১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুক্তরাষ্ট্র কিউবা ॥ পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক

  • পাঁচ দশকব্যাপী বৈরিতার অবসান

সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে অর্ধশতকেরও বেশি সময়ের শীতল যুদ্ধ এবং দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতার আকস্মিক অথচ শান্তিপূর্ণ অবসান ঘটেছে। রবিবার মধ্যরাতের ঠিক পরেই দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক আবার শুরু করার চুক্তি বলবত হলে অনাড়ম্বরভাবে একটি নবযুগের সূচনা এবং উভয় দেশের কূটনৈতিক মিশনকে স্বার্থসম্পর্কিত শাখা থেকে দূতাবাস পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ও হাভানার ঘড়িতে রাত ১২টা বেজে উঠলে পাঁচ দশক আগে প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির আমেরিকায় সোভিয়েট প্রভাব বিস্তার প্রশ্নে তারুণ্যপূর্ণ বিপ্লবী ফিদেল ক্যাস্ট্রোর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ার পর থেকে কিউবার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের যে কঠোর নীতিভঙ্গি গড়ে ওঠে তার অবসান ঘোষিত হয়। খবর ওয়েবসাইট ও এএফপির।

সোমবার প্রত্যুষে কোন আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীরা পররাষ্ট্র দফতরের হলঘরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এমন দেশগুলোর পাশাপাশি কিউবার পতাকা টাঙ্গিয়ে দেয়। সোমবার পরে এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনকে প্রকাশ্যে স্মরণীয় করে রাখা হবে, যখন কিউবান কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটনে তাদের দূতাবাস উদ্বোধন করবেন এবং সেখানে ১৯৬১তে দুই দেশের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর প্রথমবার কিউবার নীল, লাল ও সাদা তারকাখচিত পতাকা শোভা পাবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এরপর তার কিউবান প্রতিপক্ষ ব্রুনো রডরিগজের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন এবং একটি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ভাষণ দেবেন। হাভানায় মার্কিন স্বার্থসম্পর্কিত শাখা সোমবার এক লিখিত বিবৃতির মধ্য দিয়ে তাদের মিশনকে দূতাবাস পর্যায়ে উন্নীত করার ঘোষণা প্রকাশের পরিকল্পনা করছে। তবে আগস্টে জন কেরির সফরকালে আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলনের আগে মিশনে যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ও ডোরাকাটা পতাকা উড্ডীন হবে না। পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এই সাফল্য দু’টি ঘোর শত্রু দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক বাঁক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে উভয় পক্ষ তাদের শত্রুতা ভুলে সমতার ভিত্তিতে একত্রে কাজ করতে সম্মত হওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে দ্রুততম গতিতে। বিচ্ছিন্নকরণ এবং বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত কম্যুনিস্ট কিউবায় পরিবর্তন আনয়নের প্রচেষ্টা চালানোর নীতির ব্যর্থতা এবং হাভানার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা দেশটিকে গণতন্ত্র ও সমৃদ্ধির পথে পরিচালিত করার উত্তম পথÑ ওয়াশিংটন এই বিষয়টি মেনে নেয়ার পরই এই পরিবর্তন সাধিত হলো। ১৭ ডিসেম্বর ওবামা ও তাঁর কিউবান প্রতিপক্ষ রাউল ক্যাস্ট্রো তাদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা অবসানে এবং সম্পর্ককে পূর্ণ স্বাভাবিকীকরণের পথে নিয়ে যেতে একমত হলে এই পালাবদল সম্ভবপর হয়েছে। হাভানা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা শেষে মাত্র ৭ মাসের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্প্রতিষ্ঠিত হলো। তবে উভয় দেশের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে যে, স্বাভাবিক সম্পর্ক সবে শুরু হয়েছে এবং কয়েক দশকব্যাপী তীব্র বিদ্বেষের সম্পর্ক দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না। পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জন কিরবি শুক্রবার স্বীকার করেন যে, অনেক প্রশ্ন আছে ‘যে ব্যাপারে আমরা অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করি না।’ এর একটি হলো মানবাধিকার। ওয়াশিংটন ক্যারিবীয় দ্বীপ দেশটিতে মতপ্রকাশ, ধর্ম এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর চাপ দিয়ে আসছে। আরেকটি কঠিন প্রশ্ন হলো ১৯৫৯ সালে কিউবা বিপ্লবের সময় আটক আমেরিকান সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ। যুক্তরাষ্ট্রে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ৭শ’ থেকে ৮শ’ কোটি ডলারের প্রায় ৫৯১১টি দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। হাভানার পক্ষ থেকে রাউল ক্যাস্ট্রো ওবামার প্রতি তাঁর নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে ১৯৬২ থেকে বলবত অর্থনৈতিক নিষেধজ্ঞা ‘বাতিল’ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন সেদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন পলাতক আসামির প্রত্যার্পণ নিশ্চিত করতে চায়। এই অপরাধী তালিকার শীর্ষে আছে ভয়ঙ্কর প্রকৃতির ব্ল্যাক প্যান্থার বিপ্লবী গোষ্ঠীর সাবেক সদস্য জোয়ান চেসিমার্ডের নাম, ১৯৭৩-এ নিউজার্সির একজন পুলিশ সদস্যকে হত্যার দায়ে যাকে খোঁজা হচ্ছে। ১৯৮৪ থেকে সে কিউবায় লুকিয়ে আছে।