২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একাত্তরে হত্যা ও ধর্ষণের দায়ে ॥ ফোরকানের মৃত্যুদণ্ড

একাত্তরে হত্যা ও ধর্ষণের দায়ে ॥ ফোরকানের মৃত্যুদণ্ড

বিকাশ দত্ত ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা ও ধর্ষণের দায়ে পটুয়াখালীর রাজাকার ফোরকান মল্লিককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন ট্রাইব্যুনাল। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বৃহস্পতিবার এই আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম। রায় ঘোষণার সময় ফোরকান মল্লিক কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। চিন্তাযুক্ত অবস্থায় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে রায় শোনেন তিনি।

রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ফোরকান মল্লিক বড় মাপের রাজাকার না হলেও তিনি যে ধরনের অপরাধ করেছেন তার নৃশংসতা অনেক। ফোরকান মল্লিক যে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে তা প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাকে মৃত্যুদ- দেয়া হলো। ট্রাইব্যুনাল আরও বলেন, গণধর্ষণ হত্যা-গণহত্যার চেয়েও বড় অপরাধ। এ সময় শুধু ধর্ষণ করা হয়নি। ধর্ষণ অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছে। যুদ্ধের সময় ধর্ষণ সবচেয়ে মারাত্মক অস্ত্র। সেই হিসেবে তারা যে ঘটনাগুলো ঘটিয়েছিলেন। একটা সমাজকে ভীত সন্ত্রস্ত করা, মানুষকে ভীতি প্রদর্শন করা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়কে ভয় দেখিয়ে দেশ থেকে বিতাড়ন করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল।

ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে আনীত ৫টি অভিযোগের মধ্যে ৩ ও ৫ নম্বর অভিযোগে ফাঁসির দ- দেয়া হয়েছে। ৪ নম্বর অভিযোগে তাকে আমৃত্যু কারাদ- দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। অপরদিকে ১ ও ২ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়। মোট ৯৯ পৃষ্ঠা রায়ের মূল অংশ পাঠ করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহিন। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে রায় পাঠ শুরু করে ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে শেষ করেন। রায় পড়ার সময় আদালতে প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল, প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন, প্রসিকিউটর আবুল কালাম, প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়ামিন খান মুন্নী, প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে আসামি ফোরকান মল্লিকের পক্ষে এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম খান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ফোরকান মল্লিকের স্ত্রী জোবেদা বেগম ও তার বড় ছেলে জহির মল্লিক ও তার শ্যালক কবির মৃধা ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর প্রসিকিউশন পক্ষ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে পটুয়াখালীর ফোরকান মল্লিকের সর্বোচ্চ সাজা ‘প্রত্যাশিতই ছিল’। এ রায়ে আমরা খুশি। অন্যদিকে ফোরকান মল্লিকের আইনজীবী বলেছেন, এ রায়ে আমরা খুশি হতে পারিনি। “যাদের ভিক্টিম দেখানো হয়েছে তাদের দুজনও আসামিকে নির্দোষ বলে সাক্ষ্য দিয়েছে। এরপরও ট্রাইব্যুনালের রায়ের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ আছে।” আমরা রায় মেনে নিয়েছি। ফোরকান মল্লিক অত্যন্ত গরির মানুষ, তার ‘আপীলের সামর্থ্য নেই’। ফোরকান মল্লিকের স্ত্রী জোবেদা বেগমও দাবি করেন, ‘পারিবারিক শত্রুতার জন্য সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় আমার স্বামীকে জড়ানো হয়েছে।’ রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের কাছে আইনজীবী ও তার স্ত্রী এসব কথা বলেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফোরকান মল্লিকের রায়টি ২০তম রায়। এরমধ্যে ৯টি রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-১ এবং ১১টি রায় দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বাগেরহাটের তিন রাজাকার কসাই শেখ সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজ মাস্টার, আব্দুল লতিফ তালুকদার ও খান আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণার জন্য সিএভি রাখা হয়েছে। প্রসিকিউশন আশা করছে ঈদের পর তিন রাজাকারের মামলার রায়ও ঘোষনা করা হবে।

