১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কক্সবাজারে ভোটার হতে মরিয়া রোহিঙ্গারা

  • হালনাগাদ শুরু ২৫ জুলাই

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার থেকে ॥ ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে জেনে রোহিঙ্গারা এবার তালিকায় নাম লেখাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করা ভুয়া ইউপি সনদ, জন্ম নিবন্ধন ও পুর্বে বাতিল হওয়া আইডি কার্ডের সূত্র ধরে ভোটার করিয়ে দেয়ার আশ্বাস পেয়ে বিভিন্ন নেতার পিছু নিয়েছে তারা। রোহিঙ্গা জঙ্গীদের যারা ইতোপূর্বে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তারাও বাদ পড়ছে কি না, বাদ পড়ার সম্ভাবনা থাকলে তা বহাল রাখার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কিছু ধান্ধাবাজ নেতার মাধ্যমে এখন থেকে তদ্বির করছে বলে সূত্রে জানা গেছে। তবে এবারও সরকার ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অন্তভর্ূূক্তি ঠেকাতে কক্সবাজারের আট উপজেলায় হালনাগাদ কার্যক্রম চলাকালে বিশেষ ব্যবস্থা ও কঠোর নজারদারি রাখবে বলে সূত্র জানায়।

আগামী ২৫ জুলাই থেকে সারাদেশের মতো কক্সবাজার জেলাতেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ ফরমে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের বিশেষ কমিটি ওইসব তথ্য যাচাই-বাছাই করবে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন ছাড়াও যেকোনভাবে তদ্বির চালানো হোক, একজন রোহিঙ্গাকেও ভোটার হতে দেয়া হবে না। এর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা বলেই বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবৈধভাবে বসবাসকারী মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা স্থায়ীত্বের বাহনা দেখিয়ে ভূয়া সনদ নিয়ে ভোটার হতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ২০০৮ সালে যেসব রোহিঙ্গা পরিচয় গোপন কওে ভোটার হয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছিল, সেই পরিচয়পত্র দেখিয়েই তাদের সন্তানরা (রোহিঙ্গা) ভোটার হতে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা কক্সবাজার জেলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ও বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়ে স্থানীয়দের জীবনযাত্রা বিষিয়ে তুলেছে। দুই দশক আগে বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়ে অনেকে ভোটার তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভূক্ত করে নিজেদের বাংলাদেশী নাগরিক বলে দাবি করে চলছে বর্তমানে। জাতীয় সনদ হাতিয়ে নিয়ে রোহিঙ্গা জঙ্গী আরএসও ক্যাডাররা মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গীবাদী কাজে জড়িয়ে পড়েছে। মিয়ানমার অভ্যন্তরে সাগর উপকূলে দেশটির কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর হাতে উদ্ধার হওয়া ২০৮ অভিবাসীর মধ্যে ভূয়া সনদধারী দুই রোহিঙ্গা বাংলাদেশী বলে সনাক্ত হওয়ায় বিজিবির সহযোগিতায় মিয়ানমার থেকে প্রথম দফায় ফিরে আসা ১৫০ ব্যক্তির মধ্যে দুই রোহিঙ্গাকেও নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে অবশ্য যাচাই-বাছাইয়ে ওই দুই রোহিঙ্গা মিয়ানমার নাগরিক এবং বাংলাদেশে আশ্রিত শরণার্থী হিসেবে প্রমাণ মিলেছে প্রশাসনের কাছে। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ১৯৭৮ ও ১৯৯২সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গার অনেকে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা বিশেষ করে বিএনপির কতিপয় নেতার সহযোগিতায় ও কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের টাকায় ম্যানেজ করে তাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করিয়ে নেয়ার সুযোগ পেয়েছে ইতোপূর্বে।

রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তির বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থা অনেক আগে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে ৯৮ রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করে কক্সবাজারের ভোটার তালিকা থেকে ওইসব রোহিঙ্গাকে বাদ দেয়া হয়। সূত্র জানায়, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও কক্সবাজারের ১২ উপজেলার ভোটার তালিকা থেকে ২০০৯ সালে ৪৮ হাজার ৬৭৩ রোহিঙ্গাকে বাদ দেয়া হয়েছে।