২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মালয়েশিয়ায় ৫ লাখ লোক নিতে এ সপ্তাহেই ঢাকায় আলোচনা

ফিরোজ মান্না ॥ মালয়েশিয়ায় ৫ লাখ কর্মী নিয়োগের বিষয় নিয়ে আগামী সপ্তাহেই মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় বেসরকারী পর্যায়ে কর্মী নিয়োগে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ কৃষি, নির্মাণ, ফার্নিচার কারখানাসহ বেশ কয়েকটি সেক্টরে কর্মী নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশী ৫ লাখ কর্মী চাকরি নিয়ে দেশটিতে যেতে পারবেন। একই সঙ্গে জিটুজি পদ্ধতিতেও জনশক্তি রফতানি অব্যাহত থাকবে।

সূত্র জানিয়েছে, বিদায়ী প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে সম্প্রতি একটি প্রতিনিধি দল মালয়েশিয়া সফরের পর এমন তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি দায়িত্ব নিয়েই মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের ওপর জোর দেন। কেউ যেন আর সাগরপথে বা অবৈধ উপায়ে মালয়েশিয়া না যান; এ নিয়েও তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এর পর তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। হাইকমিশন দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ প্রতিনিধি দল পাঠানোর কথা জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সরকার টু সরকার-এর মতোই বেসরকারীভাবেও কম খরচেই কর্মীরা মালয়েশিয়া যেতে পারবেন। ডাটাবেজ পদ্ধতিতে নিবন্ধিত কর্মী থেকেই কর্মী নিয়োগ করবে দেশটির কর্তৃপক্ষ। জনশক্তি রফতানিকারকরাও নিবন্ধনের বাইরে থেকে কোন কর্মী পাঠাতে পারবেন না। নিবন্ধিত কর্মীদের মধ্য থেকে কর্মী নিয়োগ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বচ্ছতা। এটা হলে কোন কোন অসাধু আদম ব্যবসায়ী সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নিতে পারবে না। মালয়েশিয়া কর্মী নিয়োগে সোর্স কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশকে ঘোষণা দিয়েছে। কর্মী নিয়োগ করতে হলে বাংলাদেশ থেকে তাদের কর্মী নিতে হবে। বর্তমানে ১৫ টি দেশ থেকে মালয়েশিয়া কর্মী নিয়োগ করছে। এই ১৫ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথমস্থানেই রয়েছে। বাংলাদেশের কর্মীদের কর্মদক্ষতা, নিষ্ঠা, পরিশ্রম, সততা রয়েছে। বাংলাদেশের কর্মীদের মধ্যে এমন গুণ থাকায় মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে কয়েক বছরে ১৫ লাখ কর্মী নিয়োগ দেবে। গোটা দুনিয়াতেই বাংলাদেশী কর্মীদের সুনাম রয়েছে। ১৯৭৬ সালে ২ হাজার ৭২৫ জনকে নিয়োগের মাধ্যমে জনশক্তি রফতানি যাত্রা শুরু। বর্তমানে বাংলাদেশের জনশক্তির বাজার রয়েছে ১৬২টি দেশে।

মালয়েশিয়া সরকার অবৈধ কর্মীদের বৈধতা দিয়েছে। সবশেষ যে বৈধতা দেয়া হয়েছিল সেখানে নানা কারণে বাদ যাওয়া চৌষট্টি হাজার কর্মীকেও বৈধতা দেবে বলে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নতুন করে যেসব কর্মী অবৈধ হয়ে পড়েছে তাদের বৈধতার জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরও আলোচনা করা হবে। এসব অবৈধ কর্মীকেও বৈধ করার জন্য চেষ্টা চলছে। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দল ঢাকায় এলে বিষয়টি আলোচনায় স্থান পাবে।

জানা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ খাত জনশক্তি রফতানির বাজারে চরম মন্দা অবস্থার মধ্যে এটি একটি খুশির খবর হিসেবে দেখছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সাগরপথে আদম পাচারের ঘটনার কারণে এই খাতটি এখন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছিল। এ বছর সরকার ৭ লাখের বেশি কর্মীকে বিদেশে চাকরি দিয়ে পাঠানোর টার্গেট নিয়েছে। সেই টার্গেট পূরণে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের কর্মী নিয়োগের ঘোষণাটি আশা জাগিয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবের মাধ্যমে এই টার্গেট পূরণ করার কথা জানিয়েছিল। সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় ৭ লাখের বেশি কর্মী নিয়োগ করা সম্ভব হবে। মন্ত্রণালয়ের এই টার্গেট দুই দেশের মাধ্যমে পূরণ করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।