১৯ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঈদে বাড়ি যাচ্ছেন দুষ্ট চক্র থেকে সাবধান!

শংকর কুমার দে ॥ সাবধান! ঈদের ছুটির আনন্দে মেতে থাকার সঙ্গে সতর্ক ও সাবধান থাকবেন। নতুবা পড়তে পারেন অপরাধী চক্রের খপ্পরে। বিপদ হতে পারে অনবধানতায়। চুরি-গণচুরি, ছিনতাই-গণছিনতাই, প্রতারক কিংবা প্রতারণার খপ্পরে পড়ার আশঙ্কা থাকে বেশি। তাই, বিশেষ করে ঈদের ছুটিতে যারা গ্রামের বাড়িতে যাবেন তাদের বাড়িতে বা ফ্ল্যাটে চুরি কিংবা গণচুরি হতে পারে। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসা ও যাওয়ার পথে অপরিচিত ব্যক্তি প্রলোভনের টোপ দিয়ে বিষাক্ত কিছু খাইয়ে অজ্ঞান করে সর্বস্ব কেড়ে নিতে পারে। যারা রাজধানীতে থাকবেন তারা ঈদের সময়ে নির্জনস্থানে গণছিনতাইয়ের শিকারে পড়তে পারেন। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়ে সতর্ক ও সাবধান করে দেয়া হয়েছে।

প্রতিবছরই ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে নির্জনস্থানে গণছিনতাইয়ের রেকর্ড আছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার খাতায়। প্রতি ঈদের ছুটিতেই রাজধানী ফাঁকা করে নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িতে চলে যায় অনেকেই। রাজধানী ফাঁকা হয়ে যাওয়ার সুযোগে আবাসিক এলাকায় ও ফ্ল্যাটে গণচুরি হয়। গণচুরি ও গণডাকাতি হয় মার্কেটে বা বিপণী বিতানে। সংঘবদ্ধ অপরাধী দল ঈদের ছুটির ফাঁদে ফেলে এই ধরনের অপরাধ করার সুযোগ নেয়। বাড়ির ও ফ্ল্যাটের তালা ভেঙ্গে বা জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে সর্বস্ব নিয়ে চলে যায় অপরাধী চক্র। মার্কেটে বা বিপণী বিতানের দারোয়ান বা সিকিউরিটি গার্ডদের হাত করে বা প্রলোভন দিয়ে কিছু খাইয়ে অজ্ঞান করে হাত-পা বেঁধে মার্কেটের দোকানে গণচুরি বা গণডাকাতি করে দুর্বৃত্ত চক্র।

প্রতি ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে গণছিনতাই, গণচুরি বা গণডাকাতির মতো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি অনেকেই অবগত থাকলেও সতর্ক বা সাবধান হওয়ার ব্যাপারে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে অবহেলা করেন অনেকেই। এই সুযোগে দুর্বৃত্ত চক্র সর্বস্ব লুটে নিয়ে যায়। ঈদের ছুটি শেষে গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরে এসে সর্বস্ব লুটে নেয়ার ঘটনা দেখে মাথায় হাত পড়ে। ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ঘটনার বিবরণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার হয় না। থানা পুলিশের তখন আর খুব একটা বেশি কিছু করা হয় না বলে অতীতে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে রাজধানীবাসীকে যারা ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যাবেন তাদের আগাম সতর্ক ও সাবধান করে দিয়েছেন।

পুলিশ প্রশাসনের দেয়া পরামর্শ হচ্ছে, যারা ঈদের ছুটিতে ঢাকার বাইরে যাবেন কিংবা ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরে আসবেন, তারা সময় নিয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে পারেন, যাতে শেষ মুহূর্তের ট্রেন, বাস, লঞ্চ ও ফেরিঘাটের মারাত্মক ভিড় এড়িয়ে নির্বিঘেœ প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করা যায়। রেল, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে, যাত্রা এবং চলার পথে পাশের যাত্রী, অপরিচিত কোন ব্যক্তি, হকার কিংবা ফেরিওয়ালার কাছে থেকে খাদ্যসামগ্রী, চা-সিগারেট, পান-বিড়ি, কলা-রুটি, চকলেট, শরবত, জুস, কোমল পানীয় বা অন্য কোন খাবার গ্রহণ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অভিহিত করে তা গ্রহণ থেকে সতর্ক ও সাবধান থাকার জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষ পরামর্শ দিয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ হলে তারা নাগরিক সচেতনতার উপদেশ দিয়ে বলেছেন, শুধুমাত্র পুলিশী নিরাপত্তাই যথেষ্ট নয়। ঈদের ছুটিতে যারা গ্রামের বাড়িতে যাবেন তারা দরজা, জানালা ঠিকমত লাগানো হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হবেন। রাতে বাসার বা দোকানের চারপাশে আলোকিত রাখার ব্যবস্থা করবেন। মূল্যবান দলিল ও মূল্যবান সম্পদ ব্যাংকের লকারে রাখতে হবে। ঈদের ছুটিতে যারা গ্রামের বাড়িতে যাবেন তারা রাজধানীর বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকানপাটে যাতে চুরি, গণচুরি, গণডাকাতির মুখে না পড়েন সেই জন্য আগে থেকেই কর্তব্যরত দারোয়ান, সিকিউরিটি গার্ডসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিপদের আশঙ্কা থাকলে সংশ্লিষ্ট থানা ও পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করবেন। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবারের ঈদের ছুটিতে বেশি ও পর্যাপ্ত পুলিশী নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদের ছুটির সময়ে রাজধানী ফাঁকা থাকার সুযোগে অপরাধী চক্র গণছিনতাই, গণডাকাতিসহ নানা ধরনের অপরাধ করতে পারে। এই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষ সতর্ক ও সাবধান করে দিয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