১৮ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হারিয়ে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জের দর্শনীয় পিঠা- পাক্কন

গ্রামবাংলার সৌন্দর্য চেনার কত যে বিচিত্র রূপ বিভিন্ন স্থানে মানুষের হাতের স্পর্শে ছড়িয়ে রয়েছে। তেমনি একটি শিল্প মাধ্যম হচ্ছে পিঠা। এটি তৈরি করেন মূলত গ্রামীণ নারীরা। এই পিঠার মধ্যে বাঙালী নারীর রুচি, আদর, ভালবাসা, স্নেহ-প্রীতি বিজড়িত। ভাত বাঙালীর যেমন প্রধান খাদ্য তেমনি চালের গুঁড়ার তৈরি পিঠাও বাঙালীর প্রাচীন এবং প্রিয় খাদ্য হিসেবে পরিচিত।

হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায় তৈরি করলেও মূলত চালের গুঁড়ার পিঠা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বেশি প্রচলিত। এর মধ্যে পাক্কন বা পাকোয়ান পিঠা অন্যতম। এটি নক্শি পিঠা হিসাবেই সুপরিচিত। সবচেয়ে কারুকার্যময় ও অলঙ্করণযুক্ত হওয়ায় এটি বাংলাদেশের সব জেলাতে তৈরি হয় না। এই পিঠা কিশোরগঞ্জসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ, ঢাকা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কিছু অঞ্চলে তৈরি হয়ে থাকে। এ পিঠাতে ব্যবহৃত নক্শার মটিফের মধ্যে লতা-পাতা-ফুল, ঘরে ব্যবহারিক তৈজসপত্রের নমুনা, মাছ, পাখি এবং জ্যামিতিক নক্শার প্রাধান্যই লক্ষ্য করা যায়। নক্শা তৈরির উপকরণও অতি সাধারণ। সুঁই, খেজুর কাঁটা, মন কাঁটা, বাঁশের ছিলকা ও বাঁশের চিকন কঞ্চি এ কয়েকটি অতি সাধারণ যন্ত্র দিয়েই নারীরা তৈরি করেন অসাধারণ পাক্কন পিঠা বা নক্শি পিঠা। মটিফের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এর নামকরণও অদ্ভুত সুন্দর যেমন-কাজললতা, শঙ্খলতা, হিজললতা, সজনে পাতা, ভেট ফুল, উড়িফুল (সিমের ফুল), কন্যামুখ, জামাই মুচরা, সতীন মুচরা, সাগর দীঘি ইত্যাদি। প্রতি বছর পাক্কন পিঠা বানিয়ে থাকেন গৃহিণী ফাতেমা আক্তার আম্বিয়াসহ আরও কয়েকজন নারী জানান, আবহমানকাল থেকে মুসলিম-হিন্দু পরিবারের বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে পিঠা তৈরির ও আপ্যায়নের রেওয়াজ বহুল প্রচলিত। কালের বিবর্তনে সে প্রাচুর্য হারিয়ে গেলেও এখনও ঐতিহ্যগতভাবে এর ব্যবহার গ্রামেগঞ্জে প্রচলিত রয়েছে।

গবেষক মু. আ. লতিফ বলেন, অতিথি পরায়ণতা বাঙালীর স্বভাবজাত। বাংলার অতীত প্রাচুর্য হয়ত আগের মতো আর নেই, তবু এখনও অনেকের ঘরে প্রতি বছরই বিভিন্ন উৎসবে ধরে রাখতে নক্শি পিঠার জুড়ি নেই।

-মাজহার মান্না, কিশোরগঞ্জ থেকে

নির্বাচিত সংবাদ