২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করতে চাই ॥ ওম

টালিউডের সুদর্শন অভিনেতা ওম। ‘কালিমপ-ে সীতাহরণ’ ও ‘এ্যাকশন’ নামে দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে জয় করে নিয়েছেন এপার বাংলা ও ওপার বাংলার চলচ্চিত্র প্রেমিকদের মন। কিন্তু এখানেই ক্যারিয়ারের শেষ নয়। আরও সাফল্য জীবনের ক্যারিয়ারে যোগ করে নিতে চান এ্যাকশন হিরো খ্যাত এই অভিনেতা। আর তাইতো এবার নতুন রূপে হাজির হয়েছেন বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার ‘অগ্নি-২’ চলচ্চিত্রে । এবার ঈদ-উল-ফিতরে মুক্তি পাচ্ছে চলচ্চিত্রটি। দুই বাংলার চলচ্চিত্রে ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই চলচ্চিত্রটি যৌথভাবে প্রযোজনা করছে বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়া ও ভারতের এসকে মুভিজ। চলচ্চিত্রটি পরিচালনাও করেছেন যৌথভাবে বাংলাদেশের ইফতেখার চৌধুরী ও ভারতের হিমাংশু। চলচ্চিত্রের প্রচারে সম্প্রতি ঢাকায় আসেন ওম। বিএফডিসির প্রজেকশন হলে কথা চলচ্চিত্র নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয় ।

‘অগ্নি-২’ চলচ্চিত্রে কাজ করার অনুভূতি কেমন?

ওম : আমি খুবই এক্সাইটেড। আমার ক্যারিয়ারে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে এতে নায়ক হিসেবে কাজ করে। আমি আগে থেকেই আশাবাদী এ চলচ্চিত্রের সাফল্য আসবেই, কারণ এর আগে কলকাতা বা বাংলাদেশে এ ধরনের চলচ্চিত্র তৈরি হয়নি বলে আমার ধারণা।

নায়িকা নির্ভর এচলচ্চিত্রে আপনার ভূমিকা কেমন?

ওম : নিশ্চয়ই জানেন, এ চলচ্চিত্রে নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন মাহিয়া মাহি। এটি লেডি এ্যাকশন টাইপের চলচ্চিত্রের। নায়িকা কেন্দ্রিক হলেও আমার অভিনয়ের অনেক সুযোগ রয়েছে। এতে নায়কের অভিনয়ের অনেক ভ্যারিয়েশন আছে। আমি যদি সেগুলো করার সুযোগ পাই কেন করব না। চিত্রনাট্যকার আমার চরিত্রটিতেও অভিনয়ের পর্যাপ্ত সুযোগ রেখেছেন। চলচ্চিত্রটি দেখলে কখনও মনে হবে না এটি কেবল মাহির একার। মাহির পরিপূরক হিসেবে না, আমার চরিত্রটিকেও পরিচালক স্বতন্ত্রভাবে উপস্থাপন করেছেন।

পরবর্তীতে এ দেশের অন্য চলচ্চিত্রে কাজ করার ইচ্ছা আছে কি?

ওম : অবশ্যই, কেন নয়? আমি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করতে চাই। ইতেমাধ্যে আরও কয়েকটি চলচ্চিত্রে কাজ করার কথা চলছে কিন্তু এখনও চূড়ান্ত নয়।

বাংলাদেশের পরিচালকের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

ওম : আমার কাছে অন্যরকম এক ফিলিং কাজ করেছে, ইফতেখার ভাইয়ে পরিচালনায় কাজ করে। তিনি অভিনয়ের দিক থেকে এক চুলও ছাড় দেননি। প্রতিটি দৃশ্যে, এ্যাকশন কিংবা গান সবকিছুই নিখুঁতভাবে পরখ করেছেন। বিশেষ করে এ্যাকশনের দৃশ্যগুলো চমৎকারভাবে দেখিয়েছেন। এত যতœ নিয়ে দৃশ্যগুলোকে ধারণ করেছেন চলচ্চিত্রটি না দেখলে বিশ্বাস হবে না।

বাংলাদেশের অভিনেত্রীকে কেমন মনে হয়েছে?

ওম : মাহি কিন্তু অসাধারণ এক হিরোইন। শূটিংয়ের অবসরে তাকে অনেক দুষ্টুমি করতে দেখতাম। কিন্তু যখন ক্যামেরা ওপেন হতো তখন সে খুব সিরিয়াস। প্রতিটি শটেই ও সিরিয়াসলি কাজ করত। এমন অভিনয় পাগল মেয়ে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে খুব কম দেখা যায়। এ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে তার অভিনয়ে আমি মুগ্ধ। একজন ছেলের পক্ষে যেসব দৃশ্যে অভিনয় করা রীতিমতো কষ্টকর, মাহি সেসব দৃশ্যে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছে।

টালিগঞ্জ ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের পার্থক্য কি?

ওম : তেমন কোন পার্থক্য খুঁজে পাই না। তবে চলচ্চিত্র কেমন হবে, এটা নির্ভর করে পরিচালকের চিন্তাধারার ওপর। আমার মনে হয় ওপার বাংলা এবং এপার বাংলায় বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে অনেক মিল রয়েছে। ঈদ-উল-ফিতরে বাংলাদেশে মুক্তির পরই ভারতে মুক্তি দেয়া হবে ‘অগ্নি-২’। কলকাতার দর্শক মৌলিক গল্পকে প্রাধান্য দেয়। আমি মনে করি ‘অগ্নি-২’ যেহেতু মৌলিক গল্পের এক চলচ্চিত্র। এটা দু’দেশেই দর্শকপ্রিয়তা পাবে।

চলচ্চিত্রে আসার প্রথম দিকের গল্প জানতে চাই

ওম : টালিগঞ্জে নায়কের স্থান করে নিতে অনেক কষ্ঠ করতে হয়েছে। আমি ২০০৩ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে এক স্বপ্ন নিয়ে অভিনয় অঙ্গনে পা রাখি। টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে প্রচুর কাজ করেছি। বেশকিছু চলচ্চিত্রে ব্যাকড্রপ ড্যান্সার হিসেবে কাজ করেছি। কোন দিন হতাশ হইনি। আমার স্বপ্ন ছিল নায়ক আমাকে হতেই হবে। একদিন সুযোগ হলো, শুরু হলো আমার মিশন। এভাবেই চলছে আমার পথচলা।

‘অগ্নি-২’ না চললেও কি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন?

ওম : বাংলাদেশে বেশ কজন বন্ধু রয়েছে আমার। তাদের কাছেই শুনেছি বাংলাদেশের গল্প। তবে গল্পের বাংলাদেশ আর চোখের দেখা বাংলাদেশের মধ্যে বিস্তর তফাৎ। এবারের সফর মাত্র দুদিনের, পরে এসে তাই ভালভাবে পরখ করে নিতে চাই। চলচ্চিত্রটি সফল না হলেও কাজ করতে চাই। ভারতের মানুষের ভাষা, আচার-ব্যবহার, প্রকৃতি অনেক কিছুই বাংলাদেশের মতো। এখানে আমি কাজ করতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করব।-গৌতম পাণ্ডে

-গৌতম পাণ্ডে