১৫ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সৌরভে-গৌরবে বাংলাদেশ

সৌরভে-গৌরবে বাংলাদেশ
  • জয়রথ চলবেই

মিথুন আশরাফ ॥ ওয়ানডেতে জিতেই চলেছে বাংলাদেশ। শুধু সিরিজ জয়ই হচ্ছে। দলের সঙ্গে ক্রিকেটাররাও যেন উড়ছেন। ঈদের আগে এমন একটি জয় পাওয়াতে ঈদের আনন্দও দ্বিগুণ হয়ে গেল। জিম্বাবুইয়ে, পাকিস্তান, ভারতের পর শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকেও যখন হারিয়ে দেয় একটি দল, টানা চার সিরিজ জয় করে নেয়; তখন কী আর না উড়ে পারে?

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হেরে, এরপর যে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াল তাও তো বিশ্বক্রিকেটকে তাক লাগিয়ে দিল। বাংলাদেশ যে দেশের মাটিতে টানা চার সিরিজ জিতল, এর মধ্যে এবারই প্রথমবার এমন হয়েছে প্রথম ওয়ানডে হেরে পরের সব ম্যাচ জিতে সিরিজও জিতে নিয়েছে। দল যে উন্নতির চরম শিখরে রয়েছে, তা বোঝাই যাচ্ছে।

এমন জয়ের পর একটু অন্যভাবেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মাশরাফি। বলেছেন, ‘অবশ্যই এই জয় বিশেষ কিছু। কারণ একটি দল যখন হারের ভেতর ঢুকে যায়, বাইরে থেকে অনেক কথা চলে আসে। এটা কারও কারও মধ্যে চাপ সৃষ্টি করে। আমাদের দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারের গড় বয়স ২২-২৩ বছর। এই বয়সের ক্রিকেটার কিভাবে চ্যালেঞ্জটা নেন এটাই দেখার বিষয়।’

তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘এভাবে ঘুরে দাঁড়ানোই হচ্ছে ভাল দলের লক্ষণ। সব মিলিয়ে আমি খুব খুশি, প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ার পরও আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। দুই-তিন নম্বর ম্যাচটাও জিতলাম। সব কৃতিত্ব ছেলেদের ও ম্যানেজমেন্টকে দেয়া উচিত।’

এভাবে পিছিয়ে থেকে সিরিজ জয়টাকে আলাদা গুরুত্বই দিচ্ছেন মাশরাফি, ‘প্রত্যেকটা সিরিজই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটা সিরিজের জয়ের আনন্দ এক রকম। তুলনামূলক একটু কম শক্তির দলের সঙ্গে খেলে জয় পাওয়ার আনন্দটা একটু ভিন্ন রকম। বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে পাকিস্তান, পাকিস্তান থেকে ভারত হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আমরা জয় ধরে রাখতে পেরেছি। একটু স্ট্রাগল করতে হয়েছে শুরুতে। আমি বলব ব্রিলিয়ান্ট কামব্যাক। এই কামব্যাক ছিল আমাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয়, এটা আমাদের দৃঢ়তার পরিচয়ও বলব।’

মাশরাফি আরও বলেন, ‘আমরা আসলে সেভাবে সেলিব্রেশন করি না। আমরা করব জয় একটা গান হয়- এতটুকুই শেষ আমাদের সেলিব্রেশন। অন্য দলগুলো কিন্তু অনেক কিছু করে। হয় তো রাতে এক সঙ্গে বসে অনেক কিছু করে। আমাদের তেমন কিছু হয় না। তবে আমি মনে করি সেলিব্রেশন করা উচিত। একটা দল যখন হারার মধ্যে থাকলে মানসিকভাবে ভেঙ্গে যায়। এ জন্য সময়টা ভালভাবে ব্যবহার করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এমন নয় যে, রাত জেগে কিছু করতে হবে। আমরা অন্য কোন সময় সবাই এক সঙ্গে হতে পারি। মোদ্দাকথা সেলিব্রেশনটাকে আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।’

