১৫ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিএনপি নেতারা এবার স্বস্তিতে ঈদ করতে পারছেন না

শরীফুল ইসলাম ॥ মামলার কারণে এবার বিএনপি নেতারা স্বস্তিতে ঈদ করতে পারছেন না। ইতোমধ্যেই মামলায় জড়িয়ে বেশ কয়েক নেতা কারাগারে, কেউ কেউ গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বাকি নেতার অধিকাংশই গ্রেফতার আতঙ্কে অস্বস্তিতে রয়েছেন। এমতাবস্থায় এবার বিএনপি নেতাদের চরম অস্বস্তির মধ্যেই ঈদ করতে হবে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আগে থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে টানা অবরোধ চলাকালে পেট্রোলবোমা নাশকতার অভিযোগে যে মামলা হয়েছে সে মামলার বিচার ঈদের পর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আরেকটি বিষয় নিয়েও এবার খালেদা জিয়ার মন খারাপ। তা হলো প্রতিবছর রোজায় অনেক সফরসঙ্গী নিয়ে খালেদা জিয়া সৌদি বাদশার মেহমান হিসেবে ওমরাহ করতে যান। কিন্তু এবার একদিকে সৌদি আরব থেকে তাকে সফরসঙ্গীর সংখ্যা কমাতে বলা হয়েছে এবং অপরদিকে মামলার আসামি হওয়ায় তার ক’জন সফরসঙ্গীকে ভিসা দেয়া হয়নি। এ ছাড়া পাসপোর্টের মেয়াদ ২০১৩ সালে শেষ হয়ে যাওয়ায় ছেলে তারেক রহমানকেও লন্ডন থেকে সৌদি আরব আসার সুযোগ দেয়া হয়নি। আর খালেদা জিয়ার কাছে খবর পৌঁছে ওমরাহ করতে গেলে তার অনুপস্থিতিতে বিএনপির কিছু সিনিয়র নেতা নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারেন। এসব কিছু বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত এবার ওমরাহ করতে যাননি খালেদা জিয়া। আরেকটি কারণে এবার তার মন খারাপ, সেটি হচ্ছে মাত্র কয়েক মাস আগে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো মারা গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া এবার স্বস্তিতে ঈদ করতে পারবেন না, এটাই স্বাভাবিক।

খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এ কারণে লন্ডন থেকে দেশে ফিরতে পারছেন না তিনি। আর গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় সরকারের সহযোগিতা নিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট নবায়ন করতে পারছেন না তিনি। এ কারণে লন্ডন থেকে অন্য কোন দেশে বেড়াতেও যেতে পারছেন না তিনি। ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো মালয়েশিয়ায় মারা যাওয়ার পর লাশ দেখতেও যেতে পারেননি তিনি। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনিও এবার স্বস্তিতে ঈদ করতে পারছেন না।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে কোন রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। ৭৮ মামলার আসামি মির্জা ফখরুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে উত্তরার বাসায় ফিরে গেছেন তিনি। তবে ঈদের পর চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন। এ কারণে তিনি এবার আগের মতো দলের নেতাকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্বস্তিতে ঈদ করতে পারছেন না।

চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও এখন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় দেশে ফিরে আসছেন না বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা। ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) আলতাফ হোসেন চৌধুরী,শমসের মবিন চৌধুরী, মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও সেলিমা রহমানের বিরুদ্ধেও নাশকতার অভিযোগে মামলা রয়েছে। আরেক ভাইস -চেয়ারম্যান বিচারপতি টিএইচ খান অসুস্থ। তাই তারা এবার স্বস্তিতে ঈদ করতে পারছেন না।

২৪ নাশকতার মামলার আসামি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও কারাগারে বন্দী। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত। মামলার কারণে গ্রেফতার এড়াতে বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান। ২৭ মামলার আসামি যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতের মেঘালয়ে। যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলুর বিরুদ্ধে রয়েছে ৫০টি মামলা। বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু ও লুৎফুজ্জামান বাবরকেও কারাগারেই ঈদ করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা রয়েছে। এ ছাড়া সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক নাদিম মোস্তফা, নির্বাহী কমিটির সদস্য বেলাল আহমেদকেও কারাগারেই অস্বস্তিতে ঈদ করতে হবে।