২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গুণগত মান পরিবর্তন করে সংস্কার হচ্ছে এডিপি

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ শক্তিশালী হচ্ছে দেশের অর্থনীতির ভিত। সক্ষমতা বাড়ছে সরকারের। সেই সঙ্গে বাড়ছে সরকারী বিনিয়োগও। বড় হচ্ছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি)। চলতি অর্থবছরে (২০১৫-১৬) ১ লাখ কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়ন করতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এর বাস্তবায়ন নিয়ে। শুধু টাকা ব্যয় করে বাস্তবায়নের আকার বাড়ানোই কি যথেষ্ট? নাকি প্রকল্পের গুণগত বাস্তবায়ন অপরিহার্য। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সামনে চলে আসছে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সক্ষমতা এবং বর্তমান কাঠামো ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টি। গবেষণা সংস্থা, অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে উন্নয়ন সহযোগীরা পর্যন্ত যখন এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় সরব সেই সময়ে বাস্তবতার কারণেই অবশেষে সংস্কার হচ্ছে এডিপি বাস্তবায়নে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন এই অর্থবছর থেকেই এই সংস্কারের ফল পাওয়া শুরু হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের কাজ। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এর আগেই বলেছেন, আমাদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সরকারী ব্যয়ের বিদ্যমান শ্রেণী বিন্যাসকরণ, কাঠামোর সংশোধন এবং তার সফল বাস্তবায়ন। সময়ের পরিক্রমায় উৎপাদন প্রযুক্তি ও পণ্যের চাহিদায় পরিবর্তন আসে। ফলে অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বিদ্যমান ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি প্রচলিত বিধিবিধান ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোরও সংস্কার প্রয়োজন। বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সংস্কার করা হচ্ছে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে উল্লেখযোগ্য যেসব বিষয়ে সংস্কার আনা হচ্ছে সেগুলো হচ্ছে, ২৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্প গ্রহণ করতে গেলে অবশ্যই আগে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর বার্ষিক পারফরমেন্স প্রতিবেদন তৈরি করা। নতুন প্রকল্প গ্রহণের চেয়ে সমাপ্ত প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ানো। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তৃতীয় কিস্তির অর্থ ছাড়ের অনুমোদনের নিয়ম বাতিল। দক্ষ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা। বছরের শুরুতেই মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর বড় প্রকল্পগুলো এক সঙ্গে অনুমোদন দেয়া। পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম বা দুর্নীতি পাওয়া যাবে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিও লেটার দেয়া। পরবর্তীতে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তার ফলোআপ করা। প্রকল্পের বাস্তবায়ন গভীরভাবে মনিটরিং করতে প্রজেক্ট মনিটরিং এ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (পিএমআইএস) নতুন ডাটা সিস্টেম স্থাপন। প্রকল্প পরিদর্শন প্রতিবেদন ওয়েবসাইটে প্রকাশ করাসহ অবকাঠামো ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্কার আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এডিপিতে বেশ কিছু সংস্কার আনা হচ্ছে। বিশেষ করে ২৫ কোটি টাকার বেশি প্রকল্পে ফিজিবিলিটি স্টাডি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এটি ভাল দিক। এ ছাড়া বার্ষিক পারফরমেন্স প্রতিবেদন এক্ষেত্রে শুধু অর্থ ব্যয়ই নয়, মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পের বাস্তবায়নের বিষয়টি থাকবে যা অত্যন্ত ইতিবাচক। সরকারী ব্যয়ে পরিবর্তন আনার বিষয়টি ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে মাত্র ৪১টি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অধিক নতুন প্রকল্প গ্রহণের চেয়ে প্রকল্প সমাপ্ত করার দিকে বেশি নজর দেয়া হচ্ছে। এগুলো ভাল লক্ষণ।

সূত্র জানায়, উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে শুধু বাজেট বরাদ্দ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন এর দক্ষ ও কার্যকর বাস্তবায়ন। উপরন্তু সরকারী ব্যয়ের ফলাফল জানতে দরকার পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন। এ লক্ষ্যকে সমানে রেখে সরকার ইতোমধ্যেই উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনে পদ্ধতি সংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জবাবদিহিতাও বাড়ানো হচ্ছে। এডিপি সংস্কার বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল জনকণ্ঠকে বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এডিপির বাস্তবায়ন বাড়াতে ব্যাপক সংস্কার আনা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কাঠামোগত সংস্কার। তাছাড়া সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হচ্ছে বছরের শুরুতেই মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর বড় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেয়া হবে। আগস্ট মাসের মধ্যেই যাতে অনুমোদন দেয়া যায় সেটি ভাবা হচ্ছে। কেননা অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টারেই অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ করলে সারা বছর জুড়েই মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো পরিকল্পনা মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চালাতে পারবে। ফলে অর্থবছর শেষে একবারেই এত টাকা ব্যয় কেন হচ্ছে, এসব প্রশ্ন আর শূনতে হবে না। এ ছাড়া প্রকল্পের গুণগত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে আমি নিজেই মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো পরিদর্শন করছি। ফলে ওই সমস্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সমস্যা কি তা জেনে সে অনুযায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।

