১৫ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যানজট জলাবদ্ধতার নগর

  • কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে উন্নয়নের নামে লোপাট

মীর শাহ আলম, কুমিল্লা, ১৬ জুলাই ॥ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা মূলত ভেঙ্গে পড়েছে। বেশিরভাগ সড়কে যানবাহন চলাচল দূরের কথা হেঁটে চলাও দুরুহ হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় ড্রেনসহ রাস্তাঘাট। বড় বড় গর্তসহ খানা-খন্দে ভরা এসব সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে রিক্সা থেকে শুরু করে ছোট-বড় যানবাহন। এদিকে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও অপরিকল্পিত কর্মকা- ও নিম্নমানের কাজের কারণে এসব বরাদ্দ কার্যত নগরবাসীর দুর্ভোগ নিরসনে তেমন কোন কাজে আসছে না বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন নগরীর বিশিষ্টজনেরা। ঈদকে কেন্দ্র করে বেহাল রাস্তাঘাটে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কবলে পড়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনগণকে। এছাড়া গত অর্থবছরের জুন মাস শেষ হয়ে গেলেও নগর উন্নয়নের পরিকল্পনাসহ এ পর্যন্ত কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়নি।

জানা যায়, ২০১১ সালের ১০ জুলাই কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল হক সাক্কু। তিনি দায়িত্বগ্রহণের পর অধিকাংশ সময়ে আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার কাজ কাগজে-কলমে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করলেও বাস্তবে নগরবাসী দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সেই আগের মতোই।

গত ২০১৪-’১৫ অর্থবছরে রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট, বাজার উন্নয়ন, সড়ক আলোকিতকরণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহসহ ১২৫টি প্রকল্পের মাধ্যমে সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও দৃশ্যত সড়ক বাতি, ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার কাজে মেয়রের ফটোসেশন ও দাফতরিক রুটিন ওয়ার্ক ছাড়া উল্লেখ করার মতো উন্নয়ন তেমন নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণসহ জনদুর্ভোগ নিরসনের জন্য প্রাপ্ত বরাদ্দের সিংহভাগই ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে মেয়র-কাউন্সিলরসহ সরকারদলীয় ও বিএনপির ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মাঝে। এতে বরাদ্দের সদ্যবহার না হওয়ায় কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নগরবাসী। ফলে গত সাড়ে ৩ বছরেও পাল্টায়নি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের চিত্র। পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হলেও নগরবাসীর দুর্ভোগ সেই আগের মতোই রয়ে গেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও অপরিকল্পিত যেনতেন কাজের কারণ এবং দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও অলিগলির প্রায় সবকয়টি রাস্তাঘাট খানা-খন্দে ভরে গেছে। নগরীর বেশ কয়েকটি রাস্তা এখন পরিণত হয়েছে ড্রেনে এবং এসব রাস্তাঘাটে ছোট বড় গর্ত হয়ে কোন কোন স্থানে কূপের আকার ধারণ করেছে। নগরীর পুলিশ লাইন-কান্দিরপাড় সড়ক, ইপিজেড-দক্ষিণ চর্থা-বড়পুকুরপাড়-তালতলা চৌমুহনী সড়ক, ফৌজদারি-কালিয়াজুরী সড়ক, কান্দিরপাড়-ধর্মপুর চৌমুহনী সড়ক, শাসনগাছা-ধর্মপুর সড়ক, ধর্মপুর-অশোকতলা, দৌলতপুর-ধর্মপুর সড়ক, রানীর বাজার সড়ক, অশোকতলা-রেলস্টেশন-শাসনগাছা সড়ক, মধ্যম আশ্রাফপুর ইয়াছিন মার্কেট সড়ক, মগবাড়ি-বিষ্ণপুর-ছোটরা সড়ক, সুজানগর-বিবির বাজার সড়কসহ নগরীর অধিকাংশ সড়কেরই বেহাল দশা।

সামান্য বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়কে হাঁটু থেকে কোমর পানি পর্যন্ত জলজটের সৃষ্টি হয়। এতে ডেনের ময়লা-আবর্জনাযুক্ত দুর্গন্ধময় পানি ঘরবাড়ি ও দোকান-পাটে ঢুকে পড়ে। জানা যায়, নগরীতে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও স্যুয়ারেজ না থাকায় এবং নিয়মিত ড্রেনের ময়লা আবর্জনা অপসারণ না করাসহ দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। পুলিশ সুপারের বাসভবন এলাকা, স্টেডিয়াম, ঈদগাহ সড়ক, টাউন হল মাঠ, কান্দিরপাড় ভিক্টোরিয়া কলেজ সড়ক, দক্ষিণ চর্থা-ইপিজেড সড়ক, রেইসকোর্স, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্প এলাকা, দৌলতপুর, ধর্মপুর, অশোকতলা, রানীর বাজার, ঝাউতলা, চৌধুরীপাড়া, আদালতপাড়া, কালিয়াজুরি, দক্ষিণ চর্থা, মুরাদপুর, বাগানবাড়ি, মহিলা কলেজ রোড, বাগিচাগাঁও, কাশারিপট্টি, নগরীর টাউন হল মাঠসহ নগরীর বেশিরভাগ সড়কই সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়।

এদিকে গত ২০১৪-’১৫ অর্থবছর শেষ হয়ে গেলেও ১৬ জুলাই পর্যন্ত নগর উন্নয়নের পরিকল্পনাসহ চলতি বছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়নি। এতে নগরবাসী তাদের কাক্সিক্ষত সেবা পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তবে এসব সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু সাংবাদিকদের জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে আমি নিজে মাঠে নেমে কাজ করছি। বিভিন্ন স্থানে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলার কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও দ্রুত পানি সরে গেছে।