১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশের ক্ষতি করার ক্ষমতা এখন আর কারও নেই ॥ প্রধানমন্ত্রী

দেশের ক্ষতি করার ক্ষমতা এখন আর কারও নেই ॥ প্রধানমন্ত্রী
  • ঈদের দিন শুভেচ্ছা বিনিময়

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনের হুমকির জবাবে বলেছেন, দেশের ক্ষতি করার মতো ক্ষমতা এখন আর কারো নেই, আর ভবিষ্যতেও হবে না। জনগণ সরকারের সঙ্গে থাকলে কেউই দেশের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ জনগণই হচ্ছে প্রধান শক্তি। আর জনগণের শক্তিতে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগ।

শনিবার ঈদের দিন সকালে গণভবনে দলের নেতা-কর্মী, পেশাজীবী, বিচারক ও বিদেশী কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে বলেন, সরকারের কাজে গতি আনতেই মন্ত্রিসভায় রদবদল করা হয়েছে। তাছাড়া সংসদীয় গণতন্ত্রে মন্ত্রিসভায় রদবদল একটি স্বাভাবিক বিষয় এবং যে কোন সময় তা করা হতে পারে।

বিএনপি-জামায়াত জোটের ধ্বংসাত্মক কর্মকা-ের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার নির্দেশে বিএনপি-জামায়াত জোট তাদের ৯২ দিনের হরতাল-অবরোধে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল। এটা সত্য যে, তারা দেশের ক্ষতি করেছে। তারা পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে। মানুষ পুড়িয়ে মারার মতো এমন ঘৃণ্য ও নৃশংস কর্মকা- আর কিছু হতে পারে না। তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকা-ের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে চলে যায়। তাদের ৩ মাসের অধিক সময়ের নির্মম সহিংসতায় অনেকে তাদের আপনজন ও প্রিয়জনদের হারিয়েছেন। এটা খুবই দুঃখজনক। তবে দেশকে পিছনের দিকে ঠেলে দেয়ার মতো কোনরকম ক্ষতি তারা করতে পারেনি।

সৈয়দ আশরাফের দফতর পরিবর্তনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে দফতর বন্টন সরকার প্রধানের এখতিয়ার। আমরা সময়ে সময়ে এই ধরনের পরিবর্তন আনতে পারি। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় রদবদলের কারণে কর্মকা-ে গতিশীলতা সঞ্চার করেছে এবং জনগণ বিষয়টিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এটি একটি সাধারণ বিষয়। সব দেশেই সবসময় এমনটি ঘটে। এ বিষয়ে কোন বিরূপ মন্তব্য করার সুযোগ নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতা লাভের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন সরকার প্রধান ছিলেন, তখন বঙ্গবন্ধু দলের সভাপতির দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার পর মন্ত্রী পদমর্যাদায় কামরুজ্জানকে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, কামরুজ্জামানকে তখন মন্ত্রীর পদমর্যাদায় দলের সভাপতি করা হয়েছিল এবং তিনি দল পরিচালনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও স্মরণ করেন যে, বঙ্গবন্ধু ১৯৫৭ সালে মন্ত্রিসভা ত্যাগ করেছিলেন এবং দল গঠনের জন্য দলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। এটি ছিল দেশে একটি অনন্য ঘটনা। তিনি হচ্ছে একমাত্র ব্যক্তি যিনি দল পুনর্গঠনের মন্ত্রিত্ব ছেড়েছিলেন। তিনি বলেন, দলে সবসময় এ ধরনের ঘটনা ঘটে। তাই, আমি মনে করি এ বিষয়ে অনেক কিছু লেখার কোন সুযোগ নেই।

দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যাতে ঘরমুুখী মানুষ তাদের গ্রামের বাড়ি গিয়ে ঈদ উদযাপন করতে পারে। এবার ‘মলম পার্টির’ কোন উৎপাত ছিল না। কারণ আমরা তা দমন করেছি। তিনি বলেন, বর্ষাকালে সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশে যানবাহনের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনগণের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে। আমরা চাই তাদের অর্থনৈতিক সামর্থ্য আরও বৃদ্ধি পাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত তাদের আন্দোলনের সময় দাঙ্গা-হাঙ্গামা না করলে মানুষ আরও স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারত। বিএনপি-জামায়াত তাদের ৯২ দিনের আন্দোলনে ২ হাজার যানবাহন জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা রেলের নতুন বগি ও ইঞ্জিন পুড়িয়েছে। এমনকি লঞ্চও তাদের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি। তিনি বলেন, সব বাস ও ট্রেন চলাচল করতে পারলে মানুষ আরও স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি যেতে পারত। এরপরও মানুষ যাতে নির্বিঘেœ বাড়ি যেতে এবং ফিরতে পারে এ লক্ষ্যে ব্যাপক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ এবার উৎসবমুখর পরিবেশে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরাপদে ঈদ উদযাপন করেছে। তারা রাত ১/২টা পর্যন্ত কেনাকাটা করে সেহরি খেয়েছেন এবং আল্লাহর রহমতে কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। কেবল ঢাকায় নয়, সারা দেশেই সবাই কেনাকাটা করেছেন। তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। আমি তাদের সকলকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। মহান নেতা একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে, তারা জনগণের কল্যাণের লক্ষ্যে কাজ করে। এতে প্রমাণিত হয় যে, সদিচ্ছা থাকলে সুফল লাভ করা যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন চমৎকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কারণে সারাবিশ্বে একটি রোল মডেল হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মোকাবেলার ক্ষেত্রেও দেশ সামর্থ্য দেখিয়েছে। প্রবৃদ্ধি অর্জন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বের কাছে সমাদৃত। আমি এটাই চাই, মানুষ শান্তিতে থাকবে, মানুষের জীবনযাত্রা উন্নত হবে। দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে দেশবাসীর দোয়া ও আল্লাহর রহমত কামনা করে তিনি বলেন, আমি সকলের দেয়া চাই যাতে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে এগিয়ে যেতে পারে।

ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৯টায় গণভবনের গেট সকলের জন্য খুলে দেয়া হয়। ঈদের নামাজ আদায় করার পরপরই সর্বস্তরের মানুষ আসতে শুরু করেন গণভবনে। তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেন। এ উপলক্ষে গণভবনের বিরাট প্রাঙ্গণ চমৎকারভাবে সাজানো হয়। প্রথমে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।