ইতোমধ্যেই মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো পরিদর্শনের কাজও শুরু করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী। গত বৃহস্পতিবার আইসিটি বিভাগ পরিদর্শন করেছেন তিনি। এ সময় মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর বিষয়ে অবহিত হয়েছেন আহম মুস্তফা কামাল। এ সময় মন্ত্রী বলেন, জরুরী প্রকল্প বছরের শেষে অনুমোদন দিলে অনেক সময় প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এবং ক্ষেত্র বিশেষে প্রকল্প বাস্তবায়ন কষ্টসাধ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তাই বছরের প্রথম দিকেই প্রকল্প অনুমোদন দেয়া জরুরী। এতে সময়ের অপচয় রোধ হওয়ার পাশাপাশি যথাযথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (আরএডিপি) বাস্তবায়িত হয়েছে ৬৭ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৬৬ শতাংশ। শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হলে এক মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে ৩৩ শতাংশ। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হিসাব থেকে পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল জানান, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে মোট ব্যয় হয়েছে ৫১ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজেস্ব তহবিল থেকে ৩২ হাজার ৮৭২ কোটি, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১৭ হাজার ৫৯ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজেস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ৬৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। অন্যদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ে মোট ব্যয় হয়েছিল ৪২ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, নতুন অর্থবছর থেকে এডিপি বাস্তবায়নে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যাতে সর্বোচ্চ এডিপি বাস্তবায়ন হয়। তিনি জানান, অর্থবছরের প্রথম তিন মাস প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা যায় না। এটি বাস্তবতা ও যুক্তিসঙ্গত। পরবর্তীতে ওই তিন মাসের কাজ মেকাপ করতে গিয়ে অর্থবছরের শেষ দিকে বাস্তবায়ন বেশি মনে হয়।

বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সূত্র জানায়, অর্থবছরের ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন ৫০ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়নে নিচে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ১৪ শতাংশ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৯ শতাংশ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৩৪ শতাংশ, শিল্প মন্ত্রণালয় ৩৯ শতাংশ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ৪১ শতাংশ, সেতু বিভাগ ৪৪ শতাংশ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ৪৬ শতাংশ ভূমি মন্ত্রণালয় ৪৬ শতাংশ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৪৭ শতাংশ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ৪৯ শতাংশ।

এডিপির শক্তিশালী নজরদারি এবং মূল্যায়ন বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার জানান, প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিবিড় করতে নতুন ডাটা সিস্টেম স্থাপন করা হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি স্থাপনের কাজ শেষ হবে। ফলে জানুয়ারি থেকে মাঠ পর্যায় ভিডিও কনফারেন্সিং চালু হবে। প্রকল্প পরিচালকদের জন্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সরাসরি কথা বলতে পারবেন। তাছাড়া এর মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক এবং মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা স্ব-স্ব অবস্থানে থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত এন্ট্র্রি দিতে পারবেন এবং মনিটরিং কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকল্পের অগ্রগতি পরিবীক্ষণসহ বাস্তবায়ন পরবর্তী মূল্যায়ন সহজতর হবে। তিনি আরও জানান, প্রকল্প মূল্যায়ন প্রতিবেদনে যেসব প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি পাওয়া যাবে সেসব প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের ডিও লেটার দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই অনেক প্রকল্পের বিষয়ে ডিও লেটার দেয়া হয়েছে। এর পর ফলোআপ করা হবে। কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা। ফলে প্রকল্পের মনিটরিং আরও জোরদার হবে।

সূত্র জানায়, এডিপি বাস্তবায়নের নানা মারপ্যাঁচে নতুন এডিপির ঘারে চেপেছে ২০৯ মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পের বোঝা। ১ জুলাই হতে শুরু হওয়া ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এসব প্রকল্পের ঘানি টানতে হবে সরকারকে। বলা হয়েছে অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) এবং কারিগরি প্রকল্প প্রস্তাব (টিপিপি) অনুযায়ী এসব প্রকল্প ২০১৫ সালের জুনের মধ্যে সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা হয়নি। ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ এ প্রকল্পগুলোকে তারকা চিহ্ন দিয়ে নতুন এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করেছিল পরিকল্পনা কমিশন। এই প্রকল্পগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়া অর্থছাড় কিংবা ব্যয় করা যাবে না বলে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এসব সুপারিশ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অর্থবছরে প্রকল্প বাস্তবায়ন বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোন ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে কাজ নেয়ার সুযোগ বন্ধ করা হবে। একই ঠিকাদার বিভিন্ন নামে কাজ নিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের দু’-একটি ঘটনার জন্য বিশ^ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। অনেকে প্রকল্পের গাড়ির সুযোগ-সুবিধা নিতে দফায় দফায় সংশোধন করে। নতুন অঙ্গ যুক্ত করে প্রকল্পের অর্থ ও মেয়াদ বাড়ায়। এগুলো সবই ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে করা হয়। এর আগে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের (২০১৪-১৫) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে (এডিপি) ৩০৮টি মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এই অর্থবছর এর পরিমাণ প্রায় ১০০টির মতো কমলেও সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পের বিষয়ে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, কিছু ক্ষেত্রে এসব প্রকল্প নতুন এডিপির ঘারে বাঝা হিসেবে দেখা দেয়। তাছাড়া ২০১৫ সালের জুনের মধ্যে শেষ না হওয়ার বিষয়টিও তো এক ধরনের ব্যত্যয়। কারণ কেন প্রকল্পগুলো লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শেষ হলো না। এগুলোর অনেক প্রকল্প শেষ না হওয়ার যৌক্তিক কারণও থাকে। আবার অযৈাক্তিক কারণও রয়েছে। অর্থবছরের শুরুতেই প্রকৃত কারণগুলো খুঁজে বের করে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। বিশেষ করে সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করা দরকার। কেন শেষ হয় না, তাদের সীমাবদ্ধতা কতটুকু ইত্যাদি বিষয় আলোচনা হলে তাহলে এক ধরনের জবাবদিহিতা তৈরি হবে। তখন দেখা যাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি আসবে।

এডিপি সংস্কার বিষয়ে পরিকল্পনা সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আজম বলেন, কাঠামো পরিবর্তনের কাজ চলছে। কোন কোন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হবে সেগুলো এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। তাই এ মুহূর্তে কিছুই বলা যাচ্ছে না।