২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রোজা রেখে খালেদা জিয়া প্রতিদিনই মিথ্যা কথা বলছেন ॥ সৈয়দ আশরাফ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দফতরবিহীন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, রোজা রেখে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া প্রতিদিনই মিথ্যা কথা বলছেন। রোজা রেখে মিথ্যা বললে রোজা হয় না। নির্বাচনে না এসে সংঘাতের মাধ্যমে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে যে গুরুতর অন্যায় উনি করেছেন, এ পাপের প্রায়শ্চিত্ত তাঁকে করতেই হবে। বাংলার মাটিতে তাঁর বিচার হবেই। একবার মিথ্যা বলে পার পেতে পারেন। কিন্তু বার বার পাবেন না।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবলীগের ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। ইফতার শেষে তাঁকে দফতরবিহীন করার প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে এ ব্যাপারে কোন কথা না বলেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন সৈয়দ আশরাফ।

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, এখনও সময় আছে গণতন্ত্রের পথে আসুন, নির্বাচনের পথে আসুন। নির্বাচনে না আসলে গণতন্ত্র হবে না। গণতন্ত্র একটি চলমান প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোকে চলতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় না চললে দেশে রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে না। তা না হলে দেশে অশুভ শক্তি আসতে পারে।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের আইয়ুব খানের আমলে কারফিউ-এর মধ্যেও আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। পরে জিয়াউর রহমান ও এরশাদের স্বৈরশাসনের মধ্যেও সব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিয়েছে। খালেদা জিয়া নির্বাচনে আসতে চান ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য, তা হয় না। নির্বাচনে আওয়ামী লীগও জিততে পারে, আবার বিএনপিও জিততে পারে। যে কোন দল হারতে পারে। রাজনীতিতে কথায় কথায় মিথ্যাচার করে কোন লাভ হবে না।

সৈয়দ আশরাফ বলেন, রোজা রেখে মিথ্যা কথা বললে রোজা হয় না। বিএনপি নেত্রীকে ইফতার পার্টিতে একটা সত্য কথা বলতে শুনিনি। একটা মিথ্যা কথা বার বার বললে সত্য হয়ে যায়। কিন্তু এক সময়ে মিথ্যা মিথ্যাই, সত্য সত্যই। তিনি (খালেদা জিয়া) রোজাও রাখেন, আবার মিথ্যাও বলেন। একজন মুসলমান রোজা রেখে মিথ্যা কথা বলতে পারেন না। তাহলে রোজা কবুল হয় না। আপনি (খালেদা) আল্লাহরওয়াস্তে রোজার মাসে মিথ্যাচার পরিহার করুন। জ্বালাও-পোড়াও বন্ধ করুন। তাহলে এই দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন আসবে। জ্বালাও-পোড়াও করলে এই দেশেরই ক্ষতি হবে। রোজা রমজানের দিনে আপনাদের কাছে বলতে চাই, আর যেন একজন মানুষ রাজনৈতিক কারণে হত্যা না হয়।

তিনি যুবলীগের উদ্দেশে বলেন, যুবলীগ যুবকদের রাজনৈতিক দল। অত্যন্ত দক্ষ সংগঠন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক সঙ্গে কাজ করছে। এ কারণেই আমরা বার বার যুবলীগের সভায় আসি। আমি যুবলীগকে আওয়ামী লীগের পরেই বলি। আপনারই আমাদের ভবিষ্যত।

যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাতের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারুনুর রশিদ। উপস্থিত ছিলেন মাহবুবুর রহমান হিরণ, ফারুক হোসেন, মজিবুর রহমান চৌধুরী, এ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন, নুরুন্নরী চৌধুরী শাওন এমপি, আবদুস সাত্তার মাসুদ, অধ্যাপক এবিএম আমজাদ হোসেন, ডাঃ মোখলেসুর রহমান হিরু, মহিউদ্দিন মহি, সুব্রত পাল, নাসরিন জাহান, আসাদুল হক আসাদ, নবী নেওয়াজ, মাঈনুল হোসেন খান নিখিল, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, মিজানুল ইসলাম মিজু,তাজউদ্দিন আহমেদসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতারা।