২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত সারাদেশ

  • এরকম বৃষ্টি থাকবে আরও দুদিন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সারাদেশে কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশ। বৃষ্টিতে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে দেশে অনেক নিম্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বীজতলার। এছাড়া অনেক এলাকার উঠতি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে কাঁচাবাজারের। এছাড়াও প্লাবিত হয়ে ক্ষেত-খামার ও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। বৃষ্টির কারণে সারাদেশে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। তীব্রতর হচ্ছে নদীর ভাঙ্গন। এদিনে রাজধানীতে বৃষ্টির কারণে ব্যাপক দুর্ভোগ বাড়ছে। টানা কয়েদিনের বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসে চট্টগ্রামে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে সারাদেশের ওপর চলছে অবিরাম বর্ষণ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে দেশের ওপর মৌসুমী বায়ু অধিক সক্রিয় থাকার কারণে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তারা বলেন, এ সময় সাধারণ বৃষ্টিপাতের সময়। আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণে পড়েছে। এ আকাশে মেঘের ঘনঘটা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এ অবস্থা আরও কয়েকদিন চলতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয় অফিস। এক সঙ্গে তারা বলছে অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলের কারণে বন্যার পদধ্বনির আশঙ্কাও করছেন তারা।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে এ ধরনের বৃষ্টিপাত দুদিন ধরে অব্যাহত থাকবে। এরপর কিছু কমলে এ মাসের শেষের দিকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে। ঈদের আগের দিন থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হলেও ঈদের দিন থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। কোথাও কোথাও তা মুষলধারে শুরু হয়েছে। ঈদের দিন সকাল থেকে রবিবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ৯০ মিলিমিটার। রবিবার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ঢাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩৩ মিলিমিটার। এছাড়া সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ মিলিমিটার। এছাড়া সোমবার সবচেয়ে বৃষ্টিপাত হয়েছে খেপুপাড়ায় ১১৯ মিলিমিটার।

এছাড়া সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ময়মনসিংহে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ মিলিমিটার, টাঙ্গাইলে ১০, ফরিদপুরে ২৩, মাদারীপুরে ৫, চট্টগ্রামে ৩১, সন্দীপে ৩৩, সীতাকু-ে ১৩, রাঙ্গামাটিতে ৭, চাঁদপুরে ১৬, হাতিয়ায়, ২৬, কক্সবাজারে ১৩, কুতুবদিয়ায় ১৯, টেকনাফে ১০, খুলনায় ৬৩, মংলায় ৫৭, সাতক্ষীরায় ৪৫, যশোরে ২২, চুয়াডাঙ্গায় ২৪, বরিশালে ১২, পটুয়াখালীতে ৩৪ এবং খেপুপাড়ায় ১১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শাহ আলম জানিয়েছেন মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকলে বৃষ্টির ধরন এমনই হয়। এর সঙ্গে আছে নিম্নচাপ। এ কারণে ঢাকাতেও বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। তিনি জানান, আজকের পর চট্টগ্রামে বৃষ্টি কিছুটা কমে আসবে। ঢাকায় আগামীকাল বুধবার পরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে আসলেও পরে মাত্রা আরও বাড়তে পারে। তাই বৃষ্টি থেকে নগরবাসীর মুক্তি মিলবে না সহজে।

সোমবারে থেমে থেমে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানীতেও দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। ঈদের ছুটি শেষে সোমবার প্রথম অফিস খুলেছে। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ভিজেপুড়ে রাজধানীতে ফিরতে দেখ গেছে মানুষকে। বৃষ্টির কারণে ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসেরও অফিসে উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। এদিকে অবিরাম বর্ষণের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অনেক রাস্তাঘাট, ফুটপাথসহ নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ু ভারতের রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বিহার পঞ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তরপূর্ব দিকের আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। দেশের ওপর অধিক সক্রিয় উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। এ কারণে আজ ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।