২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আনন্দের নিত্যতা সূত্র...

ছালাম সাহেব হাসিমুখে সালাম বিতরণ করেন। ঈদের দিনে চকচকে নোট বিতরণ করেন নিজ হাতে। নোটের মূল্যমান কমেছে, কিন্তু তিনি অঙ্কটা বাড়াতে পারছেন না। প্রতিবারই ধার-দেনা শোধ করে বোনাসের টাকায় কেনাকাটার বাড়তি রেটের সঙ্গে পেরে ওঠেন না। বসকে বলে কয়ে দু’একটা ট্যুর করে কিছু টাকা সাশ্রয়Ñ সেটাও আজকাল হচ্ছে না। যা হোক ছালাম সাহেবের সালাম ও সালামী নিয়ে সামনা-সামনি কেউ কিছু না বললেও কমন সার্ভিসের কদম আলী জ্ঞান বিতরণ করে : টাকার কাজ সালাম দিয়ে হয় না।

ঈদের ক’দিন আগে বড় একটা টেন্ডার হয়েছে। অফিসে একটা উৎসব উৎসব ভাব। ছালাম সাহেবের রুমে এসে ঠিকাদারের ম্যানেজার স্মার্টভঙ্গিতে টেবিলের ড্রয়ার খুলে একটা খাম ঢুকিয়ে দিল।

“আপনাদের অফিসে কোন সিস্টেম নেই। গতবার ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য আমার বস আপনার বসকে সবার জন্য খাম দিল আর তিনি কিনা বেশিরভাগই মেরে দিলেন। কি লজ্জা! তাই এবার বস আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন কেউ যেন বাদ না পড়ে। বসের ঈদ আনন্দে শরিক হোন। ফেরত দিয়ে বসকে দুঃখ দেবেন না।”

ছালাম সাহেব একবার ভাবলেন, কড়া কথা বলে খামটা ফেরত দেবেন। আবার ভাবলেন, এভাবে যদি সবাই খাম পেয়ে থাকে, তাহলে তিনি একা ফেরত দিলে আর রক্ষে নেই। নিজের বসকে তো জানেনই, ম্যানেজারের বসের হাত যে প্লাস্টিকম্যানের হাতের মতো লম্বা তা আন্দাজ করতে পারেন। তাকে দুঃখ দেয়া?

খামটা নিয়ে ছালাম সাহেব বড় মুশকিলে পড়লেন।

পান্থপথের ক্রসিংয়ে দাঁড়ালে সাহায্যপ্রার্থীর অভাব হয় না। অতি পরিচিত মুখের ভিড়ে দেখলেন কিছু নতুন মুখ। এখনও চালাক চতুর হয়ে উঠতে পারেনি। ট্রাফিক সিগন্যালের এক কোণে দেখলেন, একজন বৃদ্ধা। চোখে মুখে শঙ্কা। সাহায্য চাইবেন কি চাইবেন না দ্বিধায় আছেন।

ছালাম সাহেব এগিয়ে গেলেন।

“একটা কথা কইতাম বাবা। পোলাডা রিক্সা চালায়, বেটার বৌ বাসা বাড়িতে কাম করে। এতদিন আমারে খাওয়াইছে। অহন কয় ভিক্ষা করতে, ঠিকই কইছে... ”

ছালাম সাহেব কোন কথা বললেন না। পকেট থেকে খামটা বের করলেন, মুখটা খুলে এক হাজার টাকার নোটগুলো বৃদ্ধার হাতে তুলে দিলেন।

বৃদ্ধার মলিন মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। বিড়বিড় করে কি বললেন, তা শোনার অপেক্ষায় থাকলেন না ছালাম সাহেব। দ্রুত স্থান ত্যাগ করলেন।

বাল্যকালে পদার্থবিজ্ঞানের শক্তির নিত্যতা সূত্র পড়েছিলেন। সেটাই নতুন করে আওড়ালেন : আনন্দ সৃষ্টি অথবা ধ্বংস করা যায় না। আনন্দ এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তরিত হয়।

রহমান তৌহিদ

শাহবাগ থেকে