১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজধানীতে ফের বোমা তৈরির কারখানার সন্ধান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীতে আবারও বোমা তৈরির কারখানার সন্ধান মিলেছে। কারখানা থেকে তাজা বোমা, সাড়ে তিন কেজি গানপাউডার ও বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার হয়। গ্রেফতার করা হয় দুই বোমাবাজকে। সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে লালবাগ থানাধীন ৩০৬/৩ শহীদনগরের ৫ নম্বর গলির আতিকুর রহমানের সাততলা বাড়িতে বোমা তৈরির কারখানাটির সন্ধান পায় পুলিশ। কারখানা থেকে বেলাল হোসেন খান (২২) ও আল রিসালাতকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কেজি গানপাউডার, প্রায় দুই কেজি বিস্ফোরক, প্রায় এককেজি পটাসিয়াম ও ২৭টি তাজা ককটেল উদ্ধার হয়।

পুলিশ জানায়, ১৯ মার্চ রাতে লালবাগ থানার ৬২ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার ও বিএনপি নেতা মীর আশরাফ আলী আজম ও বিএনপি নেতা মীর শরাফত আলী সপুর ভাই যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলীর লালবাগের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার হয়। মামলা তদন্তের সূত্র ধরে লালবাগ ও চকবাজার থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই বাড়ি থেকে বিস্ফোরকগুলো উদ্ধার করে।

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন আহমেদ ও জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার আর এম ফয়জুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্ফোরকচক্রের সঙ্গে জড়িতদেও গ্রেফতারে কড়া নির্দেশ দেন। তাদের তত্ত্বাবধানে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান ও চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুল হক দীর্ঘদিন ধরেই বিস্ফোরক মজুদ ও বোমা তৈরির কারখানার সন্ধান করে যাচ্ছিলেন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপির ডাকা অবরোধে ব্যাপক নাশকতার ঘটনা ঘটার পর পুলিশের অভিযানে গত ২০ জানুয়ারি রাজধানীর বনানীতে ছাত্রশিবিরের বোমা তৈরির কারখানা থেকে ১৩০টি শক্তিশালী তাজা বোমা, পেট্রোলবোমা, গানপাউডার, জিহাদী বই ও চাঁদা প্রদানকারী জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীর তালিকা উদ্ধার হয়। গ্রেফতার হয় ছাত্রশিবিরের বনানী থানা শাখার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানসহ পাঁচজন। পরদিন ২১ জানুয়ারি লালবাগ থানাধীন ঢাকেশ্বরীতে বোমা তৈরির সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিউমার্কেট থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বাপ্পীর মৃত্যু হয়। আহত হয় তিনজন। ১৯ ফেব্রুয়ারি হাজারীবাগের একটি বাড়িতে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে নিহত হয় জসিম উদ্দিন নামে যুবদল নেতা। আহত হয় হাজারীবাগ থানা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু হোসেন ও তার ভাই জিসান।