১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কাইয়ুম চৌধুরীর জন্মবার্ষিকীর স্মারক প্রদর্শনী বেঙ্গলে

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আমৃত্যু ক্যানভাসে আবহমান বাংলাকে ধারণ করেছেন কাইয়ুম চৌধুরী। স্বদেশের ঐতিহ্য ও লোকজসংস্কৃতি বারবার উঠে এসেছে তাঁর চিত্রপটে। সে সব ছবি উপস্থাপিত হয়েছে মাতৃভূমির প্রতি শিল্পীর তীব্র অনুরাগ। প্রয়াত এ বরেণ্য শিল্পীর তিরাশিতম জন্মবার্ষিকী ছিল সোমবার। এ উপলক্ষে দুটি স্মারক প্রদর্শনীর আয়োজন করে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস মাসিক সাহিত্য পত্রিকা কালি ও কলমের সচিত্রকরণে ব্যবহৃত তাঁর মূল ড্রইংসমূহ নিয়ে ‘কালি ও কলমে কাইয়ুম চৌধুরীর রেখালেখ্য’ শীর্ষক নির্বাচিত রেখাচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে। আর বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সংগ্রহ থেকে নির্বাচিত চিত্রকর্ম নিয়ে বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জ আয়োজন করে আরেকটি বিশেষ প্রদর্শনীর।

সোমবার বসন্ত সন্ধ্যায় ধানম-ির বেঙ্গল শিল্পালয়ে প্রদর্শনী দু’টির উদ্বোধন করা হয়। এ্যামেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, শিল্পী রফিকুন্নবী এবং শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী যৌথভাবে প্রদর্শনী দুটির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত এবং শিল্পীপুত্র মইনুল ইসলাম জাবের। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী।

আনিসুজ্জামান বলেন, আমাদের জীবনকে নতুন বোধ দেয়ার চেষ্টা করেছেন কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী । তিনি আমাদের দু’হাত ভরে দিয়ে গেছেন। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। তাঁকে ছাড়া এই প্রথম তাঁর জš§বার্ষিকী পালন করছি। এখানে এত মানুষ থাকার পরেও পূরণ হচ্ছে না তাঁর শূন্যতা।

আবুল হাসনাত বলেন, একদিকে তাঁর রেখা যেমন দীপ্তিময়, উজ্জ্বল ও সৃজনধারার অনুষঙ্গী, তেমনি তাঁর রেখার প্রাণময়তা, শক্তিময়তা ও আবেগ প্রাণস্ফূর্তিতে উজ্জ্বল। যেসব প্রবন্ধের নামলিপি করেছেন, তাতেও কাইয়ুম চৌধুরীর অক্ষরবিন্যাসের ধীশক্তি নানাভাবে উšে§াচিত। এ সব সৃজনে তাঁর বহুমাত্রিক ভাবনা ও জিজ্ঞাসার ছাপ সুস্পষ্ট। একটি সংখ্যায় যেÑ সচিত্রকরণ করেছেন, পরবর্তী সংখ্যায় যেন তার এতটুকুও ছাপ না থাকে, তা নিয়ে ভেবে রেখাকে ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে বিন্যাস করেছেন।

পিতৃস্মৃতিচারণ করে মইনুল ইসলাম জাবের বলেন কাইয়ুম চৌধুরীকে বাদ দিয়ে একজন আধুনিক বাঙালীকে দেখা ঠিক হবে না। চিত্রকর্ম সৃজন ও প্রচ্ছদ অঙ্কন পাশাপাশি দুই বিষয়কে তিনি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। বিশ্বে কম শিল্পীই একসঙ্গে এই দুই কাজ করতে পেরেছেন। অন্য বক্তারা বলেন, কালি ও কলমে প্রকাশিত নির্বাচিত রেখাগুচ্ছের এ প্রদর্শনী দেশের চারুকলার রেখার ভুবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বেঙ্গল গ্যালারির প্রদর্শনীতে মোট চিত্রকর্মের সংখ্যা প্রায় ১০০টি। আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এ প্রদর্শনী। অন্যদিকে বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জের প্রদর্শনীতে চিত্রকর্মের সংখ্যা প্রায় ২৫টি। এ প্রদর্শনী চলবে আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত। দুটি প্রদর্শনীই প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

জাদুঘরে কুষাণ মুদ্রাবিষয়ক সেমিনার আজ ॥ আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত অপ্রকাশিত কুষাণ মুদ্রা শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।

সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জাদুঘরের মুদ্রা ও লিপি গবেষক ড. মোঃ শরিফুল ইসলাম। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. শরীফ উদ্দিন আহমেদ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টের অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুসনে জাহান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আকসাদুল আলম। সেমিনারের প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি সচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাস এনডিসি। সভাপতিত্ব করবেন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. আবদুল মমিন চৌধুরী।