলামÑ দুলাভাই বল্লেন ‘অখন দূরই রাখ ইতারে, নিজে বাছলে বাফর নাম’ অর্থাৎ এখন ওদের দূরে রাখ, নিজে বাঁচলে বাপের নাম। এই নেতা পরিবার ছেড়ে আত্মগোপনে থাকতে গিয়ে নিজের পরিবারের লোকদের কাছে দলের বর্তমান এমন নিষ্ফল কর্মসূচীকে দায়ী করছেন। অধিকাংশ নেতাকর্মী এ নিয়ে অসন্তুষ্ট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জোরালো তৎপরতার কারণে রাজনৈতিক সন্ত্রাসীরা গা ঢাকা দিয়েছে। শনিবার থেকে মাঠে ময়দানে তাদের অপতৎপরতা কমে এসেছে। গতদিন কোথাও যানবাহনে আগুন দেয়ার সাহস পায়নি তারা। রবিবার সকাল ৬টা থেকে হরতাল শুরু হলেও সিলেটে সকাল থেকে কর্মসূচীর সমর্থনে ২০ দলীয় জোট নেতাদের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। সকাল থেকে সিলেট নগরীর কোথাও পিকেটিং ও সভা-সমাবেশ করার খবর পাওয়া যায়নি। তবে নগরীর প্রতিটি পয়েন্টে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে পুলিশ। নগরীর প্রধান প্রধান সড়কসহ অলিতে-গলিতে টহল দিচ্ছে তারা।

নির্বাচিত সংবাদ