১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যর্থ ব্যাঙ্কক সম্মেলন!

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া লোকদের অভিবাসন সমস্যাটি এখন ভীতিকর পর্যায়ে চলে গেছে। এই সমস্যাটির সমাধান কোন দেশের পক্ষেই এককভাবে সম্ভব নয়। এজন্য আঞ্চলিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। এই বাস্তবতায় শুক্রবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককে এই বিষয়ে বাংলাদেশসহ সতেরো দেশের প্রতিনিধি সম্মেলন হয়ে গেল। সম্মেলনে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর, আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা আইওএম, জাতিসংঘের অফিস অন ড্রাগস এ্যান্ড ক্রাইমের (ইউএনওডিসি) প্রতিনিধিরাও যোগ দেয়। তবে এই মুহূর্তে অভিবাসনের জন্য আলোচিত ‘রোহিঙ্গা’ ইস্যুটি স্থান পায়নি এতে। জানা গেছে, মিয়ানমারের একগুঁয়েমির কারণেই মূলত মানবপাচার ও অভিবাসন সঙ্কট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি স্রেফ এক আমলা পর্যায়ের বৈঠকে রূপ নেয়। দেশটির প্রতিনিধি বৈঠকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, প্রকৃত সমস্যা মানবপাচার; রোহিঙ্গা নয় এবং এর দায় মিয়ানমার নেবে না। ফলে সম্মেলনটি এক ধরনের ব্যর্থতায় রূপ নেয়। বিষয়টি দুঃখজনক। এভাবে সমাধানের লক্ষ্যে পৌঁছা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। সমস্যার মূলে যেতে না পারলে যে কোন সমস্যার সমাধান দুরূহ।

বিশ্বের গণমাধ্যমজুড়ে এখন বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মানবপাচার প্রসঙ্গটি। সম্প্রতি গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সঙ্কট মোকাবেলায় থাইল্যান্ড এ সম্মেলনের উদ্যোগ নেয়। সম্মেলনে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে কী কী উদ্যোগ নিয়েছে তা তুলে ধলে। মানবপাচার শূন্যের কোঠায় নামাতে চায় বাংলাদেশ। এ সমস্যা সমাধানে আঞ্চলিক সহযোগিতা চায় থাইল্যান্ডও। সমুদ্রপথে মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সম্মেলন শেষে ১৭টি প্রস্তাব ও সুপারিশের কথা উল্লেখ করা হয়। এগুলোকে তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এতে সাগরে ভাসমানদের রক্ষায় আঞ্চলিক উদ্যোগ গ্রহণ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান জোরদার, অভিবাসীদের ডাঙ্গায় সম্ভাব্য অবস্থানের স্থানগুলো চিহ্নিত করা ও তাদের যথার্থভাবে সহযোগিতার ব্যবস্থা করা, পাচারকারী ও অপরাধীচক্র মোকাবেলায় দেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে শক্তিশালীকরণ, পাচার বিষয়ে প্রত্যেক দেশে জাতীয় কন্টাক্ট পয়েন্ট চালু, আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবেলা কার্যক্রম জোরদার, স্থানীয় বাসিন্দাদের পাচারচক্র সম্পর্কে সচেতন করাসহ বৈধ, নিরাপদ ও সাধ্যের মধ্যে অভিবাসন উদ্যোগ জোরদারেরও সুপারিশ করা হয়েছে। অভিবাসীদের নিজ নিজ এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, অবকাঠামো জোরদার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সমস্যার মূল বাদ রেখে এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব? রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বরাবরই জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা দেশগুলো কার্যত নীরব। এরা রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি দেখালেও মিয়ানমার সরকারকে সোজাপথে আনতে পারেনি। এ ব্যাপারে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নমনীয় হতে চাপ দেয়া দরকার। তা না হলে সঙ্কটটি সবার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তবে এ কথা সত্য যে, একটি বৈঠকই অভিবাসন সঙ্কটের সমাধানে পৌঁছা সম্ভব নয়। সঙ্কট দীর্ঘদিনের। সমস্যার সমাধানে সম্মেলনে কী অর্জিত হয়েছে তা হয়ত এখন স্পষ্ট হবে না। তাই সাগরে ভাসমান অভিবাসন প্রত্যাশীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশ, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ এসেছে সেটাও কম প্রাপ্তি বলা যাবে না। এটা সূচনা ধরলেও বলা যায় সঙ্কট সমাধানের একটা সঠিক পথের সন্ধান মিলল। এখন দরকার প্রস্তাবিত সুপারিশগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন। সমস্যা যত প্রকট হোক, বিস্তৃত হোক তা সমাধান করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।