প্রসিকিউশনের সন্তোষ প্রকাশ ॥ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফোরকান মল্লিকের মৃত্যুদ- প্রদান করায় প্রসিকিউশন পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল বলেন, ‘আসামি ফোরকানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৫টি ঘটনায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল তিনটি অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছেন। ৩ এবং ৫ নম্বর অভিযোগ দুটিতে মৃত্যুদ- এবং ৪ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করেছেন। সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মৃত্যুদ- দেয়ায় আমরা সন্তুষ্ট’। অন্যদিকে প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নী বলেছেন, আসামি শুধু মানুষই হত্যা করেনি। ধর্ষণও করেছে। ধর্ষণ মুক্তিযুদ্ধের সময় অপরাধীরা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহান করেছে তা ট্রাইব্যুনালের আদেশে বেরিয়ে এসেছে। এ রায়ে আমি খুশি।

আপীল করার সামর্থ্য নেই ॥ আসামি পক্ষের আইনজীবী আব্দুস সালাম খান বলেন, রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “উনি দিনমজুর। আপীল করার মতো এবিলিটি তার নেই। আমি নিজেও ট্রাইব্যুনালে মামলা লড়েছি বিনা টাকায়। তারপরও আমরা ইনসিস্ট করেছি আপীল করার জন্য। অর্থিক সামর্থ্য না থাকলেও একজন আইনজীবী হিসেবে তার ও পরিবারের প্রতি আমার পরামর্শ হলো আপীল করার। ফোরকান মল্লিক একজন নিতান্ত গরিব মানুষ। সে পরের বাড়ি কাজ করত। তার রাজনৈতিক কোন পরিচয় নেই। তার ছেলেমেয়েরা গার্মেন্টসে কাজ করে সংসার চালায়। জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তার চাচাত ভাই আব্দুল হামিদ ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছিলেন। আইনজীবী দাবি করেন, ফোরকান মল্লিককে যেসব অভিযোগে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে তিনি তার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এমনকি যাদের ভুক্তভোগী দেখানো হয়েছে তারাও বলেননি যে ফোরকান মল্লিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ফোরকান মল্লিকের আপীল করার সামর্থ্য নেই।

মামলার কার্যক্রম ॥ ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থা তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। ২৮ অক্টোবর এ প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেয়া হয়। ২০১৩ সালের ২৬ জুন শুরু করে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত মামলাটির তদন্ত করেন তদন্ত কর্মকর্তা সত্যরঞ্জন রায়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের দায়ে ২০০৯ সালের ২১ জুলাই ফোরকানের বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জ থানায় আবদুল হামিদ নামে এক ব্যক্তি মামলা দায়ের করেন।

২০১০ সালের ফেরুয়ারিতে ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে পটুয়াখালীর আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় তিনি উচ্চ আদালত থেকে ছয় মাসের জামিন নেন। গত বছরের ৩০ মার্চ বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালে তার বিরুদ্ধে হত্যা, লুণ্ঠন, খুন, ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পান পটুয়াখালীর আদালত। তখন মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন রেজিস্ট্রার একেএম নাসির উদ্দিন মাহমুদ মামলাটি ২০১৪ সালের ২৫ জুন তদন্ত সংস্থার কাছে পাঠান। তদন্ত সংস্থা মামলাটি গ্রহণ করে ২৬ জুন থেকে তদন্ত শুরু করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সত্যরঞ্জন রায়। ২০১৪ সালের ৩০ জুন ফোরকান মল্লিককে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেফতার দেখানো (শ্যোন এ্যারেস্ট) ও তদন্তের স্বার্থে ট্রাইব্যুনালে হাজির করানোর আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ফোরকান মল্লিককে ৩ জুলাই ট্রাইব্যুনালে হাজির করানোর জন্য কারা মহাপরিদর্শককে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ৩ জুলাই ফোরকান মল্লিককে হাজির করা হয়ে গ্রেফতার দেখিয়ে (শ্যোন এ্যারেস্ট) কারাগারে পাঠান ট্রাইব্যুনাল। ২০১৪ সালের ২৫ জুন সকালে পটুয়াখালী গোয়েন্দারা বরিশালের রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ফোরকান মল্লিককে গ্রেফতার করা হয়।

