২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

  • সারাদেশে আনন্দ-উল্লাস

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এবার ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে এক অনন্য উপহার দিলেন বাংলাদেশের টাইগাররা। ঈদের আগেই দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সিরিজ জয় করে সাধারণ মানুষেরও মন জয় করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তাই এবার ঈদে যোগ হলো বাড়তি আনন্দ। আর এই আনন্দে ভাসছেন এখন পুরো দেশের মানুষ। এদিকে টাইগারদের সিরিজ জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।

বুধবার চট্টগ্রামে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সিরিজ জয়ের পর সারাদেশে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে সাধারণ মানুষ। ঈদ সামনে রেখে তখন অনেকেই গেছেন মার্কেটে। আবার অনেকেই সে সময় ছিলেন গ্রামের বাড়ির পথে। বাস, ট্রেন, লঞ্চযোগে বাড়ি ফিরছিলেন লাখ লাখ মানুষ। আর সেই সময়ই সবাই শুনতে পান টাইগারদের সিরিজ জয়ের খবর। এই জয়ের খবরে তখন সকলেই আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন।

বাংলাদেশের ক্রিকেট জয়রথ এখন যেন অপ্রতিরোধ্য। একের পর এক সিরিজ জয় করে চমক দেখিয়ে চলেছেন টাইগাররা। জিম্বাবুইয়ে, পাকিস্তান ও ভারতের পর দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে টানা জয়ে সকলেই যেন আত্মহারা। আর এই আনন্দ ঈদের আনন্দের সঙ্গে মিলেমিশে যেন একাকার হয়ে গেছে।

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ‘আন্তর্জাতিক ওয়ানডে’ সিরিজে ২-১ এ জয় পাওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। এক অভিনন্দন বার্তায় আবদুল হামিদ বলেন, আমি আশা করি, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সিরিজ জয়ের এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত রাখবে। রাষ্ট্রপতি অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়, ম্যানেজার, কোচ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন আবদুল হামিদ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, সিরিজ জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাশাপাশি দলের ম্যানেজার, কোচ, ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতা এবং খেলোয়াড়দের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ক্রিকেট আজ বিশ্বের বুকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত। কঠোর অনুশীলন করলে যে ভাল ফল পাওয়া যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল পর পর তিনটি সিরিজে জয়ী হয়ে তা প্রমাণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী আশা করেন- বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আগামীতেও বিজয়ের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে চট্টগ্রামে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নয় উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জেতায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বিশাল ব্যবধানে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলকে হারায় মাশরাফি বাহিনী। তারপরই এক বিবৃতিতে এ অভিনন্দন জানান খালেদা জিয়া। বিবৃতিতে বেগম খালেদা জিয়া ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কোচিং স্টাফ, ক্রিকেটের পৃষ্ঠপোষক এবং দর্শকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে

টানা চতুর্থ দিনের

মতো সৈয়দ

আশরাফের

একান্ত বৈঠক

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ টানা চতুর্থ দিনের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দফতরবিহীন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বুধবার এ সাক্ষাতও ছিল একান্ত। তবে ইতোমধ্যে সর্বত্র আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে, ঈদের পর আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে সৈয়দ আশরাফকে। এ গুঞ্জন এখন সর্বত্র।

প্রবল ব্যক্তিত্বের অধিকারী সৈয়দ আশরাফ আগামীতে লোভনীয় যে কোন পদ নিতে রাজি হবেন কিনা, এ নিয়েও সন্দিহান খোদ শাসক দলের নীতিনির্ধারকরাই। বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামের মতোই দলীয়প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে কোন নির্দেশ সকল প্রকার লোভ-লালসা, পদ-পদবির উর্ধে থেকে বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত, তা গত চার দিনের বৈঠকে প্রমাণ দিয়েছেন সৈয়দ আশরাফ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নানা কারণে দফতরবিহীন মন্ত্রী করলেও সৈয়দ আশরাফকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেই রাখতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শাসক দলে জোর গুঞ্জন চলছে, ঈদের পর আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদককে গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে। সেটি রাজি না হলে জাতীয় সংসদের উপনেতা করারও দাবি উঠেছে খোদ দলের মধ্য থেকেই। অতিভক্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করে সৈয়দ আশরাফকে উপ-প্রধানমন্ত্রী করার দাবি জানালেও সেটির পক্ষে নীতিনির্ধারক মহলে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। নানা মহলে এ গুঞ্জনের বিষয়ে যোগাযোগ করে সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও সবাই একবাক্য বলছেন, ঈদের পর সৈয়দ আশরাফকে নিয়ে সৃষ্ট সঙ্কটের সুন্দর সমাধান হবে।

