২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরলেন নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা

  • প্রথম দিনে নিজ কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি দিকনির্দেশনা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রথমদিন নিজ কার্যালয়ে এসে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা দেশ পরিচালনায় বিভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরলেন। এর মধ্যে মানবপাচার বন্ধ করাকেই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করলেন নতুন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের দায়িত্ব পাওয়া নতুন প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, ঘুষের ব্যাপারে নো মার্সি। ডাক ও টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে ৯০ দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করাই প্রথম চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছেন তিনি। এছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া নতুন প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ নিজ দফতরে এসে সকলের সঙ্গে পরিচিত হন। এ সময় উপস্থিত মিডিয়ার সামনে তিনি বলেন, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব। বৃহস্পতিবার সকালে নবনিযুক্ত তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীই নিজ নিজ দফতরে আসেন।

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় ইস্কাটনে অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আসেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মানব পাচার বন্ধই আমার প্রথম চ্যালেঞ্জ। সাগর পথে অবৈধভাবে বিভিন্ন দেশে মানবপাচার বন্ধ করতে কাজ করব। আমার একার পক্ষে এটা বন্ধ করা সম্ভব না। তাই এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা চাই।

নতুন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য অন্যতম বড় বাজার হওয়ার পরও কেন দেশটিতে নারী শ্রমিক কম গেল বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরপর সে দেশে আরও বেশি নারী শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগ নেব। তিনি জানান, তিনি সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বেশি সংখ্যক বাংলাদেশী শ্রমিক পাঠানো ওপর গুরুত্ব দেবেন। এ সময় দেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঠিক সময় অফিসে আসতে হবে। ৯টা হলে ৯টায়, ১০টায় অফিস হলে ১০টায়ই আসতে হবে। না হলে আমি নিজে হাজিরা খাতায় লালকালির দাগ দেব। এ মন্ত্রণালয়ের সবকিছু আমার নখদর্পণে আছে। আশা করি, কেউ আমাকে মিসগাইড করবেন না, বলেন মন্ত্রী।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে ৯০ দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করাই প্রথম চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছেন এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি যেন কোনভাবে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য নিজের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আসেন তারানা হালিম। দায়িত্ব বুঝে নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নতুন এই প্রতিমন্ত্রী। পাঁচটি বেসরকারী এবং রাষ্ট্রায়ত্ত একটি টেলিকম অপারেটর কোম্পানি নিয়ে কাজ করা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের নতুন প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, ঘুষের ব্যাপারে নো মার্সি।

দায়িত্ব বুঝে নিয়ে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে কোন উপহার প্রবেশ করতে পারবে না। বড়জোড় কেউ ফুল নিয়ে আসতে পারেন। তবে বাসায় কোন প্রাইভেট কোম্পানিও যেন ফুল নিয়ে যেতে না পারে! তিনি নিজে ঘুষ নেন না। তার নাম ভাঙিয়ে যেন কেউ অন্যায়ের সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেন তারানা হালিম। এ বিষয়ে প্রমাণ পেলে সরাসরি থানায় দেবেন, বলেন প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। অবৈধ ভিওআইপির বিরুদ্ধে কঠিন ও কঠোরতম পদক্ষেপ নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন নতুন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা যেন একটিও না হতে পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, আমি যেন বলতে পারি, এই মন্ত্রণালয় সফল, আত্মনিবেদিত এবং সৎ। নিজে ঘুষ নেন না জানিয়ে নতুন এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি ঘুষ নিই না। ঘুষ দেইও না। ঘুষের বেলায় কোন মাফ নেই।