২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গাইবান্ধায় যমুনার ভাঙ্গনে এলাকা বিপন্ন

  • বন্দর রক্ষা প্রকল্প পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা, ১৬ মে ॥ যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গন থেকে সাঘাটা থানা সদর রক্ষা প্রকল্পের কাজ গত পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। এ পর্যন্ত প্রকল্পটির মাত্র ৬০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অথচ দু’বছরের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল।

এদিকে নদী ভাঙ্গন রোধে গৃহীত এ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময় শেষ না হওয়ায় উদ্বিগ্ন দিন কাটাচ্ছে সাঘাটা বন্দরবাসী। বর্ষা এলে প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন স্থানে যমুনায় ভাঙ্গন শুরু হলে তাদের উদ্বিগ্নতা আরও বেড়ে যায়। ইতোমধ্যে যমুনার ভাঙ্গন এলাকা সাঘাটা থানা বন্দরের ২শ’ মিটারের মধ্যে এসে ঠেকে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে থানা বন্দর রক্ষায় প্রধান কার্যালয় জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানায়। এরপর উর্ধতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে পাউবোর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ২০১০ সালের ১৫ জুলাই ডিপিপি তৈরি করে তা অনুমোদনের জন্য ঢাকায় প্রধান দফতরে পাঠায়। নানা প্রক্রিয়া শেষে ওই বছরই একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। এ প্রকল্পের আওতায় সাঘাটার উত্তরে মুন্সিরহাট থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণে হলদিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কি.মি. এলাকাজুড়ে সিসি ব্লক দ্বারা যমুনা তীর সংরক্ষণ কাজ হাতে নেয়া হয়। এজন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয় ১৩৫ কোটি ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় যমুনা তীর সেøাপিং করে তাতে বালু, খোয়া এবং জিও টেক্সটাইল ফিল্টার ম্যাট্রেসিংয়ের পর তার উপর সিসি ব্লক স্থাপন করার কথা। স্থান বিশেষে ৫ মিটার থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত হয় এই সিসি ব্লক স্থাপনের অংশ। এর পর থেকে নদীর ভেতর পর্যন্ত ২৬ থেকে ৩০ মিটার অংশে বালুভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ও সিসি ব্লক স্থাপনের মাধ্যমে লাঞ্চিং এ্যাপ্রোন সম্পন্ন করার কথা। এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতির কারণে প্রকল্প এলাকায় মুন্সিরহাট সংলগ্ন হাসিলকান্দি এবং হলদিয়া ও চিনিরপটল এলাকায় নতুন করে যমুনা নদীর ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় নদী ক্রমান্বয়ে ভেতরের দিকে অর্থাৎ পশ্চিম দিকে ঢুকে পড়ছে। এতে প্রকল্পের ডিজাইন পরিবর্তনের পাশাপাশি আরও অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন দেখা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে প্রকল্পের সিসি ব্লক নির্মাণ নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রধান কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তোফায়েল হোসেনের নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স প্রকল্প এলাকায় এসে সিসি ব্লকের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এসব ব্লক বুয়েটে পরীক্ষার পর তা নদীবুকে ডাম্পিং করার নির্দেশ দেন। ফলে প্রকল্পের কাজ এখন থেমে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ মোট প্রকল্পের ৭০ ভাগ কাজের অগ্রগতি দেখালেও স্থানীয় বিভিন্ন মহলের মতে, কাজের অগ্রগতি হয়েছে সর্বোচ্চ ৬০ ভাগ।