২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে কৃষক

  • দালাল ফড়িয়াদের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে বলে অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর ॥ সরকার কৃষক এবং মিলারদের কাছ থেকে ধান চাল ক্রয়ে নানামুখী ভর্তুকি দিলেও কার্যত তা কাজে আসছে না। সরকারী খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়ছেন কৃষক। বোরো মৌসুম পেরিয়ে আমনের মৌসুম শুরু হলেও রংপুরের অনেক এলাকাতেই কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা শুরুই হয়নি। কিছু এলাকায় সামান্য কেনা হলেও তাও কৃষকদের থেকে নয়, কেনা হচ্ছে দালাল ফড়িয়াদের কাছ থেকে। কৃষকদের অভিযোগ, এখনও কৃষি বিভাগের গাফিলতির কারণে অনেক এলাকাতেই কৃষক নির্ণয়ই করা হয়নি। এদিকে বাজারে ধানের দাম না থাকায় এই ঈদ মৌসুমে কৃষক এক মন ধান বিক্রি করে একটি শাড়ি কিংবা পাঞ্জাবি তো দূরের কথা, একটি লুঙ্গিও কিনতে পারছেন না। এতে সোনালী ফসল ফলিয়ে স্ত্রী পরিজন নিয়ে ঈদের এই সময়টায় চরম হতাশা ও কষ্টের মুখে পড়েছে তারা। জানা গেছে, কৃষকদের লাভবান করতে নানামুখী ভর্তুকি দিয়ে সরকার গত ৩০ মে থেকে ধান চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করে। এ বছর চালের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ টাকা আর ধানের ২২ টাকা কেজি। সংগ্রহ অভিযান চলবে আগস্ট পর্যন্ত। ইতোমধ্যেই রংপুর জেলায় চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৬০ ভাগ চাল কেনা হয়েছে বলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল ইসলাম জানালেও ধান তেমন একটা কেনা শুরু হয়নি বলেই জানান তিনি। জেলার পীরগাছা উপজেলার দেউতি গ্রামের কৃষক আজিজুল, হরিনারায়ণ জানান, তারা কয়েকদফা খাদ্য গুদামে ধর্ণা দিলেও তাদের ধান কেনা হয়নি। এছাড়া সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক কৃষক জানায়, তারা কৃষকদের তালিকা তৈরির জন্য কয়েকদফা এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় মেম্বারের কাছে ধর্ণা দিলেও বুধবার পর্যন্ত তাদের তালিকা তৈরি করা হয়নি। এখন তাদের বলা হচ্ছে ঈদের পর করা হবে। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারী দর ২২ টাকা, বাজারে তা বিক্রি করতে হয় ১২ টাকায়। খাদ্য বিভাগ ধান না কেনায় উপায়হীন হয়েই তাদের ১২ টাকা দরেই দালাল ফড়িয়াদের কাছে তুলে দিতে হচ্ছে ধান। আর দালাল ফড়িয়ারা গুদামে বিক্রি করছেন ২২ টাকায়। তারা জানান, ১২ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করলে প্রতিমণ দাঁড়ায় ৪৮০ টাকা। রংপুর কৃষি ঋণ বিতরণ কমিটির কৃষক প্রতিনিধি বৈদ্যনাথ বর্মণ জানান, সঠিক তালিকা তৈরির কাজ শেষ না হওয়ায় বোরো মৌসুম শেষে আমন মৌসুম শুরু হলেও এখনও ধান বিক্রি করতে পারছেন না তারা। তালিকা তৈরি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রংপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকতা আফজাল হোসেন জানান, তারা তালিকা তৈরি করে পাঠিয়েছেন। এরপরও যদি কেউ বাদ পড়ে তাদের যুক্ত করা হবে।