প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ২০১৫ সালের ২৮ মে থেকে শুরু করে ১ জুন যুক্তিতর্ক শেষ করেন। অন্যদিকে আসামি পক্ষ ২ জুন থেকে শরু করে তিন কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক শেষ করেন। আসামি ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সত্য রঞ্জন রায়সহ মোট ১৪ জন সাক্ষী জবানবন্দী প্রদান করেছেন। জবানবন্দী শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী তাদের জেরা করেছেন। ২৬ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ফোরকান মল্লিকের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন চারজন সাফাই সাক্ষী। ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর ফোরকান মল্লিকের বিরদ্ধে হত্যা-গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরকরণ ও দেশান্তরকরণের ৫টি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৮ জনকে হত্যা ও গণহত্যা, ৪ জনকে ধর্ষণ, ৩ জনকে ধর্মান্তরকরণ, ১৩টি পরিবারকে দেশান্তরকরণ, ৬৪টি বসতঘর ও দোকানপাটে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ। ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল। বিপক্ষে শুনানি করেন ফোরকান মল্লিকের আইনজীবী আব্দুস সালাম খান।

যারা সাক্ষী দিয়েছেন ॥ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা সত্য রঞ্জন রায়সহ প্রসিকিউশন পক্ষের ১৪ জন সাক্ষী। সাক্ষীরা হলেন, মোঃ হাবিবুর রহমান বাদশা, মোঃ চাঁন মিয়া, কবিরাজ শান্তি রঞ্জন দে, নির্যাতনের শিকার একজন নারী সাক্ষী (ক্যামেরা ট্রায়াল), সেলিম হাওলাদার, মোঃ হাবিবুর রহমান মৃধা, মতিলাল রায়, মোঃ সুন্দর গাজী, রাখাল চন্দ্র ভক্ত, পুষ্প রানী কর্মকার, রাজিয়া বেগম, সালেহা বেগম ও আব্দুল হামিদ মল্লিক। অন্যদিকে ফোরকান মল্লিকের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন চারজন সাফাই সাক্ষী। তারা হলেন- ইসহাক আলী খান, মৃদুল চন্দ্র সেন মধু, গোবিন্দ কুন্ডু ।

২০ তম রায় ॥ ২০১০ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত ২০টি মামলার রায় হয়েছে। তার মধ্যে ২২ জনকে বিভিন্ন দ- প্রদান করা হয়েছে। যাদের দ- দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন, জামায়াতের সাবেক রুকন বাচ্চু রাজাকার হিসেবে পরিচিত আবুল কালাম আজাদ (মৃত্যুদ-), জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লা (আমৃত্যু কারাদ- (আপীলে মৃত্যুদ-, পরবর্তীতে রায় কার্যকর), জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (মৃত্যুদ-) আপীলে আমৃত্যু কারাদ-, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান (মৃত্যুদ-) আপীল বিভাগেও মৃত্যুদ- বহাল, পরবর্তীতে রায় কার্যকর। জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম (৯০ বছরের কারাদ-) অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ (মৃত্যুদ-), ১৬ জুন আপীল বিভাগেও তার মৃত্যুদ- বহাল রেখেছেন। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষায়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (মৃত্যুদ-), আপীল বিভাগ ২৯ জুলাই রায় ঘোষণা করবেন। বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আব্দুল আলীম (আমৃত্যু করাদ-) অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ, বদর বাহিনীর নেতা চৌধুরী মাঈনুদ্দিন এবং মোঃ আশরাফুজ্জামান খান (মৃত্যুদ-), জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী (মৃত্যুদ-), জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর কাশেম আলী (মৃত্যুদণ্ড), বিএনপি নেতা নগরকান্দা পৌর মেয়র জাহিদ হোসেন খোকন ওরফে খোকন রাজাকার(মৃত্যদন্ড), আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত মোঃ মোবারক হোসেন (মৃত্যুদণ্ড), জাতীয় পাটির সাবেক মন্ত্রী কায়সার বাহিনীর প্রধান সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার (মৃত্যুদণ্ড), জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজাহারুল ইসলাম (মৃত্যুদণ্ড) জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সুবহান (মৃত্যুদন্ড) ও জাতীয় পাটির আব্দুল জব্বার (আমৃত্যু কারাদ-)। মাহিদুর রহমান এবং আফসার হোসেন চুটু (আমৃত্যুকারাদ-), হাসান আলী (মৃত্যুদ-) সর্বশেষ ফোরকান মল্লিককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান প্রদান করা হয়েছে।