রাজপথ শান্ত থাকলেও সম্প্রতি নানা ইস্যুতেই কিছুটা ভাবমূর্তির সঙ্কটে পড়েছে শাসক দল আওয়ামী লীগ। অতি বিতর্কিত কিছু মন্ত্রীর ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত না নিলেও অতি সজ্জন, সৎ এবং ক্রান্তিকালে বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী সৈয়দ আশরাফের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পর্কে কিছুটা হলেও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে খোদ শাসক দলেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৈয়দ আশরাফকে নিয়ে দিন যতই যাচ্ছে ততই গুঞ্জরণ যেন ডাল মেলেছে। তাঁকে সংসদ উপনেতা কিংবা প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করে উপ-প্রধানমন্ত্রী করা হচ্ছে, এ নিয়ে খোদ আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যেই আলোচনার কমতি নেই। আরও কোন বড় দায়িত্ব দিতেই সৈয়দ আশরাফকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে, এমনও কথা রয়েছে নেতাদের মুখে মুখে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি ছোট ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার পূর্ব সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে লন্ডন যাত্রা স্থগিত করার পর নতুন নতুন গুঞ্জন ডালপালা মেলে।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দফায় দফায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ঈদের পর আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে সৈয়দ আশরাফকে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঈদের পর যে সৈয়দ আশরাফ দলের কার্যক্রমে অধিক সক্রিয় হচ্ছেন ইতোমধ্যে তা জানান দিয়েছেন তিনি নিজেই। সংসদ উপনেতা করার গুঞ্জন সম্পর্কে দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনভাবেই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে রাজি হননি। শুধু এটুকু বলেছেন, উপনেতা সাজেদা চৌধুরী শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। কিন্তু তাঁর দুঃসময়ে ভূমিকার কথা প্রধানমন্ত্রী কোনভাবেই ভুলতে পারবেন না। কিন্তু গুরুতর অসুস্থতার কথা বিবেচনা করেই সৈয়দ আশরাফকে উপনেতা করলে মন্দ থেকে ভালই হবে বলেই মনে করেন তাঁরা।

অপরদিকে দলের মধ্যে গুঞ্জন, উপনেতা না হলেও হয়ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হতে পারে সৈয়দ আশরাফকে। কিন্তু এতকিছু গুঞ্জন এবং লোভনীয় অফার শেষ পর্যন্ত নির্লোভ সৈয়দ আশরাফ গ্রহণ করবেন কিনা, তা নানাভাবে যোগাযোগ করেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দক্ষিণ আফ্রিকাকে সিরিজ হারানোর উৎসবে বাড়তি রং ছড়াতে দেশবাসীর ঈদের ছুটি একদিন বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানালেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। চট্টগ্রামে তৃতীয় ওয়ানডে শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এই অনুরোধ করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

সুরটা ধরিয়ে দিয়েছেন অবশ্য পুরস্কার বিতরণী অংশের উপস্থাপক শামীম আশরাফ চৌধুরী। মাশরাফিকে আশরাফ বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তো দারুণ ক্রিকেটামোদী ও ক্রিকেটের একাগ্র অনুসারী। এই জয়ের আনন্দে দেশবাসীর ঈদের ছুটি একদিন বাড়িয়ে দেয়ার অনুরোধ করবেন?

মাশরাফি উত্তর দেয়া শুরু করেছিলেন ইংরেজীতেই, বললেন, মে বি। আশরাফ তখন আবারও বললেন, সরাসরিই আবদার করে ফেলুন! এক মুখ হাসিতে মাশরাফি তখন বললেন, ‘বাংলাতেই বলি তা হলে। আমাদের সবাইকে বাড়তি একদিন ছুটি দিন প্লিজ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!’

নির্বাচিত সংবাদ