২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যেমন হলো ঈদের চলচ্চিত্র

সাজু আহমেদ ॥ ঢাকাই চলচ্চিত্রের বাজারে মন্দার হাওয়া বইছে। এ দেশের চলচ্চিত্রের সময়টা খুব ভাল যাচ্ছে না অনেক বছর ধরেই। রূপালী পর্দার মোহ নিয়ে দর্শকরা আজ হলবিমুখ। তবে ঈদকে ঘিরে কিছুটা হলেও চলচ্চিত্র ব্যবসায় আশার আলো খুঁজে পান সংশ্লিষ্টরা। একযুগ আগেও ঈদকে কেন্দ্র করে এক সময় মুক্তি পেত প্রায় ডজনখানেক চলচ্চিত্র। সেই সংখ্যা এখন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র কয়েকটিতে। এবার ঈদেও সেই সংখ্যার পরিবর্তন হয়নি। প্রথমে চারটির কথা শোনা গেলেও পরে অবশ্য তিনটি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়।

এবারের ঈদে অন্যতম আলোচিত চলচ্চিত্র ‘পদ্ম পাতার জল’। তন্ময় তানসেন পরিচালিত এ চলচ্চিত্রে প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমন ও বিদ্যা সিনহা মীম। অভিনেতা ইমন বড়পর্দায় বেশ কয়েক বছর যাবত। তবে এখনও তার অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে। অন্যদিকে মীম সম্প্রতি বড়পর্দায় নিয়মিত হলেও তার অবস্থানটাও নির্ভরযোগ্য নয়। তাই এবারে ব্যবসার দৌড়ে এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে আয়ের হিসেবের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন সংশ্লিষ্টরা। প্রত্যাশা অনুযায়ী সফলতা পেয়েছেন তারা। চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর গত তিন দিনে অনেকটাই প্রশংসিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। চলচ্চিত্রের প্রচারের কারণে অনেকেরই আগ্রহ ছিল এই চলচ্চিত্র নিয়ে। বিফল হননি দর্শকরা। চলচ্চিত্রের গল্পের ভিন্নতার কথা বলেছিলেন পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা। দর্শকরা চলচ্চিত্রটি দেখে তার সত্যতা পেয়েছেন। হলগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা না গেলেও দর্শকরা চলচ্চিত্রের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে চলচ্চিত্রের কাহিনী সংলাপ, চিত্রগ্রহণ সবই ছিল মনোমুগ্ধকর। তবে সবকিছু ছাপিয়ে গেছে এ চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা সাহা মিমের অভিনয়। এর আগে ‘আমার আছে জল’ চলচ্চিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে না পারলেও ‘পদ্ম পাতার জল’ চলচ্চিত্রে নিজেকে ছাপিয়ে গেছেন তিনি। অভিনেতা ইমনও ভাল করেছেন। বরাবরের মতো শক্তিমান অভিনেতা শহিদুজ্জামান সেলিম অনেকটাই চমক দেখিয়েছেন তার চরিত্রে। তবে চলচ্চিত্রে খলনায়ক হিসেবে অমিত হাসান মানানসই মনে হলেও তার চরিত্রের ব্যাপ্তি অনেকটাই কম বলে মনে হয়েছে। এ চরিত্রটি আরও লম্বা হলে চলচ্চিত্রটি আরও সমৃদ্ধ হতো। এছাড়া শহিদুজ্জামান সেলিমের দৃশ্যগুলোতে কোন কোন সময় আবহসঙ্গীত বেশি কানে লেগেছে। এছাড়া তারিক আনাম খান, নিমা রহমান অনেকটাই প্রাণবন্ত ছিলেন তাদের চরিত্রে। তবে পার্শ্ব চরিত্রগুলোকে অনেকটাই ইচ্ছে করে খাটো করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। তব কিছুর উর্ধে পরিচালকের গল্প নির্বাচন। এক্ষেত্রে কাহিনীকার লতিফুল ইসলাম শিবলী প্রশংসার দাবি রাখেন। দেশের বরেণ্য এই গীতিকার গান রচনার মতোই চলচ্চিত্রের গল্প লেখার ক্ষেত্রের মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছে। গল্পের চিত্রনাট্য অনুযায়ী চিত্রগ্রহণেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন ভাইকিংস ব্যান্ডের ভোকালিস্ট, পরিচালক তন্ময় তানসেন। সব মিলে এবারের ঈদের একটি সফল চলচ্চিত্র ‘পদ্ম পাতার জল’। অন্তত দর্শকরা তাই মনে করছেন। এরকম চলচ্চিত্রই দেখতে চান দর্শকরা। প্রযোজনা সংস্থা ট্রাইপড স্টুডিওর ব্যানারে নির্মিত প্রেমের কাহিনীনির্ভর এ চলচ্চিত্রটি এবার ঈদ-উল-ফিতরে দেশের ৩৫-৪০টি হলে মুক্তি পায়। শেখ আসিফুর রহমান, রাজীব রায়হান ও রাজু আহমেদ প্রযোজিত ‘পদ্ম পাতার জল’ চলচ্চিত্রের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেনÑ ইমন, বিদ্যা সিনহা সাহা মিম, তারিক আনাম খান, নিমা রহমান, অমিত হাসানসহ অনেকেই। চলচ্চিত্রের কাহিনী লিখেছেন লতিফুল ইসলাম শিবলী, চিত্রগ্রহণে মাহফুজুর রহমান খান, কোরিওগ্রাফার মাসুম বাবুল। চলচ্চিত্রের কার্যনির্বাহী প্রযোজক গাজী মাহবুব।

