১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ট্রেন বাস লঞ্চ টার্মিনালে দিনভর ঘরমুখো মানুষের স্রোত

  • আন্তঃ মন্ত্রণালয়ের অধিকাংশ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি ॥ কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্ন যানজট

রাজন ভট্টাচার্য ॥ ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের অধিকাংশ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। প্রয়োজনীয় তদারকির অভাবেই জনস্বার্থে নেয়া এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। সড়ক,নৌ ও রেলপথে অন্তত দেড় শতাধিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এর অর্ধেকেরও কম বাস্তবায়ন হয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার দিনভর ছিল টার্মিনালমুখী ঘরমুখো মানুষের জনস্রোত। ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন রাজধানীবাসী। বাড়তি বাসভাড়া গুনতে হয়েছে মহাখালী ও সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে যাওয়া যাত্রীদের। মহাসড়কে চলছে অযান্ত্রিক ও পণ্যবাহী যানবাহন। সড়কের পাশে অবৈধ টার্মিনাল, বাজার, স্থাপনাসহ যানজট কমবেশি আছেই। ঢাকার ১৩ প্রবেশমুখ ও বের হওয়ার রাস্তায় যানজট থামেনি। মহাসড়কে চলছে রাজধানীতে চলা লক্কড়-ঝক্কড় বাস। বেশিরভাগ ট্রেনের সিডিউল ঠিক ছিল। নদী পথেও বাড়তি ভাড়াও অভিযোগ মিলেছে যাত্রীদের। অথচ এসব বিষয় খতিয়ে দেখার মতো কেউ ছিল না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা। প্রশ্ন হলো, তাহলে নিজ দায়িত্ব থেকে কারোরই কিছু করার নেই! যদি নাই থাকে; তাহলে সব সময়ই সিদ্ধান্তগুলো কাগুজে বাঘ হয়ে থাকবে।

অথচ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র, নৌ-পরিবহন, রেলসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যৌথভাবে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। হয়ত এবারও সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ার নেপথ্য কারণ সবার অগোচরেই থেকে যাবে।

নির্দেশনা উপেক্ষা করে মহাসড়কে পণ্যবাহী যান ॥ ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক ও কভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হলেও গাজীপুরের ওপর দিয়ে যাওয়া দুটি মহাসড়কে দিনের বেলায় এসব যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের মিছিলের মধ্যে এ ধরনের যান চলাচলের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন জট তৈরি হচ্ছে বলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবারও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস মোড়, চান্দনা-চৌরাস্তা মোড়, শ্রীপুরের মাওনা-চৌরাস্তা এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ি, কড্ডা, সফিপুর, মৌচাক ও চন্দ্রা এলাকায় যানবাহনের জট দেখা গেছে। ২৩ জুন ঈদ প্রস্তুতি উপলক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, মহাসড়কে যানজট রোধে ঈদের আগে ও পরের তিনদিন জাতীয়-আঞ্চলিক মহাসড়কে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, পচনশীল দ্রব্য , গার্মেন্টস সামগ্রী, ওষুধ, কাঁচা চামড়া, জ্বালানি বহনকারী যানবাহন এর আওতামুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও ঈদের সময় সড়ক মহাসড়কে নসিমন, করিমন-ভটভটি থেকে শুরু করে অটোরিক্সাসহ অযান্ত্রিক যান চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু দেশের বেশিরভাগ মহাসড়কেই এসব যানবাহন চলছে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হোসেন জানান, ট্রাক-কভার্ড ভ্যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার কথা হাইওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের বুধবারই জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই তা কার্যকর হওয়ার কথা। তারপরও এসব যানবাহন কেন চলতে দেয়া হচ্ছে বুঝতে পারছি না। কোনাবাড়ি এলাকায় দায়িত্বপালনরত সালনা হাইওয়ে থানার ওসি দাউদ খান বলেন, তারা ট্রাক-কভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। বরং কখনো কখনো জটিলতা বাড়ছে। সড়কে এসব গাড়ি থামাতে গিয়ে আরও বিপত্তিতে পড়ছি। যানজট হচ্ছে। আবার ভোগড়া বাইপাস দিয়ে এসব গাড়ি চলা বন্ধ না হওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ট্রাক-ভ্যান চলছে, যানজট হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের বর্ষা সিনেমা হলের পাশে, বাসন সড়ক, গাজীপুরা, টঙ্গী কলেজ গেটসহ বিভিন্ন স্থানে ‘ইউ টার্ন’ বন্ধ না করার কারণেও জটিলতা বেড়েছে বলে জানান এই পুলিশ সদস্য। অবশ্য নাওজোর মহাসড়ক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বাহার আলম অনেক ‘ইউ টার্ন’ বন্ধ করে দেয়ার কথা জানিয়েছেন। যানজটের বিষফোঁড়া হিসেবে খ্যাত চন্দ্রা এলাকায় দায়িত্বরত গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মাঝেমধ্যে ট্রাক, ট্যাঙ্ক লরি ও কভার্ডভ্যান চলাচল করলে তো আর মাঝপথে এগুলো বন্ধ করা যায় না।

এদিকে মহাসড়কে যানজট রোধে রাজধানীতে চলা যানবাহনগুলো যেন কোনভাবেই ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে আন্তঃজেলা রুটে চলতে না পারে সে ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু বুধবার থেকেই রাজধানীতে চলাচল করা গণপরিবহন কমতে থাকে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বেশি আয়ের আশায় বেশকিছু বাস, রিজার্ভ যাত্রী নিয়ে রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলোতে যেতে শুরু করেছে। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মন্ত্রী আসবেন তাই ...॥ ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন রুটে চলবে বিআরটিসি’র ৫০৬টি বাস। এছাড়া প্রয়োজনে আরও ৫৫টি বাস দেয়ার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার দুপুরে মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা জানান। কাদের বলেন, আগের যে কোন বছরের তুলনায় এবার পরিস্থিতি অনেক ভাল। রাস্তাগুলো ভাল বলে যাতায়াত সুবিধাজনক হবে।

যাত্রীদের গাড়ি পেতে যেন কোন সমস্যা না হয়, সে বিবেচনায় ঈদে ৫০৬টি বিআরটিসি বাস চালু থাকছে। এছাড়া বিআরটিসির আরও ৫৫টি বাস থাকছে রিজার্ভ। যে কোন মুহূর্তে প্রয়োজনে সেগুলো কাজে লাগানো হবে। ওবায়দুল কাদের প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা এ টার্মিনালের সার্বিক চিত্র পরিদর্শন করেন। এনা ট্রান্সপোর্টের একটি বাসে উঠে তিনি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়া টিকেট কাটার জন্য কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়ানো যাত্রী ও কাউন্টারের কর্মীদের সঙ্গেও আলাপ করেন তিনি।