১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফাঁকা হচ্ছে শহর নগর কোলাহল বাড়ছে গ্রামে

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ গ্রামকে ঘিরে ঈদের আনন্দ। তাই বৈরী আবহাওয়া মাথায় নিয়ে মানুষ আসছে দূর-দূরান্তের কর্মস্থল ছেড়ে গ্রামের মায়ায়। ঈদের ছুটিতে দীর্ঘদিন পরে স্বজনদের সান্নিধ্য পেতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার আনন্দে অনেকেই এখনও গ্রামের পথে। এরমধ্যেই ফাঁকা হয়ে পড়েছে শহর নগর। অনেকে পৌঁছে গেছে প্রিয় গ্রামে। এতে ফাঁকা হয়ে গেছে নগরী আর কোলাহল বাড়ছে গ্রামে গ্রামে। হাজারো মানুষ পথেই রয়েছে এখনও। হয়তো ঠিক ঈদের আগেই পৌঁছে যাবে স্বজনদের কাছে।

হঠাৎ করে ঈদের আগে বৃহস্পতিবার রাজশাহী মহানগরীর চিত্রটা পাল্টে যায়। এমনিতেই থেমে থেমে বৃষ্টি। সড়ক-মহাসড়কে কিছু যানবাহন আর মানুষের চলাচল।

সঙ্গে সবার ব্যাগপত্র। বোঝাই যায় ঈদে গ্রামে ফেরার চেষ্টা। এদিন শহরের রাস্তাঘাট হঠাৎ করেই ফাঁকা হয়ে যায়, কোলাহল নেই বললেই চলে। শুধু ভিড় স্টেশন ও বাস টার্মিনালে। যে যার মতো গাড়ি থেকে নেমেই ছুটছে গ্রামের পথে। যেন পথে পথেই দল বেঁধে ছুটে যাওয়ার মধ্যে ঈদের আনন্দ।

শহর ফাঁকা হলেও ঈদের আগেই মুখরিত হয়ে উঠেছে গ্রাম। রাজশাহী অঞ্চলের গ্রামগুলোতে এখন বিরাজ করছে ঈদের আমেজ। অপরদিকে রাজশাহী মহানগরীতে শপিং মল ও বিপণি-বিতানেও ভিড় কমে এসেছে। যারা রাজশাহীতে থাকছেন, শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা করছেন স্বস্তিতে। কয়েকদিন থেকে গ্রামের পথে বেরিয়েছে মানুষ। শিক্ষানগরী খ্যাত রাজশাহীর বড় দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) আবাসিক হল বন্ধ হয়ে গেছে কদিন আগে।

এরপর থেকেই ফাঁকা হয়ে পড়ে পুরো নগরী।

বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর রেলগেইট এলাকায় বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন গোদাগাড়ীর সোহরাব হোসেন। ঢাকা থেকে এসেছেন তিনি। সোহরাব জানান, দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফিরছেন তিনি। অনেকদিন পরে বাবা-মার সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন এটাই তার কাছে প্রধান বিষয়। পথের কষ্ট তার কাছে কিছুই না।

শুধু সোহরাব নন। তার মতো দূরের শহর বা গ্রামের আপনজনের নাড়ির টানে ফিরে আসছে মানুষ। এ কারণে রাজশাহী রেলস্টেশন, শিরোইল বাস টার্মিনাল ও নওদাপাড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েছে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ভিড় রয়েছে আন্তঃজেলা বাস কাউন্টারগুলোতেও।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার খড়িবাড়ি গ্রামের সামশুল আলম। ঢাকার বেসরকারী কোম্পানিতে চাকরি করেন। এখনও ফিরতে পারেননি তিনি। তার স্বজনরা স্টেশনে অপেক্ষা করছেন। স্বজনরা জানায়, রাতে রওনা দিয়েছে। দফায় দফায় ফোনে কথা হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যে পৌঁছে যাবে। তার মতো অনেক মানুষ এখনও নাড়ির টানে রয়েছে পথে পথে।