এবার ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া অন্য দুটি চলচ্চিত্র হলো ‘লাভ ম্যারেজ’ এবং ‘অগ্নি-টু’। চলচ্চিত্র দুটির মধ্যে অগ্নি-২’ ভাল ব্যবসা করেছে বলে জানা গেছে। ঈদের চলচ্চিত্রগুলো সফল হলেও দেশব্যাপী দর্শকরা এগুলো উপভোগ করতে পারেননি। কারণ সংশ্লিষ্টদের সবার হতাশার জায়গা হল সঙ্কট। দেশে প্রায় ৩২০টি হল রয়েছে, যার সংখ্যা প্রতিনিয়তই হ্রাস পাচ্ছে। এরই মধ্যে চাইলেও অনেক চলচ্চিত্র মুক্তি দিতে পারছেন না প্রযোজকরা। চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নতির জন্য এখন জরুরী হল বাড়ানো। পাশাপাশি বর্তমান হলগুলোর পরিবেশ উন্নতি প্রয়োজন। হল না থাকলে দেশের চলচ্চিত্রের নিকট ভবিষ্যত নিয়ে যতই আশাবাদী মন্তব্য প্রকাশ পাক, সেগুলো স্বপ্নই থেকে যাবে। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। পাশাপাশি পেশাদার প্রযোজকের অভাবে ভুগছে এখন এফডিসি। তাই হলের পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির প্রয়োজন এখন পেশাদার প্রযোজক। সবমিলিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পকে বাঁচাতে সবাইকে সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা। তবেই হয়ত আবারও ঢাকাই চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরে আসবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন মুসলমান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদে পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র দেখার ঐতিহ্য বহু দিনের। ঐতিহ্য শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রবাসী বাঙালীরাও এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে চায় না। কোন এক সময়ে যখন দেশের চলচ্চিত্রে চলছিল অশ্লীলতার অবাধ বাণিজ্য তখনও নিরূপায় দর্শক অন্তত ঈদের সময় প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখেছেন।

গত কয়েক বছরে দেখা গেছে ঈদে প্রেক্ষাগৃহগুলো কিছুটা হলেও পূর্ণ থেকেছে। গতানুগতিক চলচ্চিত্রের প্রতি দর্শকের অনীহা বেশি। সে কারণে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের সদিচ্ছা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে এবার ঈদে ব্যতিক্রমী কিছু চলচ্চিত্র দর্শকদের উপহার দিয়েছেন।