১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আনন্দ বণ্টনে প্রবাসীদের প্রয়াস

  • প্রবাসীরা অনেকটা সচ্ছলভাবেই জীবন যাপন করেন বিদেশে। তাই তারা চাইলে নিজ নিজ এলাকার মানুষের জন্য অনেক কিছুই করতে পারেন। সংগঠনগুলো চাইলে ব্যাপক সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারেন নিজ নিজ এলাকায়। ইসলাম যাকাতকে ফরজ করেছে। যাকাত আদায় মানেই ধন বণ্টনের মাধ্যমে ধর্মীয় বিধান মানা। সেই সঙ্গে সামাজিক সমতা রক্ষা করা

ঈদ এলেই অভিবাসী বাঙালীর মনের ক্যানভাসে যে চিত্রটি ফুটে ওঠে, তা হলো স্বদেশের মুখ। কেমন আছেন স্বজন? কেমন আছে জন্মমাটি? প্রবাসে ঈদের আনন্দ মানেই হচ্ছে এক ধরনের তীব্র শূন্যতা। কথাটি সব প্রবাসীই স্বীকার করবেন একবাক্যে। তার কারণ হচ্ছে, ঈদের দিনটি এলেই এক ধরনের নস্টালজিয়া মনটাকে ভারি করে তোলে। ফেলে আসা সেই শহর কিংবা গ্রাম, সেই আড্ডা, সেই মধুর স্মৃতি, মা-মাতৃভূমির টান বুকের পাঁজরে দোল খেয়ে যায়। আহা! সোনার আলোয় ভরা সেই দিনগুলো ...।

প্রবাসে ঈদের অভিজ্ঞতা আমার প্রায় তিন দশকের। বিদেশের বিভিন্ন দেশে ঈদ করতে গিয়ে যে সত্যটি খুব একান্তভাবে প্রত্যক্ষ করেছি তা হচ্ছে, প্রবাসে একজন বাঙালীই অপর বাঙালীর ঘনিষ্ঠ স্বজন। তা পরিচিত হোক অথবা অপরিচিত।

মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতে ঈদের আনন্দই আলাদা। পবিত্র রমজান মাস এলেই রোজার আমেজে সিক্ত হয়ে ওঠে পুরো নগরী। ধর্মপ্রাণ মানুষের উপাসনা, ইফতারির বাহারি আয়োজন সৃষ্টি করে একটি ভাবগম্ভীর পরিবেশের। ঢাকা, দুবাই কিংবা দোহা’র মতো শহরগুলোতে রমজানের বিকেলের প্রতিটি দিনই যেন হয়ে ওঠে উৎসবের দিন। তারপর আসে ঈদ, পরম উৎসবের দিন। আনন্দের সেই প্রতীক্ষিত দিন। তার আগে আছে ঈদের বাজার। ইউরোপ-আমেরিকায় সেই আবহের ভিন্নতা স্পষ্ট। তার কারণ হচ্ছে, এখানে ঈদ একটি সম্প্রদায়ের উৎসব, যে সম্প্রদায়ের লোকসংখ্যা পুরো রাষ্ট্রের জনসংখ্যার সামান্য অংশ মাত্র। আমেরিকায় ঈদ করতে গিয়ে সেই শূন্যতা আরও তীব্রভাবে অনুভব করেছি। সপরিবারে নিউইয়র্কে স্থায়ী নিবাস গড়ার পর এই নগরীটি হয়ে উঠেছে আমাদের দ্বিতীয় নিবাস। নিউইয়র্কে ক্রমবর্ধমান বাঙালী অভিবাসনের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ধর্মীয় কালচারও। সিলেটের জিন্দাবাজার কিংবা ঢাকার নবাবপুর রোডের স্টাইলে এখানে এখন তৈরি হচ্ছে ইফতারি। ভারতীয়-বাংলাদেশী বিপণি বিতানগুলো ঈদ উপলক্ষে সজ্জিত হচ্ছে আলোকসজ্জায়। রীতিমতো জমজমাট ঈদের বাজার। নিউইয়র্কের বাঙালী পোশাক বিক্রেতারা পণ্য ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ছুটে যাচ্ছেন মুম্বাইয়ে। দশ হাজার ডলারের লেহেঙ্গার সংবাদ নিয়েও সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে বাংলা সাপ্তাহিকের পাতায়। নিউইয়র্কের স্কুল-কলেজগুলোতে এখন হাজার হাজার বাঙালী অভিবাসী শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে।

দুই ঈদে সরকারী ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে নিউইয়র্কে।

যুক্তরাষ্ট্রে এখন প্রায় কয়েক শত সামাজিক-আঞ্চলিক সংগঠন। এরা প্রতি রমজানেই বড় বড় ইফতার পার্টির আয়োজন করেন। বলা দরকার, প্রবাসীরা অনেকটা সচ্ছলভাবেই জীবন যাপন করেন বিদেশে। তাই তারা চাইলে নিজ নিজ এলাকার মানুষের জন্য অনেক কিছুই করতে পারেন। সংগঠনগুলো চাইলে ব্যাপক সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারেন নিজ নিজ এলাকায়। ইসলাম যাকাতকে ফরজ করেছে। যাকাত আদায় মানেই ধন বণ্টনের মাধ্যমে ধর্মীয় বিধান মানা। সেই সঙ্গে সামাজিক সমতা রক্ষা করা। এই তৎপরতা বাড়ানো দরকার।

ঈদে, প্রবাসের অনেক সংগঠনই বাংলাদেশে দুঃস্থদের মাঝে উপহার বিতরণের ব্যবস্থা করেন। সংহতি প্রকাশ করেন মানবতার প্রতি। এই চেতনা প্রবাসী প্রজন্মের মাঝেও ছড়িয়ে দেয়া দরকার। যাতে তারা নিজ শিকড়-ঐতিহ্যের কথা ভুলে না যায়।

প্রবাসে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ঈদের আনন্দ মূলত আমাদের ধর্মীয়, জাতীয় ঐতিহ্যের শিকড়ই বপন করে যাচ্ছে। এই চেতনা ধরে রাখতে সকল অভিভাবককেই সচেষ্ট হতে হবে। তাদেরকে বলতে হবেÑ মানুষ মানুষের জন্য।

ফকির ইলিয়াস

নিউইয়র্ক থেকে