২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কর্মক্ষেত্রে ফেরা শুরু ঘরমুখো মানুষের ॥ প্রথম কর্মদিবসে অফিসপাড়া জমে ওঠেনি

  • সড়কপথে ঘরে ফেরার শুরুটা ভালই ছিল, ঈদের দুদিন আগে থেকে বেড়ে যায় দুর্ভোগ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঈদ গেল। মাটির টান যেন কিছুতেই যাচ্ছে না। রয়েছে উৎসবের আমেজ। সেই সঙ্গে সামাজিক বন্ধন আর ভালবাসার পিছুটান তো আছেই। কিন্তু নিরুপায় সবাই। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কর্মক্ষেত্রে ফেরা শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের। তবুও সোমবার প্রথম কর্মদিবসে অফিসপাড়া খুব একটা জমে ওঠেনি। রাজধানী এখনও শান্ত জনপদ। যানজট, কোলাহল কিছুই নেই। অনেক ক্লান্তি শেষে যেন ঘুমিয়েছে গোটা শহর। কতদিন থাকবে এভাবে? খুব বেশি হলে এক সপ্তাহ। এর মধ্যেই আবারও স্বরূপে ফিরবে ঢাকা। উৎসব শেষে নৌ-সড়ক ও রেলপথে অনেকটা নির্বিঘেœ ফিরছেন সবাই। তবে, সড়কপথে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। টার্মিনালগুলোতে এখনও ঘরেফেরা মানুষের চাপ আছেই। এদিকে ঈদের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ-চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যানজটের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে ঘরমুখো মানুষকে। তিন ঘণ্টার যাত্রায় সময় লেগেছে অন্তত ১২/১৬ ঘণ্টা। ঈদ প্রস্তুতি সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়াই জনদুর্ভোগের মূল কারণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ঈদোৎসবকে কেন্দ্র করে ১৬ জুলাই অফিস শেষে ছুটি শুরু। অর্থাৎ এদিন সকাল থেকে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে টার্মিনালগুলোতে। রাতে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বেশিরভাগ ট্রেন ছেড়েছে এক থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে। এরমধ্যে নেত্রকোনাগামী হাওড় এক্সপ্রেস ১১টা ৫০ মিনিটের পরিবর্তে একটায় স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। ঈদ উপলক্ষে ট্রেনগুলোতে নতুন বগি যুক্ত হলেও এতে নম্বর-প্লেট না থাকায় আসন পেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। অনেকে টিকেট কেটেও আসনে বসতে পারেনি। এদিন রাতে স্টেশন থেকে যত ট্রেন ছেড়েছে প্রত্যেকটি ছিল উপচেপড়া যাত্রীর ভিড়। ছাদে, বাম্পারে এমনকি ইঞ্জিনেও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। মই দিয়ে ছাদে মানুষ তোলা হয়েছে। অর্থাৎ পুলিশের সামনেই হয়েছে মইবাণিজ্য। যদিও এর কোনকিছুই হবার কথা ছিল না। জয়দেবপুর রেলস্টেশন পার হবার পর পরই হাওড় এক্সপ্রেসের জেনারেটর বিকল হয়ে যায়। রাতভর দুর্ভোগ পোহায় যাত্রীরা।

সড়কপথে ঘরে ফেরার শুরুটা ভালই ছিল। ঈদের দু’দিন আগে থেকেই সবকিছু যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গুরুত্বপূর্ণ সব মহাসড়ক যানজটে স্থবির ছিল। যানজনের বিষফোঁড়া হিসেবে খ্যাত ‘চন্দ্রা’ এলাকাটুকু মানুষকে নাজেহাল করে ছেড়েছে। ঢাকা থেকে প্রবেশ ও বের হওয়ার ১৩টি পয়েন্টে যানবাহন ও যানজট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি। ঢাকা-চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চার লেনের কাজ এখনও শেষ হয়নি। তবুও বেশিরভাগ রাস্তার কাজ শেষ। এমন বাস্তবতায় এবারের ঈদে সবার প্রত্যাশা ছিল দুর্ভোগ ছাড়াই ঘরে ফিরবে মানুষ। আশাবাদী ছিলেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও। শেষ পর্যন্ত সড়ক-মহাসড়কে প্রয়োজনীয় পুলিশী তৎপরতারও অভাব, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সিটি সার্ভিসগুলোর দূরপাল্লার রুটে অবাধ চলাচল, পণ্যবাহী পরিবহনের চলাচল, পণ্যবাহী বাহনে যাত্রী পরিবহন, অযান্ত্রিক যানবাহনের দৌরাত্ম্য, রাস্তার পাশে পরিবহন স্ট্যান্ড ও হাটবাজারসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়াসহ সড়ক দুর্ঘটনাই সঙ্কটের মূল কারণ। অনেকে বলছেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাস্তা মেরামতের ত্রুটিবিদ্যুতিও ছিল।

মহাখালী আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম জনকণ্ঠকে বলেন, ঈদের আগে অতিবৃষ্টির কারণে সাময়িক মেরামত করা বিভিন্ন রুটে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, আশুলিয়া-বাইপাইল সড়কে রাস্তা নষ্ট হয়ে বৃষ্টির পানি জমে। এ কারণে যানবাহনে ধীরগতি ছিল। ফলে যানজটের ভোগান্তি হয়েছে। তিনি বলেন, টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রার রাস্তাটি সিঙ্গেল লেন হওয়ায় সব গাড়ি স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারেনি। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে বাড়তি যানবাহনের চাপ তো ছিলই। দেওহাটা ব্রিজটি চাপা হওয়ায় মুখোমুখি দুটি গাড়ি চলাচলে সমস্যা হয়। এতেও যানজট বাড়ে।