২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রেকর্ড গড়েই ম্যানসিটিতে স্টার্লিং

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ মাত্র বিশ বছর বয়স। এই সময়েই পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে এলেন রাহিম স্টার্লিং। ইংলিশ ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে দামী খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিলেন তিনি। এই জন্য ম্যানসিটিকে গোনতে হয়েছে ৪৯ মিলিয়ন পাউন্ড। লিভারপুলের সঙ্গে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি ছিল তরুণ প্রতিভাবান এই ফুটবলারের। কিন্তু সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই বছর আগেই অলরেডদের সঙ্গে চুক্তি শেষ করলেন তিনি। অল রেডদের জার্সি গায়ে ১২৯ ম্যাচে ২৩ গোল করেছেন স্টার্লিং। এর আগে সবচেয়ে দামী ইংলিশ খেলোয়াড় ছিলেন এ্যান্ডি ক্যারোল।

গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার মৌসুমে এবার হাত গুটিয়েই বসে ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। তবে রবিবারই মহাচমক দিয়ে হাজির হয় ২০১৪ সালের প্রিমিয়ার লীগের চ্যাম্পিয়নরা। ট্রান্সফার ফি’র ক্লাব রেকর্ড ভেঙ্গে লিভারপুল থেকে স্টার্লিংকে নিয়ে এলেন তারা। ২০ বছর বয়সী ইংলিশ মিডফিল্ডারকে কিনতে রেকর্ড ৪৯ মিলিয়ন পাউন্ড (৭৬ মিলিয়ন ডলার) গোনতে হলো ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির দলের। স্টার্লিংয়ের দল বদলের বিষয়ে এদিনই সমঝোতায় পৌঁছেছে দুই ইংলিশ জায়ন্ট। স্বাস্থ্য পরীক্ষার আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার সব ধরনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় তাদের। লিভারপুল ছেড়ে স্টার্লিংয়ের সিটিতে যোগ দেয়ার গুঞ্জনটা নতুন নয়। গত মৌসুমের শেষ মুহূর্ত থেকেই বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল এই গুঞ্জন। সিটির প্রস্তাবকে দু’বার লিভারপুল ফিরিয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত গুঞ্জনই বাস্তবে পরিণত হলো। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বছর দুয়েক আগেই অলরেডদের সঙ্গে সম্পর্কের বাঁধন ছিন্ন করে সিটিজেন হয়ে গেলেন স্টার্লিং। সেই সঙ্গে গড়লেন নতুন এক মাইলফলক। তিনিই এখন ইংল্যান্ডের সর্বকালের সবচেয়ে দামী ফুটবলার! এর আগে ইংলিশ ফুটবলারের সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফির রেকর্ডটি ছিল এ্যান্ডি ক্যারলের (৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড)। ম্যানসিটিও ভেঙ্গেছে নিজেদের ট্রান্সফার ফির রেকর্ড। এতদিন ম্যানসিটির সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় ছিলেন আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার সার্জিও এ্যাগুয়েরো। ৩৮ মিলিয়ন পাউন্ড ট্রান্সফার ফি নিয়ে সবার উপরের জায়গাটা দখল করে রেখেছিলেন তিনি। সেই রেকর্ডটিও এখন স্টার্লিংয়ের দখলে। তবে একজন উঠতি তারকার পেছনে ৪৯ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগকে অনেকেই বাড়াবাড়ি বলছেন।

লিভারপুলের হয়ে ১২৯ ম্যাচে ২৩ গোল আর ইংল্যান্ডের হয়ে ১৬ ম্যাচে এক গোল। তাতেই হুজুগে ইংলিশ মিডিয়া মহাতারকা বানিয়ে দিয়েছে স্টার্লিংকে! এ নিয়েই ইংলিশ সংবাদ মাধ্যমে এখন আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। প্রথম দিকে ম্যানচেস্টার সিটি ০ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব দিয়েছিল লিভারপুলকে। কিন্তু সেই প্রস্তাবকে ফিরিয়ে দিয়েছিল অলরেডরা। কিন্তু স্টার্লিং দল বদলের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। আর এ কারণেই শেষ পর্যন্ত রাজি হতে হয় অলরেডদের। শুধু তাই নয়, অনুশীলন বয়কট করায় ক্ষুব্ধ সমর্থকরাও তাকে বিদায় কারে দেয়ার দাবি জানিয়েছিল। এরপরই এশিয়া সফরের দল থেকে স্টার্লিংয়ের নাম বাদ দিয়ে দেয় ব্রেন্ডন রজার্স। এর পরেই বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যায় যে লীগের অন্যতম সফল দল ম্যানচেস্টার সিটিতে যাচ্ছেন স্টার্লিং।

নতুন ক্লাবে যোগ দেয়ার পর থেকেই রোমাঞ্চিত এই ইংলিশ ফুটবলার। সিটির হয়ে মাঠে নামতে যেন তর সইছে না তার। সিটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেয়া এক সাক্ষাতকারে স্টার্লিং বলেন, ‘আপনার পাশে যত বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন খেলোয়াড় থাকবে। ততই আপনার পারফর্মেন্সের উন্নতি ঘটবে। তাই তাদের সঙ্গে খেলার তর সইছে না আমার।’ ২০১২ সালেই লিভারপুলের জার্সিতে অভিষেক। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিজেকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এর পেছনে ভূমিকা ছিল লিভারপুলের অভিজ্ঞ কোচ ব্রেন্ডন রজার্সের। তাই স্টার্লিং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তার কাছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ব্রেন্ডন রজার্সকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। কেননা তিনিই আমাকে সিনিয়র দলে খেলার সুযোগ করে দিয়েছিলেন এবং সেখানে আমার প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পেয়েছিলাম।’

নির্বাচিত সংবাদ