১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিরিয়ায় বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

  • বাংলাদেশ যুবদল -৪ সিরিয়া যুবদল

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আশা ছিল কমপক্ষে ড্র। কিন্তু সে আশা লুিটয়েছে ধুলায়। ড্র নয়, গোলের পর গোল হজম করে তিক্ত হারের স্বাদ নিয়ে মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে হলো। হতাশ হতে হলো ছুটির দিনে বড় আশা নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে আসা প্রায় হাজার চারেক ফুটবলপ্রেমীকে। আন্তর্জাতিক ফুটবল আসর ‘এএফসি অনুর্ধ-২৩ চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাইপর্ব ২০১৬’-এ ‘ই’ গ্রুপে উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক ‘বেঙ্গল টাইগার্স’ খ্যাত বাংলাদেশ যুব দলকে ৪-০ গোলে হারায় ‘কাশিয়ান ঈগলস্’ খ্যাত সিরিয়া যুব দল। এই ম্যাচে হেরে বাংলাদেশ যুব দলের এ আসরের মূলপর্বে কোয়ালিফাই করাটা অনেক কঠিন হয়ে গেল। উল্লেখ্য, সার্বিকভাবে এ আসরে ১০ গ্রুপে অংশ নেবে ৪৩ দেশ। প্রতি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল এবং বিভিন্ন গ্রুপ মিলিয়ে ৫ সেরা রানার্সআপ দল আগামী ২০১৬ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত আসরের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। বাংলাদেশ যুব দলের জন্য এখন গ্রুপ রানার্সআপের স্বপ্ন অনেকটাই ধূসর হয়ে গেল। ফরোয়ার্ড হেমন্ত কার্ড সমস্যার জন্য খেলতে পারেননি এই ম্যাচে। আজ খেলার বিরতি। ২৯ মার্চ একই ভেন্যুতে সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ যুব দল তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে মোকাবেলা করবে উজবেকিস্তান যুব দলের। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ফুটবল দলের বর্তমান ফিফা র‌্যাঙ্কিং ১৬২ আর সিরিয়া ফুটবল দলের র‌্যাঙ্কিং ১৫২। বাংলাদেশের চেয়ে মাত্র দশ ধাপ এগিয়ে। সিরিয়া জাতীয় দলের ৭ ফুটবলার আছেন যুব দলে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ যুব দলে আছেন জাতীয় দলের বিভিন্ন সময়ে খেলা ১০ খেলোয়াড়। আর এ কারণেই সিরিয়ার সঙ্গে শক্তির তারতম্য অনেক কম হবে বলেই ধারণা করেছিলেন বাংলাদেশী ফুটবলাররা। কিন্তু ফ্লাডলাইটের ঝলমলে আলোয় গতিশীল ও ‘পাওয়ার’ ফুটবল খেলে এ ধারণা ভুল প্রমাণ করেন সিরিয়ান ফুটবলাররা। প্রথমার্ধেই তারা যে ঝড় বইয়ে দেন, তা আর সামলাতে পারেনি ক্রুইফের শিষ্যরা। একের পর এক গোল হজম করে তারা। মূলত প্রথমার্ধেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলক ভাল ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে রায়হান বাহিনী। কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাবে সেগুলো গোলে পরিণত হতে পারেনি। এ দিন সিরিয়ার সুঠামদেহী ও দীর্ঘকায় গড়নের ফুটবলারদের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ যুব দল।

ম্যাচের প্রথম থেকেই বাংলাদেশকে চেপে ধরে সিরিয়া। ৬ মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যায় গোল করে। ফাউলের সুবাদে ডি-বক্সের খুব কাছেই ফ্রি কিক পায় সিরিয়া দল। ওমর খারবিনের চমৎকার ফ্রি কিক ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে হাত লাগিয়েও শেষরক্ষা করতে পারেননি বাংলাদেশ দলের গোলরক্ষক রাসেল মাহমুদ লিটন (১-০)। ১৪ মিনিটে ডিফেন্ডার আজ্জানের ফ্রি কিকে আমরো জেনিয়াত হেড করে আবারও গোল করে এগিয়ে নেন সিরিয়াকে (২-০)। ইনজুরি সময়ে সিরিয়ার একটি আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে হাস্যকরভাবে হ্যান্ডবল করেন বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড নাহিদ। সিরিয়ার খেলোয়াড়রা আবেদন করলেও ইরানের রেফারি লালকার্ড দেখাননি নাহিদকে! তবে ঠিকই পেনাল্টির নির্দেশ দেন তিনি। পেনাল্টি থেকে গোল করেন ওমর খারবিন (৩-০)। ৮১ মিনিটে সিরিয়ার হয়ে গোল করেন বদলি মিডফিল্ডার মাহমুদ আল মাউস (৪-০)। ম্যাচের আগের দিন বাংলাদেশের ডাচ্ কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফ বলেছিলেন ‘আমরা প্রথম ম্যাচটাতে ভাল করতে চাই। ফুটবলে যে কোনকিছুই ঘটা সম্ভব। এখন দেখা যাক কী হয়।’ শেষ পর্যন্ত ম্যাচে কী হয়েছে, ক্রুইফের কথা কতটুকু ফলেছেÑ তা পাঠক ইতোমধ্যেই জেনে গেছেন।