২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশে খেলতে আসবে ভারতীয় ক্রিকেট দল

বাংলাদেশে খেলতে আসবে ভারতীয় ক্রিকেট দল
  • সাকিবের প্রত্যাশা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ জুনে বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ হবে? আইসিসির সাবেক সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামাল আইসিসি চেয়ারম্যান নারায়ণস্বামী শ্রীনিবাসনকে ‘যাচ্ছে তাই’ বলার পর বাংলাদেশে খেলতে আসবে ভারত ক্রিকেট দল? এ প্রশ্ন যখন চতুর্দিকেই ঘুরপাক খাচ্ছে, আইপিএল খেলতে এখন কলকাতায় থাকা বাংলাদেশ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আশা প্রকাশ করেছেন, ‘বাংলাদেশে খেলতে আসবে ভারত।’

আর একদিন বাকি। আজকের দিন যেতেই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) শুরু হয়ে যাবে বুধবার। প্রথমদিনেই বাংলাদেশ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) খেলতে নামবে। বর্তমান আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে লড়াই করবে। এ জন্য এখন কলকাতাতেই আছেন সাকিব। সেখান থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ নিয়ে নিজের আশার কথা জানিয়েছেন সাকিব। বলেছেন, ‘আমি এখনও আশাবাদী ভারতীয় দল বাংলাদেশে খেলতে যাবে।আশা করছি সব ঠিক থাকবে।’

শুধু বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ নিয়েই নয়, আইপিএলে নিজের দল নিয়েও জানিয়েছেন সাকিব। শুরুতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও ১১ এপ্রিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুরে বিপক্ষে ম্যাচ দুটি খেলতে পারবেন। এরপর দেশে ফিরে আসতে হবে। পাকিস্তানের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলবেন। সিরিজ খেলে শেষে আবারও দুটি ম্যাচ খেলতে পারেন। মাঝের সময়টায় সাকিবকে পাবে না কেকেআর।

কেকেআর কী এ সময়টাতে সমস্যায় পড়ে যাবে না? সাকিব বললেন, ‘আমি প্রথম দুটি ম্যাচ খেলব।দেশে ফিরে যেতে হবে।আশা করছি গ্রুপ লীগের শেষ দুটি ম্যাচ খেলার জন্য আবার কলকাতায় ফিরে আসতে পারব।এবার দেখা যাক পরে কী হয়। আমাদের দলে এতই ভারসাম্য রয়েছে তা অন্য অনেক দলেই নেই।আমি না থাকলে অসুবিধে হবে না।এত লম্বা টুর্নামেন্ট।আমাদের দলের ব্যাকআপ সবসময় তৈরি থাকে।’ সঙ্গে সাকিব এও জানিয়ে দিলেন, গত আসরে যেমন ঝলক দেখিয়েছেন; এবারও দেখাতে চান, ‘গতবার যেভাবে দলের স্বার্থে নিজেকে কাজে লাগিয়েছি এবারও সেই একইভাবে নিজেকে কাজে লাগাতে চাই।নিজের ছন্দ ধরে রাখার জন্য আমি মানসিকভাবে তৈরি।’

আইপিএলের সপ্তম আসরে কলকাতা নাইট রাইডার্স চ্যাম্পিয়ন হয়। সাকিব নির্ভরযোগ্য ভূমিকা রাখেন। ১৩ ম্যাচ খেলে ১১ ইনিংস ব্যাটিং করে ৩২.৪২ গড়ে ২২৭ রান করেন। আর বল হাতে ১১ উইকেট নেন। যেহেতু বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কেকেআর, তাই উদ্বোধনী ম্যাচ ও ফাইনাল ম্যাচটি এবার কলকাতার ইডেন গার্ডেনেই হবে। কলকাতা হোমে খেলবে আবার গ্রুপ পর্বের সাত ম্যাচ। কলকাতা দলটি যেহেতু স্পিন নির্ভর এবং ইডেন গার্ডেনে স্পিনারদের দাপটই থাকে বেশি, তাই হোমের ম্যাচগুলো জিততে পারলেই গ্রুপ পর্ব অতিক্রম করার আশা থাকছে। সাকিবও যেন তাই বোঝাতে চাইলেন। বললেন, ‘মানছি, আমাদের স্পিনার নির্ভর দল।অনেক স্পিনার রয়েছে। এর ফলে নিজেদের মধ্যে একটা স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতাও হয়ে থাকে।তবে আমাদের দলে পেসার মরনে মরকেল ও উমেশ যাদব রয়েছে।এবারের বিশ্বকাপে ওরা দুইজন খুব ভাল বোলিং করেছে।’

পরক্ষণেই স্পিনারদের দিকেই পুরোপুরি ঝুঁকে গেলেন সাকিব। লেগ স্পিনার চরমন্ন কারিয়াপ্পাকে ধরা হচ্ছে রহস্যময় স্পিনার। সাকিব তার সম্পর্কে বলেন, ‘ও (কারিয়াপ্পা) অনেকটা সুনীল নারাইনের মতো বোলিং করে।তরুণ প্রতিভা।পরিশ্রম করছে।আশা করছি সুযোগ পেলে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবে।’ আর নারাইনকে শেষমুহূর্তে পেয়েত দারুণ খুশি সাকিব, ‘নারাইন আমাদের দলের অন্যতম সদস্য।ও আমাদের প্রচুর সার্ভিস দিয়েছে।নারাইনের পরীক্ষায় পাস করাটা আমাদের দলের জন্য খুব জরুরী ছিল।ও খেলতে পারবে জানার পর সত্যি আমরা অনেকটা স্বস্তি পেলাম।’

সাকিব যে প্রথম দুটি ম্যাচ খেলবেন, দুটিই হবে ইডেন গার্ডেনে। ১০ মে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলা শেষ হলে ১৪ মে আবার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও ১৬ মে কেকেআরের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে খেলবেন। দুটি ম্যাচই হবে মুম্বাইয়ে। তবে সাকিব এখন প্রথম দুটি ম্যাচ নিয়েই ভাবছেন। বলেছেন, ‘শুরুটা ভাল করলে বাকি ম্যাচগুলো সহজ হয়ে যায়।প্রথম দুটি ম্যাচ আমরা গুরুত্ব দিয়েই মাঠে নামব।’ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দল মনে করে খেলতে নামলে চাপ থাকবেই। সাকিব এগুলো নিয়ে ভাবেন না। সাকিব আসলে ‘চাপ-টাপে’র বিষয় নিয়ে কোনদিনই ভাবেননি। তাই বলতে পারছেন, ‘এগুলো ভাবলে চাপ বাড়বে।ভাবছি না এভাবে।গত তিন-চার বছর ধরে নাইট রাইডার্স ধারাবাহিক ভাল খেলছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।’ এবারের আসরটি আইপিএলের অষ্টম আসর। ২০০৮ সাল থেকে শুরু হয় আইপিএল। সেই থেকে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্রথমবার ২০১২ সালে শিরোপা জিতে। দ্বিতীয়বার ২০১৪ সালে; গত আসরে। আর ২০১১ সালে সেমিফাইনাল খেলে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এছাড়া আর কোন বারই গ্রুপ পর্ব অতিক্রম করতে পারেনি। সাকিব অবশ্য কলকাতা নাইট রাইডার্সের দুইবারের শিরোপা জেতার সাক্ষী।