২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৮ দিনের রিমান্ডে বাঁশেরকেল্লার এ্যাডমিন ফাহাদ গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রগতিশীলদের নানাভাবে হুমকি দেয়া বাঁশেরকেল্লার এ্যাডমিন ছাত্রশিবিরের মিডিয়া বিভাগের প্রধান কেএম জিয়া উদ্দিন ফাহাদকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। তাকে আট দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক আবাসিক এলাকা থেকে ছাত্রশিবিরের প্রচার বিভাগের প্রধান সমন্বয়ক ও বাঁশেরকেল্লাসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ফেসবুক পেজের এডিটরিয়াল এ্যাডমিন জিয়া উদ্দিন ফাহাদকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় আপত্তিকর কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ ও দুটি মোবাইল।

শুক্রবার দুপুর বারোটায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, ফাহাদ এসব আইডি দিয়ে বিচার বিভাগ, পুলিশ, লেখক-সাহিত্যিকদের বিদ্রƒপকর ব্যঙ্গচিত্র ও হত্যার হুমকি প্রদান করে আসছিল। সে জামায়াত-শিবিরের আইটি বিষয়ক সমন্বয়ক। ফাহাদ চট্টগ্রামের বাঁশখালীর এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ছেলে। তার বোনের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বিপ্লব দহন ও ট্রুথ ফাইন্ডার দুটি ছদ্মনামে পেজগুলো চালাত। ফাহাদ বাঁশেরকেল্লা (মেন বাঁশেরকেল্লা), তিতুমীরের বাঁশেরকেল্লা, আওয়ামী ট্রাইব্যুনাল, বাকশাল নিপাত যাক, আইএম বাংলাদেশী, ডিজিটাল রূপে বাকশাল, বিএএন বাঁশখালী নিউজ-২৪, ইসলামী অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট, তরুণ প্রজন্ম, বাঁশেরকেল্লা ইউএসএ, ভিশন ২০২১ ইত্যাদি অর্ধশতাধিক ফেসবুক পেজের এডিটরিয়াল এ্যাডমিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিল।

এসব ফেসবুক আইডি ও ই-মেল আইডিসমূহ ব্যবহার করে ফাহাদ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ভিভিআইপি, দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বডার গার্ড বাংলাদেশ ও র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন উস্কানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য গ্রাফিকসহ অন্যান্য সফট্ওয়্যার ব্যবহার করে তার উপরে ডিজাইন করে পোস্ট করত। তার এ পোস্টসমূহ ছাত্রশিবিরের প্রচার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য সহযোগীদের মাধ্যমে প্রচার করা হতো। ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রতি সহানুভূতি তৈরি ও সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরিতে এ প্রচার চালাত। এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সহানুভূতি ও জনমত সৃষ্টি করতে দীর্ঘ দিন ধরেই গোপন কাজ করছিল ফাহাদ।

আমাদের কোর্ট রিপোর্টার জানান, বিকেলে ফাহাদকে দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে ঢাকার সিএমএম আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিচারক শুনানি শেষে ফাহাদকে আট দিনের রিমান্ডে পাঠান।