২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চাঁপাইয়ে আম গাছে ডাইব্যাক রোগ

  • তিন বছরে মারা গেছে ২ হাজার গাছ

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ জাতীয় বৃক্ষ আমগাছ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষী ও বাগান মালিকরা বড় ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়েছে। হঠাৎ করেই বড় বড় আম গাছ আক্রান্ত হচ্ছে ডাইব্যাক রোগে। আক্রান্ত হবার ছয় মাসের মধ্যে পুরো গাছ শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। বিশেষ করে জেলার সর্ববৃহৎ উপজেলা শিবগঞ্জে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি সদর উপজেলায় ইতোমধ্যেই আক্রান্ত গাছের সংখ্যা কয়েক হাজার। শুকিয়ে মরে যাওয়া গাছের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। শিবগঞ্জের অধিকাংশ আম বাগানে এই রোগের প্রকোপ বেশি হবার কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে বাগান মালিকরা। তারা তেমন কোন উপদেশ বা ব্যবস্থাপত্র পাচ্ছে না কৃষি স¯প্রসারণ বিভাগের কাছে। কৃষি সম্প্রসারণের স্থানীয় উপ পরিচালক রোগাক্রান্ত ও শুকিয়ে গাছ মরে যাবার খবর নিশ্চিত হলেও তাদের কাছে কোন পরিসংখ্যান নেই কি পরিমাণ গাছ গত তিন বছরে এই জেলায় মারা গেছে। তবে কয়েকটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান হতে দেখা যায়, মরে যাওয়া গাছের সংখ্যা গত তিন বছরে ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্ত গাছের সংখ্যা লক্ষাধিক বলে জানা গেছে।

এই রোগে আক্রান্ত গাছের প্রথমেই ডালপালা শুকাতে শুরু করে। পরবর্তীতে তা নিচে নামায় ছয় মাসের মধ্যে পুরো গাছ মরে যায়। এভাবে ডাইব্যাকের বিস্তার অব্যাহত থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে অনেক আম বাগান উজাড় হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন বাগান মালিকরা। শিবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১৫ ইউনিয়নে প্রায় ১৫ হেক্টর জমিতে নানান জাতের আমগাছ রয়েছে। তারমধ্যে ল্যাংড়া, ফজলি, খিরশাপাত, গোপালভোগ ও আশ্বিনা জাতের সংখ্যা বেশি। বাগানের ছোট, মাঝারি ও বড়সহ সবধরনের আম গাছ ডাইব্যাকে আক্রান্ত। শিবগঞ্জের শাহবাজপুর, ধাইনগর, দাইপুকুরিয়া, কানসাট, মোবারকপুর, ছত্রাজিতপুর, নয়ালাভাঙ্গা, শ্যামপুর সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা, বারঘরিয়া, গোবরাতলা, মহারাজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকা, গোমস্তাপুর উপজেলার আলিনগর, ভাঙ্গাবাড়ী, বোয়ালিয়া, চৌডালা, রহনপুর, গোমস্তাপুর সদর, ভোলাহাট উপজেলার ভোলাহাট, দলদলি, গোহালবাড়ী ও জামবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগানগুলোতে ডাইব্যাক রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। এমনকি জেলা সদরের কোর্ট বাগানের একাধিক গাছ ডাইব্যাক বা গোড়ামরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। চাকপাড়া গ্রামের আব্দুল মতিন, সাদেকুল, সামশুদ্দিন, মানিরুলসহ বিভিন্ন এলাকার শতাধিক আমবাগান মালিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে ডাইব্যাক রোগের কারণে একদিকে শতবর্ষের গাছ মারা যাচ্ছে, পাশাপাশি বার বার গাছ লাগিয়ে বাগান তৈরি করা যাচ্ছে না। ওষুধ ব্যবহার করেও চারাগাছ বাঁচানো যাচ্ছে না।

শিবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহমুদুল ফারুক জনকণ্ঠকে জানান, আমগাছে ডাইব্যাক রোগের সঠিক কারণ জানা না থাকায় প্রতিকার করা যাচ্ছে না। তবে আক্রান্ত ডালপালা কেটে দেবার পর, কাটা অংশে অক্সিক্লোরাইড পেষ্ট আকারে লাগাতে হবে। পরে ১০ লিটার পানিতে ২০-২৫ গ্রাম কপার অক্সিক্লোরাইড মিশিয়ে ১০/১২ দিন পর পর ¯েপ্র করলে কিছু সুফল পাওয়া যাচ্ছে।