১৮ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আগারগাঁও ও রংপুরে নিহত ৩

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিনজন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইয়াসিন সরকার রাজন (৩২) নামে এক যুবক র‌্যাবের হাতে নিহত হয়েছে। র‌্যাব কর্তৃপক্ষ জানায়, সে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। রংপুরে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে হত্যা মামলার আসামি দুই ভাই নিহত হয়েছে। এরা হচ্ছে মানিক (৩০) ও সুমন (২৬)। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ইয়াসিন সরকার রাজন (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। র‌্যাব কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহত যুবক ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক ক্যাপ্টেন মাকসুদুল আলম জানান, বুধবার রাতভর র‌্যাব-২ এর একটি দল তালতলা এলাকায় টহল দিচ্ছিল। রাত পৌনে ৩টার দিকে ওই এলাকায় সন্দেহভাজন কয়েক যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখে টহল দলটি। তাদের থামতে বললে যুবকরা র‌্যাবকে উদ্দেশ করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় উভয়ের গোলাগুলিতে ছিনতাইকারী চক্রের এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে আহত অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে নেয়া হলে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে জানান ক্যাপ্টেন মাকসুদুল। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুটি বিদেশী পিস্তল ও সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে শেরেবাংলানগর থানার পুলিশ তার লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠায়। নিহত রাজনের বাবার নাম মৃত জহিরুল হক। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার খোদেদাউদপুর গ্রামে।

নিহতের দুলাভাই উজ্জল মিয়া জানান, টেলিভিশনে সংবাদ দেখে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসে লাশ শনাক্ত করেন। তিনি জানান, রাজন পশ্চিম আগারগাঁওয়ের শাপলা হাউজিংয়ে স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন। ওই এলাকায় ঠিকাদারির কাজ করতেন তিনি। ২০১২-১৪ সালে দুটি হত্যা মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। এ মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন। নিহতের দুলাভাই আরও জানান, গত ১২ জুলাই রাতে মিরপুর ২ নম্বর সনি সিনেমা হলের সামনে থেকে রাজনকে তুলে নিয়ে যায় র‌্যাবের সদস্যরা। পরে বৃহস্পতিবার সকালে লাশ পাওয়া যায়।

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে জানান, রংপুরে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আপন দুই ভাই নিহত হয়েছে। বুধবার রাত ৩টায় নগরীর ধাপ চেকপোস্টের কাছে ঘটে এ ঘটনা। র‌্যাব ও পুলিশের দাবি, নিহত দুই ভাই গত ১১ জুলাই রাতে ওই এলাকার মোটর শ্রমিক লিমন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে এবং তারা ওই এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী। অন্যদিকে নিহতের পিতা আমির আলী অভিযোগ করেছেন, তার দুই ছেলেকে গত ৫/৬দিন আগে র‌্যাব তাদের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যান। এরপর থেকে তাদের আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। আজ ভোরে তিনি জানতে পারেন র‌্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে মারা গেছে তারা। এ ঘটনায় আহত হয়েছে র‌্যাবের দুই সদস্য। তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, রাতে নগরীর ধাপ আর কে রোডে আর্মি চেকপোস্টের কাছে টহল দেয়ার সময় ওই দুই যুবককে তাদের সন্দেহ হয়। এ সময় র‌্যাব তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা উভয়েই র‌্যাবকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লে গুলিবিদ্ধ হয় দু’জন। পরে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতরা হলো মানিক (৩০) ও তার ছোট ভাই সুমন (২৬)। জানা গেছে, সংলগ্নখলিফাটারী এলাকার ফুটপাথের চা দোকানি আমির আলীর তিন ছেলের মধ্যে মানিক ও সুমন যথাক্রমে মেজো ও ছোট। তার বড় ছেলে রতন বছর তিনেক আগে সন্ত্রাসী ঘটনাতেই খুন হয়। এছাড়া তার একমাত্র মেয়ে এবং স্ত্রীও মারা গেছেন কিছুদিন আগে। দুই ছেলেকে হারানোর পর বর্তমানে তিনি একা হয়ে গেলেন। মানিক বিআরটিসি স্ট্যান্ডে চা দোকানের কর্মচারী এবং সুমন ওই এলাকায় একটি সাইকেল গ্যারেজ পরিচালনা করত। এ ঘটনায় আহত হন র‌্যাবের এস আই সাইফুল ও এল এস ইমরান। তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, ঘটনার সময় সেখানে বেশ কয়েক রাউন্ড গোলাগুলির শব্দ পান তারা। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এলাকাবাসী। রাতেই নিহতদের লাশ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জিলানী জানান, ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিকেলে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত থানায় কোন পক্ষই কোন মামলা করেনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাব রংপুর ১৩ অফিসের এ.এসপি মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, পরবর্তীতে তারা প্রেসব্রিফিং করে বিস্তারিত জানাবেন। বিকেলে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত প্রেসবিফ্রিং করেনি তারা। সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে র‌্যাব। তবে সেখানে এ বিষয়ে কিছু বলবেন কী না সে সম্পর্কে কিছু জানায়নি তারা।