১৫ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নদী ভাঙ্গন আতঙ্কে শত শত পরিবার

  • গাইবান্ধায় এক সপ্তাহে ৪ শতাধিক বাড়িঘর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা, ১৫ জুলাই ॥ সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ও সাঘাটা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হওয়ায় গত এক সপ্তাহে ওইসব এলাকার ৪ শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যমুনার বুকে নিশ্চিহ্ন হয়েছে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুচ্ছগ্রাম, কবরস্থান ও কমিউনিটি ক্লিনিক। ভাঙন আতঙ্কে নদী তীরবর্তী শত শত পরিবার। নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ওইসব এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে।

জানা গেছে, হলদিয়া ইউনিয়নের পাতিলবাড়ি, দিঘলকান্দি, গোবিন্দপুর, বেড়াগ্রাম ও হলদিয়া গ্রামের আড়াই শতাধিক ঘরবাড়ি এবং সাঘাটা সদর ইউনিয়নের গোবিন্দি, বাঁশহাটা, হাটবাড়ি, কামারপাড়া ও বরমতাইড় গ্রামের দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে গত এক সপ্তাহে। এ পরিস্থিতিতে সাঘাটার গোবিন্দী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী ভাঙনের মুখে মাত্র ৯০ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। ফলে ছাত্রছাত্রীরা এখন খোলা আকাশের নিচে লেখাপড়া করছে। এছাড়া গোবিন্দী ঈদগাহ মাঠ ও কবরস্থান ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দক্ষিণ দীঘলকান্দি গুচ্ছ গ্রামের ৯টি ঘর, কমিউনিটি সেন্টার নদীগর্ভে নিশ্চিহ্ন হয়েছে। গুচ্ছ গ্রামের আরও ৪১টি ঘর এখন ভাঙনের মুখে। গোবিন্দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়, গোবিন্দপুর নলছিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসার ৩ তলা ভবন নদী ভাঙনের মুখে রয়েছে। সাঘাটা ও হলদিয়া ইউনিয়নের শত শত পরিবার এখন ভাঙনের মুখে দুঃশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অপরদিকে নদী ভাঙনে গৃহহারা পরিবারগুলো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ অথবা অন্য কোন উঁচু এলাকায় গিয়ে আশ্রয় নিয়ে এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। সাঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইট জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলায় গোবিন্দিতে নদী ভাঙ্গন কোনভাবেই বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাইবান্ধা নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল মিয়া জানান, উল্লেখিত ভাঙন কবলিত এলাকায় অর্থাভাবে কোন প্রকল্প গ্রহণ সম্ভব হয়নি। অর্থ পাওয়া গেলে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।