২১ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশ বিশ্বে উদাহরণ

তৌহিদুর রহমান ॥ জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে বাংলাদেশ। সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশকে এখন ‘উদাহরণ’ হিসেবে বিবেচনা করছে বিশ্ব। সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার, বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য নানা দেশ থেকে এখন প্রশংসা মিলছে। সর্বশেষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক প্রতিবেদনে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে প্রশংসা পেয়েছে বাংলাদেশ।

সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ বিশ্বজুড়েই এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে তৃণমূল জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করেছে বাংলাদেশ। বিভিন্নভাবে তাদের সচেতনতার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ করেছে সরকার। সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকেও সম্পৃক্ত করেছে সরকার। এছাড়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনও পাস করেছে বাংলাদেশ। জঙ্গীবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধেও বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এসব কাজের মধ্যে দিয়ে এই প্রশংসা মিলেছে।

জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেছেন, সরকারের পররাষ্ট্র নীতির মধ্যে রয়েছে শান্তি ও উন্নয়ন। তাই আমরা শান্তি চাই। যে কোন ধরনের চরমপন্থা, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। আমরা জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ দমনে বিভিন্ন কর্মসূচী নিয়েছি। এসব কর্মসূচী বাস্তবায়নও করা হচ্ছে। বিগত কয়েক বছর ধরে জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সরকার সফলও হয়েছে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই জেনেভাভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল কমিউনিটি এনগেজমেন্ট এ্যান্ড রেজিলেন্স ফান্ডের (জিসিইআরএফ) সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে কাজ করছে জিসিআইএফ। বাংলাদেশ, মালে, মরক্কো, নাইজিরিয়া ও পাকিস্তানে জিসিআরইএফ’র অর্থায়নে বিভিন্ন কর্মসূচীও বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে আইএস জঙ্গী দমনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত বৈশ্বিক জোটে যোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দেশটি। বাংলাদেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়, জাতিসংঘের নেতৃত্বে আইএস বিরোধী জোট গঠন হলে সেই জোটে বাংলাদেশ যোগ দেবে। তবে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আইএসবিরোধী জোটে যোগ না দিলেও বিশ্বজুড়ে প্রশংসা পাচ্ছে।

এদিকে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার দেশী ও আন্তঃদেশীয় পর্যায়ে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলো মোকাবেলায় দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেখানোয় ২০১৪ সালে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে অগ্রগতি সাধন করেছে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশীয় ও আন্তঃদেশীয় পর্যায়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো মোকাবেলায় বাংলাদেশ রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছে। আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এবং নিজ দেশে তাদের স্বর্গরাজ্য প্রতিষ্ঠা ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ।

মার্কিন পরররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা বিশ্বেই সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৪ সালে বিশটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ১০০ জনের বেশি নিহত হয়েছে, যেখানে আগের বছর এ ধরনের দুটি হামলার ঘটনা ঘটে। তবে ওই বছর বাংলাদেশে বড় ধরনের কোন সন্ত্রাসী ঘটনা সংঘটিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশের নানা প্রচেষ্টার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে, যার মধ্যে রয়েছে- আইন প্রণয়ন, আইনশৃঙ্খলা জোরদার, সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসের অর্থায়ন প্রতিরোধ, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সহিংসতা ও সহিংস জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ। এতে বলা হয়, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো তাদের জঙ্গীবাদের আদর্শ প্রচার করে বাংলাদেশ থেকে বিদেশের জন্য যোদ্ধা সংগ্রহ করতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করছে। সীমান্তে এবং স্থল, সাগর ও বিমানবন্দরের প্রবেশ পথে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ।

এছাড়া সন্ত্রাস প্রতিরোধে সহযোগিতা কর্মসূচীতে বাংলাদেশের নিরবচ্ছিন্ন অংশগ্রহণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রশিক্ষণ গ্রহণের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। সহিংস জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে কৌশলগত যোগাযোগ স্থাপন করেছে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাদ্রাসা শিক্ষার ওপর নজরদারি করছে এবং মানসম্পন্ন জাতীয় পাঠ্যক্রম তৈরি করছে। এতে ভাষা শিক্ষা, গণিত ও বিজ্ঞান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে ইমাম ও আলেমদের নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে গত ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফরকালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়। বৈঠকে জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন মোদি। প্রতিবেশী হিসেবে ভবিষ্যতেও দুই দেশ একযোগে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে কাজ করে যাবে বলেও তাদের ঐকমত্য হয়েছে।

এর আগে গত এপ্রিলে ঢাকায় আসেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ওয়েন্ডি শারম্যান এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল। তারা দু’জনেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বলেন, ‘সন্ত্রাস মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে নিতে পারে’। সে সময় বৈশ্বিক সন্ত্রাস ও চরমপন্থা মোকাবেলায় বাংলাদেশের পরামর্শ চায় যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে বিশ্ব নেতারা প্রশংসা করেন।