২০ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গভীর মন্দায় পড়তে পারে গ্রীস

  • কঠোর কৃচ্ছ্র কর্মসূচী পার্লামেন্টে অনুমোদন

ঋণগ্রস্ত দেশ গ্রীসের পার্লামেন্ট বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে নতুন বেদনাদায়ক কৃচ্ছ্রমূলক অর্থনৈতিক পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির ৮,৬০০ কোটি ইউরোর বেইল আউটের (দেউলিয়াত্ব ঠেকাতে অর্থ সহায়তা) প্রতি ইউরোপের অনুমোদন পাওয়ার পথ সুগম হলো এবং দেশটি দেউলিয়া হয়ে পড়ার হাত থেকে রেহাই পেতে পারে। কিন্তু সরকারী ব্যয় হ্রাসের ফলে গ্রীসের অর্থনীতি আরও গভীর মন্দার আবর্তে পড়তে পারে এবং গ্রীসবাসীর জীবনযাত্রা প্রায় নিশ্চিতভাবেই আরও কঠিন হয়ে পড়বে। গ্রীসকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে নয়তো অপরিহার্য নতুন বেইল আউট পাওয়ার সব সুযোগই হারাতে হবেÑ ঋণদাতাদের এমন হুমকির মুখে দেশটি কঠোর কৃচ্ছ্রমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। খবর বিবিসি, নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনের।

ব্যাংকগুলো দিনের পর দিন বন্ধ থাকা এবং অর্থনীতি পতনের মুখে থাকার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী আলেক্সিস সিপরাস ওইসব পদক্ষেপ নিতে পার্লামেন্টের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ঋণদাতাদের প্রস্তাবিত চুক্তিটি কঠিন হলেও এটিই ছিল মানবিক ও আর্থিক বিপর্যয় এড়ানোর একমাত্র পথ। কৃচ্ছ্রমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের বিলটি সহজেই ২২৯-৬৪ ভোটে পাস হয়। এবং ছয় এমপি ভোটদানে বিরত থাকেন। এর পক্ষে সমর্থন অনেকাংশে বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকেই পাওয়া যায়। সিপরাসের তিন মন্ত্রীসহ তার নিজ দল সিরিজা পার্টির ৩২ সদস্য বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন। এতে তার বামপন্থী কোয়ালিশন সরকারের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সিপরাস বলেন যে, তিনি ওই চুক্তিতে বিশ্বাস করেন না। তবুও তিনি বিলটির পক্ষে ভোট দিতে বলেন। তিনি বলেন, ঋণদাতাদের প্রস্তাবের বিকল্প ইউরোজোন থেকে বহিষ্কার আরও বড় অনিষ্ট ডেকে আনবে। তিনি বলেন, তিনি ব্যাংকগুলোর পতন ও গ্রীসের দুর্যোগ ঠেকাতে ‘অযৌক্তিক’ প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে ইচ্ছুক। ভোটাভুটির আগে প্রতিবাদীরা পার্লামেন্ট ভবনের কাছে কৃচ্ছ্রনীতি বিরোধী এক বিক্ষোভকালে পুলিশের দিকে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে এর জবাব দেয়।

পার্লামেন্ট সদস্যদের অনুমোদিত বেইল আউট পরিকল্পনায় এমন অনেক পদক্ষেপই রয়েছে, যেগুলো দু’সপ্তাহ আগে গণভোটে ভোটাররা প্রত্যাখ্যান করেছিল। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগণের ওপর কর বৃদ্ধি, পেনশন হ্রাস এবং বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি। এর ফলে সরকারী ব্যয় আগামী বছরগুলোতে সঙ্কুচিত করা হবে। এমনকি কৃচ্ছ্রমূলক পদক্ষেপ পার্লামেন্টে অনুমোদিত হলেও গ্রীসের অর্থনৈতিক ভবিষ্যত অনিশ্চিতই রয়ে গেছে। শুক্রবার এক ভোটাভুটিতে জার্মানির পার্লামেন্টকে চুক্তিটিতে এর নিজস্ব অনুমোদন দিতে হবে, যদিও বার্লিনে গ্রীসকে অনেকবার বেইল আউট দেয়ার প্রস্তাবের প্রতি বিরোধিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউরোজোনের অন্য কয়েকটি দেশের পার্লামেন্টেও প্রস্তাবটি অনুমোদিত হতে হবে। এদিকে, আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্রীসকে এর ঋণ পরিশোধের জন্য যথেষ্ট জরুরী তহবিল যোগানোর জন্য ইউরোপীয় অর্থমন্ত্রীদের এক উপায় উদ্ভাবন করতে হবে। সবচেয়ে জরুরী হলো সোমবারের মধ্যে ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের পাওনা ৩৫০ কোটি ইউরো পরিশোধ করা।

গ্রীস এখনই অর্থ সঙ্কটের মুখে রয়েছে। ব্যাংকগুলো ২৯ জুন থেকে বন্ধ আছে। সিপরাস ইতোপূর্বে সতর্ক করে দেন যে, বেইল আউট চুক্তিটি অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংকগুলো পুনরায় খোলার সম্ভাবনা নেই এবং এতে আরেক মাস লাগতে পারে। ইউরোপিয়ান কমিশন গ্রীসকে ইইউ বিস্তৃত ইউরোপিয়ান ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি মেকানিজমের (ইএফএসএম) মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদী ৭০০ কোটি ইউরো দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব করেছে।