০৭ জুলাই ২০১৫

উত্তরের বগুড়া এখন মার্কেট শপিংমল শোরুমের নগরী

সমুদ্র হক ॥ ঈদের কেনাকাটাতেও রকমফের ঘটেছে। সেখানেও যোগ হয়েছে প্রযুক্তি। একটা সময় ঈদের দিন কয়েক আগে লোকজন দল বেঁধে হুমড়ি খেয়ে পড়ত দোকানগুলোতে। আর মার্কেট বলতে ঢাকার বাইরে জেলা শহরগুলোতে নিউমার্কেট এবং কাছাকাছি এলাকায় হাতেগোনা কয়েকটি মার্কেট। এর বাইরে কেনাকাটায় পথের ধারে পসরা নিয়ে বসে থাকা দোকানি। দিনবদলের পালায় সব কিছুরই পরিবর্তন এসেছে। ঈদের দিনের সকল সাজ সজ্জার প্রস্তুতির পালাবদল হয়েছে। একবিংশ শতকের এক দশক অতিক্রম করে দ্বিতীয় দশকের মধ্যভাগের চিত্রÑ রমজান শুরুর কিছুটা আগেই মার্কেটগুলোতে ঢেউ পড়ে যায়। আর রমজান শুরু হওয়া মানেই ঈদের ঘণ্টা বেজে ওঠা। একটা সময় মার্কেটগুলো ঈদের কেনাকাটায় সরব হয়ে উঠতে রমজানের অর্ধেকেরও বেশি সময় চলে যেত। বর্তমানে তা রিভার্স হয়েছে। প্রতিটি আধুনিক বিপণি, শোরুম, বহুতল ভবনে প্লাজা নামের শপিংমল ও ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ঈদ মুবারক ব্যানার টানা হয় রমজানের শুরুতেই। এখন ঈদের চাঁদ না উঠতেই প্রায় এক মাস আগেই স্টেরিও সাউন্ডে বাজে ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ...’। কে কত ডিসকাউন্ট দিতে পারে সেই প্রতিযোগিতার সঙ্গে ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি (একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি)’ ক্যাম্পেনের ধাক্কায় কিছুটা সাশ্রয়ের আশায় মধ্য-বিত্তরা শপিংয়ে বের হন। তবে দিনকয়েক যেতেই এই রেশ মিলিয়ে যায়। ঈদের কেনাকাটায় সাধারণ মানুষকে ঘর থেকে বের করে কেনাকাটায় উদ্বুদ্ধ করেই ঈদের দাম হাঁকার পালা শুরু হয়। কে যে কত শতাংশ হারে দাম বাড়াচ্ছে তার হিসাব থাকে না। ততদিনে রবীন্দ্র সঙ্গীতের ‘বেলা যে যায় সাঁঝ বেলাতে সুরে সুরে সুর মেলাতে....’ সুর দূরে থেকে দ্রুত কাছে ভেসে আসতে থাকে। কেনাকাটার সুরে সুরে সুর মেলাতেই ব্যস্ত এখন প্রতিটি বাড়ি। উত্তরাঞ্চলের মধ্য শহর বগুড়া বর্তমানে মার্কেট, শপিংমল আর শোরুমের নগরীতে পরিণত হয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে চারধারে বিভিন্ন পয়েন্টে গুচ্ছগ্রামের মতো গুচ্ছ মার্কেটে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে জলেশ্বরিতলায় শহীদ আব্দুল জব্বার সড়কের দুই ধারে, রোমেনা আফাজ সড়কের দুই ধার থেকে নবাববাড়ি সড়কের দুটি আধুনিক বিপণি ও নিউমার্কেট মধ্যরাত পেরিয়ে বেলা দেড়টা দুইটা নাগাদ খোলা থাকছে। দোকানিরা বলছেন দিনভর শহরের ট্রাফিক জ্যামে ও বাইরে থেকে আসা হাজারো মানুষের চাপ সামলে উঠতে না পেরে শহরের মানুষ রাতের সময়টা বেছে নিয়েছে।

শোরুমগুলোতে বাহারি ডিজাইনের এতই থ্রিপিস টুপিস এসেছে যে তরুণীরা পছন্দ করতেই হিমশিম খেয়ে যায়। কয়েক তরুণী বলল এখন আর একদিনে পছন্দ করা যায় না। কয়েকটি শোরুম ঘুরে বাড়িতে গিয়ে ভাইবোন আত্মীয় স্বজন মিলে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। প্রযুক্তির এই যুগে পছন্দের জন্য স্মার্টফোনে ছবি তুলে মাল্টি মিডিয়া সার্ভিসের (এমএমএস) মাধ্যমে তা পাঠিয়ে দূরে থাকা ভাইবোন স্বজন বন্ধু-বান্ধবদের মতামত নেয়া হয়। এমনও হচ্ছে এসব ছবি ঢাকায় স্বজনদের পাঠিয়ে এর চেয়ে ভাল আছে কি না খোঁজ করা হয়।