২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মার্কিন ট্রেজারিতে জাপান এগিয়ে

সাম্প্রতিক সময়ে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি ও ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের মানের উর্ধগতির কারণে দেশটির বিনিয়োগকারীরা দেশের অভ্যন্তরেই বিনিয়োগ করছে, আর সে সুযোগে মার্কিন ট্রেজারিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীনকে টপকে গেল জাপান। ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মান দুর্বল হয়ে পড়ায় দেশটিতে বেশি করে মার্কিন মুদ্রা প্রবেশ করছে এবং এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জাপানী বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ট্রেজারিতে বেশি বিনিয়োগ করছে। ট্রেজারি ইন্টারন্যাশনাল ক্যাপিটাল কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ট্রেজারির বিল ও বন্ডে চীনের মোট বিনিয়োগ ছিল ১ দশমিক ২২৩ ট্রিলিয়ন ডলার অথচ গত বছর এই সময়ে তা ছিল ১ দশমিক ২৭৩ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে মার্কিন সরকারের সিকিউরিটিজগুলোয় জাপানের বিনিয়োগ বেড়ে ১ দশমিক ২২৪ ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছে যা এক বছর আগে ছিল ১ দশমিক ২১ ট্রিলিয়ন ডলার।

ভূরাজনৈতিক সঙ্কটে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার

বিশ্ব অর্থনীতির খোঁজখবর

বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা দিনকে দিন বেড়েই চলছে। আর এই বেড়ে চলা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশ্বে মুদ্রা বিনিময়ে যে ধারা সৃষ্টি হয়েছে তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সহায়ক হলেও কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে ভূরাজনৈতিক সঙ্কট। এমনটাই মনে করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। ভূরাজনৈতিক সঙ্কটের কারণেই বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছে এ সংস্থা। ভূরাজনৈতিক সঙ্কটের ক্ষেত্রে রাশিয়ার কথাই বার বার নিয়ে এসেছে আইএমএফ। তেল রফতানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল রাশিয়া তেলের অস্বাভাবিক দাম কমা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে সঙ্কটে। এটি ধারণা করছে যে দেশটির অর্থনীতি এ বছর ৩ দশমিক ৪ শতাংশ সঙ্কুচিত হবে। এছাড়া রাজনৈতিক কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকার প্রবৃদ্ধিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে। মধ্যপ্রাচ্যর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশ করেছে সংস্থাটি।

চীনের প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন

চীনের জন্য শঙ্কারই বিষয়টি। ছয় বছরের মধ্যে দেশটির প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন পর্যায়ে। জানুয়ারি-মার্চ এই প্রান্তিকে দেশটিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ শতাংশ যা ২০০৯ সালের বিশ্ব মন্দার পর সবচেয়ে কম। চীনে উত্তরোত্তর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেতে থাকলেও গত বছর হঠাৎ করেই ধাক্কা লাগে দেশটির অর্থনীতিতে। দেশটি গত বছর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। গত বছর দেশটির প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে তা আরও কমে ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হওয়ায় বেশ চিন্তায় পড়ে গেছেন অনেক চীনা অর্থনীতিবিদ। প্রথম প্রান্তিকের এই দুরবস্থায় বছরের বাকি সময় নিয়েও তাদের শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনাবিদদের আর্থিক ও মুদ্রা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এজন্য এখন অর্থনীতিবিদরা অতিরিক্ত প্রণোদনা দেয়া থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করছে, যাতে ঋণের পরিমাণ বেড়ে না যায়। তবে অনেক অর্থনীতিবিদই হতাশ নন। তাদের মতে প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ থাকা সত্ত্বেও চীনই বিশ্বে এখন সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি। প্রত্যাশার চেয়েও অধিক স্থিতিস্থাপকতার পরিচয় দিতে পেরেছে চীন।

ইব্রাহিম নোমান