১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাঘাবাড়িতে হচ্ছে নতুন গুঁড়াদুধ কারখানা

  • হরতাল-অবরোধের দুশ্চিন্তা কাটছে দুগ্ধ খামারীদের

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ রাজনৈতিক কর্মসূচীতে দুধ উৎপাদনকারীদের আর রাস্তার দুধ ঢেলে প্রতিবাদ করতে হবে না। এজন্য দেশের অন্যতম দুধ উৎপাদক এলাকা সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ঘাটে স্থাপন করা হচ্ছে গুঁড়া দুধের কারখানা। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দৈনিক ২ লাখ লিটার কাঁচা দুধ প্রক্রিয়াকরণ করে দৈনিক প্রায় ২৫ মেট্রিক টন গুঁড়া দুধ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

এ ক্ষেত্রে বলা হয়েছে বর্ষাকালো সংঘটিত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বিভিন্ন সময় মানব সৃষ্ট বিরূপ পরিস্থিতির (হরতাল-অবরোধ) কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতি ঘটায় স্থানীয় দুগ্ধ খামারীদের উৎপাদিত দুধ স্থানীয় বাজারে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এসব পরিস্থিতিতে দুগ্ধ খামারীদের স্বার্থরক্ষার্থে স্থানীয় বাজারে উদ্বৃত্ত দুধ সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করে গুঁড়া দুধ তৈরি করে বাজারজাত করা হবে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ঘাটে গুঁড়া দুগ্ধ কারখানা স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পটি। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা। গুঁড়া দুধ উৎপাদন কারখানাটি তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৫৬ কোটি ১০ লাখ এবং মিল্ক ভিটার নিজস্ব তহবিল থেকে ১৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য এ.এন. সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরী পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেছেন, পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে দেশের গুঁড়া দুধ তথা দুগ্ধ চাহিদার ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি অবস্থার উন্নয়ন হবে। শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস করবে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং সর্বোপরি প্রকল্প এলাকার দরিদ্র মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে তাই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন যোগ্য।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর উপজেলায় প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭১ লিটার কাঁচা দুধ উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে মিল্ক ভিটা ওই এলাকার নিজস্ব প্রাথমিক দুগ্ধ সমবায় সমিতির মাধ্যমে মৌসুম ভেদে দৈনিক আড়াই লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ করে। নবেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ওই এলাকায় অতিরিক্ত দুধ উৎপাদন এবং বর্ষাকালে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানব সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতি হলে প্রকল্প এলাকায় দুগ্ধ খামারি পর্যায়ে কাঁচা দুধ বাজারজাত করণে ব্যাপক সমস্যা দেখা দেয়।

সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ঘাটে মিল্ক ভিটা একটি গুঁড়া দুধ কারখানা স্থাপন করে। বর্তমানে ওই কারখানায় প্রতিদিন মাত্র ৬০ থেকে ৭০ হাজার লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ করে ১২ দশমিক ৫ মেট্রিক টন গুঁড়া দুধ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রতি বছর ২১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন গুঁড়া দুধ আমদানি করে থাকে। এ পরিস্থিতিতে সিরাজগঞ্জ এলাকার দুগ্ধ খামারিদের স্বার্থ রক্ষার্থে এবং গুঁড়া দুধ আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হচ্ছে।