২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, বোলিংয়ে প্রোটিয়ারা এগিয়ে

মোঃ মামুন রশীদ ॥ আরেকটি সিরিজ শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশের মাটিতে। আগের তিন সিরিজে যা হয়েছে এবারও সেটার কোন ব্যতিক্রম হলো না। মহাপরাক্রমশালী ক্রিকেট শক্তি দক্ষিণ আফ্রিকা সিংহের মতোই খেলেছে সফরের শুরু থেকে। সে তুলনায় নামে ‘টাইগার’ হলেও সেটা শুধু কাগজে বাঘ বলেই মনে হয়েছে। কিন্তু পিছিয়ে পড়ার পরও ঠিকই সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। জিম্বাবুইয়ে, পাকিস্তান ও ভারতের পর এবার দক্ষিণ আফ্রিকার অহঙ্কারও চূর্ণ হয়েছে। ব্যাট-বলের নৈপুণ্যের দিকে দৃষ্টি দিলেই আরেকটু পরিষ্কার হয়ে যায় প্রকৃতপক্ষে কোন দলটি এগিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্ব কাঁপানো ব্যাটিং লাইনআপও পিছিয়ে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের চেয়ে। এর কারণ বল হাতেও দারুণ ক্যারিশমা দেখিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। তাই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ে ছিল শুধুই হতাশার চিত্র। তাছাড়া তাদের নিয়মিত অধিনায়ক, অন্যতম ব্যাটিং স্তম্ভ এবি ডি ভিলিয়ার্স দলে ছিলেন না। সে কারণে আরও ভুগতে হয়েছে প্রোটিয়াদের।

বাংলাদেশের দুই বোলার সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মর্তুজা নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন। শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করে সাকিব তিন উইকেট নিয়েছেন। সাগরিকায় তিনি যে অনন্য সেটার প্রমাণ দিয়েছেন আরেকবার। সবমিলিয়ে দেশের মাটিতে সর্বাধিক ১২৩ উইকেটের মালিক তিনি। এতদিন ১২২ উইকেট নিয়ে শীর্ষে ছিলেন বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়া রাজ্জাকের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০০ উইকেটের মালিক হয়ে গেছেন সাকিব। এখানেই থেমে থাকেনি তার অর্জনটা। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে একাধারে ২০০ উইকেট ও ৪ হাজার রানের মালিক হয়ে গেছেন তিনি। সাকিবকে অনুসরণ করে একই মাইলফলক ছুঁয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি। তবে এবারের সিরিজে এ দু’জন নতুন মাইলফলক ছুঁলেও দৃষ্টি সবার নিবদ্ধ// ছিল তরুণ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের দিকে। এবার উইকেট শিকারে শীর্ষস্থান ছুঁতে না পারলেও অবশ্য দ্বিতীয় স্থানে ঠিকই আছেন মুস্তাফিজ ৫ উইকেট নিয়ে। ভারতের বিপক্ষে আগের সিরিজেই দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন তিনি। এ কারণেই সম্ভবত মুস্তাফিজকে মোকাবেলার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিল প্রোটিয়া শিবির। মুস্তাফিজকে যে ভঙ্গিমায় দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা মোকাবেলা করেছে সেটা দেখেও স্পষ্ট হয়েছে ভীতি। সিরিজের সবচেয়ে কিপটে/// বোলার হিসেবে শেষ করেছেন এ তরুণ। তবে উইকেট নেয়ার দিক থেকে সবার ওপরে এবারই অভিষেক সিরিজ খেলা প্রোটিয়া ফাস্ট বোলার কাগিসো রাবাদা। এ তরুণ অভিষেক ওয়ানডেতেই হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেট নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। তার শিকারসংখ্যা ৩ ম্যাচে ১২.৭৫ গড়ে ৮ উইকেট মুস্তাফিজ নিয়েছেন ৫টি। অপরদিকে, ব্যাটিং নৈপুণ্যে এগিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাই। সৌম্য সরকার ৩ ম্যাচে দুটি অর্ধশতকসহ করেছেন সর্বাধিক ২০৫ রান। কুইন্টন ডি কক, ফাফ ডু প্লেসিস, হাশিম আমলা, জেপি ডুমিনি, ডেভিড ‘কিলার’ মিলার এবং রিলি রুশোদের পেছনে ফেলেছেন এ তরুণ। হয়েছেন সিরিজসেরা। অবশ্য ১১০ রান করে দ্বিতীয় স্থানেই আছেন প্লেসিস। ওয়ানডে সিরিজের ব্যাটিং-বোলিং নৈপুণ্যে এগিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাই।

এই মাত্রা পাওয়া