১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তুরাগ তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বিআইডব্লিউটিএ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তুরাগ তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিটিএ)। উচ্ছেদ অভিযানের সময় জানানো হয় ঢাকার চারটি মূল নদী দখল করে যেসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে, সেগুলো উচ্ছেদের জন্য নিয়মিতই অভিযান চলবে।

আমিনবাজার সার্কেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ঢাকা জেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে রবিবার বিরুলিয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আজ সোমবারও উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ সময় অবৈধ স্থাপনা সরাতে একদিন সময় দেয়া হয়েছে ‘মুক্তিযোদ্ধা পল্লী পুনর্বাসন প্রকল্পর কর্তৃপক্ষকে’। তবে বিরুলিয়া ব্রিজের গোড়ায় ঢাকা বিভাগ শ্রমিক লীগের নামে তোলা ঘরটিসহ আশপাশের সব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। ঢাকা ঘিরে থাকা চার নদীর তীর অবৈধ দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবে সাভারের তুরাগ নদের আশপাশে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়। উচ্ছেদ অভিযানে বিআইডব্লিউটিএ-এর পক্ষে যুগ্ম-পরিচালক মোঃ শহীদুল্লাহ অংশগ্রহণ করেন। মিরপুর বেড়িবাঁধ দিয়ে একটু এগোলেই চোখে পড়বে তুরাগ নদীর কূল ধরে চলছে বালু ফেলার মহোৎসব। কিছু দূর পরপর রয়েছে বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানির বিজ্ঞাপন। তারা সেখানে রেডিমিক্স তৈরির নামে দখল করেছে তুরাগের তীর। রবিবার ওই উচ্ছেদ অভিযানের শুরুতেই নদের মাঝখানে রাখা একটি সিমেন্ট কারখানার ড্রেজার সরিয়ে দেয়া হয়। ওই সিমেন্ট কারখানার একটি অংশ বর্ধিত করার জন্য নদীর ওপর বালি ফেলা হচ্ছিল। কারখানা কর্তৃপক্ষকে বালি ও নির্মাণ কাজের যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্বদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এরপর বিরুলিয়া ব্রিজের পাশেই নদের জমি দখল করে নির্মাণ করা ঢাকা বিভাগ শ্রমিক লীগের ছাপড়া ঘর উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু ‘মুক্তিযোদ্ধা পল্লী পুনর্বাসন প্রকল্প’ এবং প্রকল্পের নামে বঙ্গবন্ধু জামে মসজিদ নামে দুটি টিনের স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে অভিযান পরিচালনাকারীরা বাধা পান। এ সময় ‘মুক্তিযোদ্ধা পল্লী পুনর্বাসন প্রকল্প’টির উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয়দানকারী মোঃ আলী আজম নামে এক ব্যক্তি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমির কিছু কাগজপত্র দেখান। ম্যাজিস্ট্রেট কাগজ দেখে বলেন, ‘এগুলো সঠিক কাগজ না, এ স্থানটি পানি উন্নয়ন বোর্ড অধিগ্রহণ করেছে। অধিগ্রহণ করা জমি কেউ কারও নামে বরাদ্দ দিতে পারে না।’ এ সময় আলী আজম আবারও বলেন, ‘আমরা এখানে প্রকল্প করার জন্য ভূমিমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছি, ঢাকা জেলার এডিসিও বিষয়টি জানেন।’ ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘সেগুলোর কাগজ তো আপনি দেখাতে পারছেন না। আর এডিসি যদি অনুমতি দিতেন, সেটি আমার জানা থাকত। এ স্থানটিতে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করতে দেয়ার কোন সুযোগ নেই। আইনত এটি অসম্ভব। এখানে যে কোন ধরনের স্থাপনা তৈরির ক্ষেত্রে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।’

পুনর্বাসন প্রকল্পের টিনের স্থাপনাটি থেকে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দুটি সরিয়ে ফেলার জন্য ১০ মিনিট সময় দেন ম্যাজিস্ট্রেট।

এ সময় আলী আজম বারবার স্থাপনা না ভাঙার অনুরোধ করতে থাকেন। অবশ্য শেষ পর্যন্ত আলী আজমের অনুরোধে সোমবার দুপুর পর্যন্ত সময় দেন। আলী আজমও দুপুরের মধ্যে সমস্ত স্থাপনা নিজেরাই সরিয়ে নেবেন বলে কথা দেন। পরে ম্যাজিস্ট্রেট ফারুক আহমেদ বলেন, সোমবার দুপুর ২টার পরে যদি এখানে কোন স্থাপনা থাকে সেগুলো গুঁড়িয়ে দেয়া হবে। পরে তিনি বলেন, যেহেতু মসজিদ একটি স্পর্শকাতর বিষয়, তাই উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করাটাও দরকার। বিআইডব্লিউটিএ-এর যুগ্ম-পরিচালক মোঃ শহীদুল্লাহ বলেন, জমি ওয়াকফ করাসহ যেসব বিধিবিধান মেনে মসজিদ করতে হয়, এই মসজিদটির সেসব কিছুই নেই।