২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্যাম্পাস সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে

পুষ্পস্তবক অর্পণ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের নেতৃত্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি গত ৫ এপ্রিল ২০১৫ টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শিক্ষকরা বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করেন। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবদুল ওয়াদুদ বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফেতার এবং দেশ ও দশের শান্তি কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন। শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি ড. মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন, কোষাধ্যাক্ষ ড. আমিনুল হক, যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রউফ, সদস্য অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দিন, হাফিজুল ইসলাম, এবিএম আশরাফুজ্জামান, বিভাস কুমার সরকার, অনির্বাণ সরকার, নীল দলের যুগ্ম সম্পাদক মোস্তফা কামাল, সদস্য মহিউদ্দিন মাহী, খায়ের মাহমুদসহ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় শতাধিক শিক্ষক এই সময় উপস্থিত ছিলেন।

মো. আবুসালেহ সেকেন্দার

ড্যাফোডিল স্কুলে ডিজি প্রোগ্রাম চালু

সম্প্রতি ডিআইইউ মিলনায়তনে শিশুদের আন্তর্জাতিক কম্পিউটার প্রোগ্রাম ডিজি, এনসিসি এডুকেশন, ইউকে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে উদ্বোধন করা হয়েছে। ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান মোঃ সবুর খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও পাওয়ার এ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রটিশ কাউন্সিলের পরিচালক (এক্সাম) মি. ডিপ অধিকারী এবং এনসিসি এডুকেশন, ইউকের দক্ষিণ এশিয়া ব্যবসা উন্নয়ন ব্যবস্থাপক সঞ্জিব গণেশ। অন্যদের উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল এডুকেশন নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ নূরুজ্জামান, ডিআইআইটির পরিচাল রথীন্দ্র নাথ দাস, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ শাহানা খান ও সিনিয়র ভাইস প্রিন্সিপাল রাহিমাকে রোজম্যারী।

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক

প্রাচীন খলিফাবাদে

প্রতœতাত্ত্বিক মাঠকর্মে

সুলতান নাসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহের (১৪৩৫-৫৯) আমলে খান-উল-আযম উলুঘ খান-ই-জাহান (র.) সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে তোলেন ‘খলিফাবাদ’ রাজ্য। খানজাহান তার প্রশাসনিক রাজধানীতে শাসনকার্য পরিচালনা এবং বৈঠক করার জন্য একটি দরবার হল গড়ে তোলেন, যা ষাট গম্বুজ মসজিদ নামে পরিচিত। এর পরিকল্পনার সঙ্গে দিল্লী ও লাহোরের বাদশাহী মসজিদের মিল রয়েছে। মসজিদটিতে তুঘলকি ও জৌনপুরী নির্মাণশৈলী সুস্পষ্ট। একে কেন্দ্র করেই এ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয় শক্তিশালী একটি মুসলিম কমিউনিটি। যার অংশ হিসেবে আরও ছোট ছোট অসংখ্য মসজিদের সন্ধান পাওয়া যায়। যেসব মসজিদ একই সঙ্গে নামাজ, ইসলামী শিক্ষা, বিচারকার্য, সেনা চৌকি প্রভৃতির কাজে ব্যবহার করা হতো বলে ইতিহাসে জেনেছি।

প্রতœতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে পাঠ্য বইয়ের এ ইতিহাস অনেক পড়েছি এবং শুনেছি, কিন্তু সরাসরি পরিদর্শন করব না তা তো হয় না। ঠিক যে কথা সেই কাজ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা এক সকালে বেরিয়ে পড়ল বাগেরহাটের উদ্দেশে। দিনটি ছিল ২৮ মার্চের বৃহস্পতিবার। সঙ্গে ছিলেন বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মোকাম্মেল হোসেন ভূঁইয়া।

আমরা দু’দিন ধরে বাগেরহাটের খান জাহানের কীর্তিগুলো পরিদর্শন করলাম। কারণ এটা যে আমাদের ¯œাতক চতুর্থ বর্ষের মাঠকর্ম ছিল। ভাল করেই দেখতে হবে এবং জানতে হবে। কারণ পরে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। যেখানে নাম্বার বলে একটা বিষয় তো আছেই। সুতরাং সবাই খুব সতর্ক। প্রত্যেকটা পুরাকীর্তি দেখার সময় সঙ্গে থাকা বিভাগীয় সভাপতি বিভিন্ন বিষয় ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে দিচ্ছেন। কারও কিছু জানার থাকলে তার কাছে প্রশ্ন করে জেনে নিচ্ছেন অনেক।

একে একে আমরা পরিদর্শন করলাম- সবচেয়ে বড় মসজিদ ষাট গম্বুজ, নয় গম্বুজ মসজিদ, রেজা খোদা মসজিদ, দশ গম্বুজ মসজিদ, রণবিজয়পুর মসজিদ, চুনারখালী মসজিদ, সিঙ্গাইর মসজিদ, জিন্দাপীর মসজিদ ও মাজার, বিবি বেগুনি মসজিদ, খান জাহান আলীর মাজার, জিন্দাপীরের মাজার, পাগলাপীরের মাজার, খান জাহান আলীর মাজার, খান জাহান আলীর বসতভিটা, কোদলা মঠ প্রভৃতি।

আমরা বাগেরহাটের দশানিতে ধানসিঁড়ি নামক আবাসিক হোটেল এ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ছিলাম। সারা দিন ইজিবাইকে করে বিভিন্ন পুরাকীর্তি পরিদর্শন করে খাবার সময় হোটেলে ফিরে আসতাম। রাতে সম্মিলিতভাবে পর্যালোচনা পর্ব থাকত। বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর পর্বও থাকত। সামনে বসা থাকতেন বিভাগীয় সভাপতি। ক্লান্তি দূর করার জন্য সবশেষে থাকত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যেখানে রাইসুলের সুরেলা কণ্ঠ আর রায়হান, আসিফ ও মদিনা খাতুনের কৌতুক অভিনয়ের ফলে সারা দিনের ক্লান্তি ঘুচে সবার মন ফুর ফুরে হয়ে যেত।

মাহবুবের ক্যামেরার ক্লীকের আওতায় পড়ার প্রতিযোগিতা, ক্লান্তি, আড্ডা, সন্ধ্যারাতে বাগেরহাট শহর দেখা, গল্পের আসর, বিভাগীয় সভাপতির সঙ্গে চাচক্র, ষাট গম্বুজ মসজিদে জুমার নামাজ পড়া সবকিছু রেখে ফিরে আসতে হলো সবুজ ক্যাম্পাসে। কিন্তু এই দু’দিনের ভ্রমণের সবকিছু স্মরণীয় হয়ে থাকবে আজীবন।

ওয়ালীউল্লাহ মিঠু