১৯ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশ্ব ক্রিকেটে ব্যাঘ্র গর্জন

এ যেন বাংলার বাঘের কামড়ে আফ্রিকান সিংহের ক্ষতবিক্ষত হওয়ার দশা। সত্যিই তো! তিন ম্যাচ সিরিজে জয়-পরাজয় নির্ধারণী হয়ে ওঠা শেষ ম্যাচে নতুন প্রতিভা মুস্তাফিজ, অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব, বিধ্বংসী বোলার রুবেল- প্রধানত এই তিন বোলারের বলের দংশনে প্রোটিয়ারা পর্যুদস্ত হয়েছে চূড়ান্তভাবে। অপরদিকে সৌম্য-তামিম জুটির ব্যাটের আঘাতে আফ্রিকান অর্ধডজন বোলারের ছোড়া বল রীতিমতো দীর্ণ-বিদীর্ণ। যে রাবাদা টাইগারদের জন্য ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন সেই রাবাদাই পরপর তিন বলে চারের মার খেয়ে মুষড়ে পড়েছেন। শাবাশ বাংলাদেশ। বাংলার মাটিতে টাইগাররা সিরিজ জয়ের কোটা আগেই পূর্ণ করেছিল। সীমিত ওভারের ম্যাচে এই উপমহাদেশ তথা ক্রিকেটবিশ্বের দুই সুপার পাওয়ার পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের মাধ্যমে দুনিয়াকে বুঝিয়ে দিয়েছিল বর্তমান ক্রিকেটে নতুন পরাশক্তি বাংলাদেশ। এরপর বিশ্বের দুর্দান্ত পেশাদার ও শক্তিমান দল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জিতল। টাইগারদের এটি টানা চতুর্থ সিরিজ জয়। জয়ের উৎসব শুরু হয়েছিল জিম্বাবুইয়েকে হারানোর মধ্য দিয়ে। এ এক অনন্য অর্জন। এক অভূতপূর্ব বিজয়। এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস। তিন ম্যাচ সিরিজের দুটিতেই প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন একপেশে খেলা দেখতে হবে, দক্ষিণ আফ্রিকা দুই শ’ রানও করতে ব্যর্থ হবে এটা বোধ হয় কল্পনারও অতীত ছিল দেশবাসীর।

ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা- এমন মন্তব্য ছিল স্বয়ং বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফির। সত্যিই এক লড়াকু টিম দক্ষিণ আফ্রিকা, বার বার তারা বিশ্বকাপে শীর্ষ পর্যায়ে গেছে। যদিও সোনার হরিণ সোনার ট্রফি তাদের করায়ত্ত হয়নি। বাংলাদেশের কাছে নিদারুণ পরাজয়ের পর তাদের ক্রিকেট বোর্ডের ওয়েবসাইটে টাইগারদের কৃতিত্ব দেয়া হয়েছে এভাবে- ‘দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের বড় দল হওয়া নিশ্চিত বাংলাদেশের।’ বড় দলগুলোকে বাংলাদেশ যেভাবে হারাল, যে ব্যবধানে হারাল, তাতে বাংলাদেশ এখন বড় দলই। ইতিহাসের সপ্তম বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে চার হাজার রান ও দুই শ’ উইকেটের মালিক এখন সাকিব। ওয়ানডেতে দুই শ’ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন মাশরাফিও। এই সিরিজ জয়ের ভেতর দিয়ে কিছু বিষয় প্রতিষ্ঠিত হলো। প্রথমত টি২০ সব ম্যাচ এবং সীমিত ওভারের ম্যাচের প্রথমটিতে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পরও বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে অর্থাৎ তারা ঘুরে দাঁড়াতে সমর্থ। দ্বিতীয়ত প্রতিপক্ষ দলের ধরনেই খেলার বড় ব্যবধানে পরাস্ত করেছে। বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হওয়ার বিষয়টিই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। দলের ভেতর এখন এমন মনোভাব গড়ে উঠেছে যে, তারা বিশ্বের যে কোন দলকেই হারাতে সক্ষম। ফিল্ডিং-বোলিং-ব্যাটিংসহ প্রত্যেকটি অঙ্গনে বাংলাদেশ দল ক্রিকেটীয় বুদ্ধি ও ক্ষমতার পরিচয় রেখেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও। চলতি মৌসুমে টাইগারদের পারফর্মেন্স দেখে দর্শকরা বুঝে গেছেন বিশ্বকাপে সাফল্যের নতুন উচ্চতায় ওঠা বাংলাদেশ দল বদলে গেছে বিপুলভাবে। সর্ববিচারেই উন্নতি ঘটেছে দলের।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল দেশবাসীকে এক অনন্য ঈদ উপহার প্রদান করেছে। ঈদের আগে আগে এক অন্যরকম খুশিতে ভরে গেছে মানুষের মন। আমরাও টাইগারদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা এবং ঈদ মোবারক।

নির্বাচিত সংবাদ