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতেই ক্যারিয়ারের ২০০তম উইকেট নেয়ার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মাশরাফি। সেই সঙ্গে সাকিবও এ মাইলফলকে পা দিয়েছেন। ১ উইকেট এখন বেশিও সাকিবের। এ অলরাউন্ডারকের নিয়ে মাশরাফি বলেছেন, ‘বড় ক্রিকেটার আছে এটা আমরা অনুভব করি। সাকিব বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার এটা অনেক খেলোয়াড় জানে। কিন্তু কেউ সেভাবে বলে না। এটা নিয়ে আমাদের মনে কোন দুঃখ কিংবা কষ্ট নেই। আমরা জানি, আমাদের ভেতরে কি আছে। সৌম্য, সাব্বির আছে, সাকিব সব সময় অসাধারণ, তামিম-মুশফিক-রিয়াদ আছে। আমাদের ইউনিট খুব ভাল। গ্রুপ হিসেবে আমরা যখন পারফর্মেন্স করি তখনই আমরা বেশি সাফল্য পাই। এখন সবাই পারফর্ম করছে। এটা খুব ভাল লক্ষণ।’

এই ভালতে বাংলাদেশ জিতেই চলেছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের ঈদ উপহার দিয়েছেন মাশরাফিরা। প্রথম ওয়ানডেতে ৮ উইকেটে হারের পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডেতে যথাক্রমে ৭ উইকেট ও বৃষ্টি আইনে ৯ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। সিরিজ জয়ও হয়েছে।

জিম্বাবুইয়ে, পাকিস্তান, ভারতের মতো অসহায় আত্মসমর্পণ করল দক্ষিণ আফ্রিকা। তাতে দুর্দান্ত সময় যে বাংলাদেশের পার হচ্ছে তা আবারও বোঝাও গেল। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয় দিয়ে শুরু হয়েছিল। ৫-০ ব্যবধানে জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। এরপর পাকিস্তানকে ‘বাংলাওয়াশ’ করেছে। ভারতকেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজে হারিয়েছে। এবার দক্ষিণ আফ্রিকাকেও উড়িয়ে দিল। দেশের মাটিতে টানা ৪ সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে ৬০তম দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে নেমে ১৯তম সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো কোন সিরিজে জিতল বাংলাদেশ। সবচেয়ে বেশি ৮ বার জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ তিনবার টানা চার সিরিজ জিতেছে। প্রথমবার ২০০৬-০৭ সালে, দ্বিতীয়বার ২০০৯ সালে এবং তৃতীয়বার ২০১৪-১৫ সালে। কেনিয়ার বিপক্ষে দুইবার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুইবার, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুইবার, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একবার, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একবার, পাকিস্তানের বিপক্ষে একবার ও ভারতের বিপক্ষে একবার সিরিজে জিতে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও প্রথমবার সিরিজ জিতে বাংলাদেশ।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে জিতে সিরিজ নিশ্চিত করার আগেই সাকিব আল হাসান বলেছিলেন, ‘অবশ্যই পাকিস্তান ও ভারতের থেকে বড় (প্রাপ্তি)। কারণ এই জিনিসগুলো তো আমরা আগে কখনও করিনি। যেই জিনিসটা আগে করিনি স্বাভাবিকভাবে সেই জিনিসটা অবশ্যই বড় হবে। যদি এ রকম কিছু হয় অবশ্যই বড় হবে। এখন পর্যন্ত যেটা করেছি সেটাও বড়। এর আগে তো কখনও দক্ষিণ আফ্রিকাকে সিরিজে হারাতে পারিনি। সেটাই একটা বড় বিষয়। যদি সিরিজটি জিততে পারি তাহলে অনেক বড় বিষয় হবে।’ সেই বড় পাওনা মিলে গেছে। শুধু কী এ পাওনাই মিলেছে। একই ম্যাচে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২০০ উইকেট নেয়ার মাইলফলক স্পর্শ করলেন সাকিব। তার সঙ্গে মাশরাফি বিন মর্তুজাও একই কীর্তি গড়েছেন। সেই কীর্তির আনন্দের সঙ্গে সিরিজ জয়ের আনন্দও মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। সেই আনন্দ আবার ঈদের আগেই মিলেছে।